📄 ৩. আলিকো দাঙ্গোতে
জনাব আলিকো দাঙ্গোতে বাস করেন আফ্রিকায়। বিরাট ধনী এই ব্যক্তিটির মোট সম্পদের পরিমাণ কুড়ি বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে আসা আলিকো এখন আফ্রিকার সর্বোচ্চ সম্পদশালী উদ্যোক্তা।
তিনি আফ্রিকার শীর্ষ ধনী। ছোটবেলা থেকেই তার ছিল ব্যবসায়ী মন। তিনি বলেন, 'যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম, স্কুলে যাওয়ার সময় এক বাক্স ক্যান্ডি কিনে নিতাম। স্কুলে গিয়ে এগুলো বিক্রি করতাম। আর টাকা কামাতাম! তখন থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল আমার।'
আলীকো দাঙ্গোতে যেন সত্যিই সেই মানুষদের একজন, যাদের হাতে সোনা ফলে। যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সফল হয়েছেন। অন্যরা যেখানে 'রিস্ক-ফেইলিওর' হিসাব করে, সেখানে তিনি সফলতা দেখতে পান। অন্যেরা যখন হাল ছেড়ে দেয়, তিনি সেখানে ঝুঁকি নেন। ঝুঁকি নিতে মোটেও ভয় পান না তিনি।
'২০০৮ সালে আমি দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী কৃষ্ণাঙ্গ হয়েছি। এই সাফল্য একদিনে আসেনি। এর জন্য তিরিশ বছর কাজ করতে হয়েছে। আজকালকার তরুণরাও আমার মত হতে চায়। কিন্তু তারা পরিশ্রম করতে চায় না। রাতারাতি সফলতা চায়। এভাবে হয় না। ব্যবসায় সফল হতে হলে, ছোট থেকেই শুরু করতে হয়। তবে স্বপ্ন দেখতে হয় বড় বড়। জিদ থাকলে সফল হবেন, এটাই সকল উদ্যোগের মূলকথা।'—আলীকো দাঙ্গোতে।
📄 ৪. আযিম রিযভী
মিনম্যাক্স রিয়েলিটি ইনকর্পোরেশন এর কর্ণধার আযিম রিযভী মনে করেন, কর্মচারীদেরকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, 'দৈনিক কয়জন মানুষের পিছনে লেগে সম্ভব? সবার খুঁটিনাটি বিষয়ে তদারকি করা কি সম্ভব?'
সম্ভব নয়। তাই না? আপনি সর্বোচ্চ একজন মানুষের খুঁটিনাটি বিষয় তদারকি করতে পারবেন। কাজেই, বিশ্বস্ত কর্মচারী নিয়োগের বিকল্প নেই। আপনি সবার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এর পরিবর্তে সঠিক মানুষকে কাজে নিয়োগ দিন, তাদের সাথে ঠিকঠাক চুক্তি করে নিন, এরপর তাদেরকে কাজে ছেড়ে দিন। এটাই উন্নত মাত্রার নিয়ন্ত্রণ-কৌশল। মিস্টার রিজভী তার কর্মচারীদেরকেই একেকজন উদ্যোক্তা বানিয়ে ছাড়তেন। এটাই ছিল তার বিজনেস মডেল।
তার জন্ম পাকিস্তানের লাহোরে। কয়েক বছর রিয়েল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পর নিজের কোম্পানি মিনম্যাক্স এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। কিন্তু শুরুটা হয়েছিল আরো আগে। প্রায় পঁচিশ বছর আগে লাহোরে তার প্রথম বাড়িটি বানিয়েছিলেন তিনি। রিজভী বলেন, 'একটি স্বপ্নের বাড়ি মানে আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। আপনার নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করা বা অন্যদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করতে পারাই আমার কাজের প্রধান শক্তি!'
📄 ৫. REDCO এর সিইও জনাব মজিবুর রহমান
"নগণ্য পরিমাণ সম্পদের অধিকারী কিছু মানুষ কী শান্তিতে জীবন কাটায়! এই ব্যাপারটি সবসময় বিস্মিত করে এসেছে আমাকে। এর চেয়েও বেশি বিস্মিত হয়েছি কী দেখে, জানেন? বিরাট বড় ধনকুবের, কিন্তু সে সম্পদ হারিয়ে ফেলার পরও একটুও চিন্তিত নন। যেমন— REDCO এর সিইও জনাব মুজীবুর রহমান। মিথ্যে অভিযোগে একবার জেল খাটতে হয়েছিল তাকে। সেসময় তিনি হারিয়ে বসেন কোটি ডলারের নির্মাণকাজের ব্যবসা। কিন্তু তিনি তা নিয়ে উদ্ভ্রান্ত হয়ে যাননি। এজন্যই শূন্য থেকে শুরু করে আবারও গড়ে তুলতে পেরেছেন হারানো সম্পদ।"
সুদর্শন মুজিবুর রহমান খান ছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতির পদেও ছিলেন তিনি। নির্মাণকাজ ও ব্যাবসায়িক সেক্টরে তার আছে প্রভূত অভিজ্ঞতা। ১৯৮০ সাল থেকেই পাকিস্তান ও কাতারের বাজারে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তিনি।
📄 ৬. ড. ইয়াকুব মির্জা
"ড. ইয়াকুব মির্জাকে এরকমই আরেকজন মহান উদ্যোক্তা বলে মনে করি আমি। তিনি 'আমানাহ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন নর্থ আমেরিকা'র পরিচালক। প্রথম যেদিন তার সাথে দেখা করি, সেদিন তার প্রশান্ত চেহারা আর কণ্ঠ আমাকে অবাক করে দেয়। তিন বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাঁর ঘাড়ে। এই দায়িত্বের বোঝা বয়েও এরকম প্রশান্তি ধরে রেখেছেন তিনি।"
তিনি স্টারলিং ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সিইও ও প্রেসিডেন্ট। একই সাথে তিনি আমানাহ মিউচুয়াল ফান্ড এর ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মাস্টার্স করেছেন, পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস থেকে। 'ফাইভ পিলার্স অফ প্রসপারিটি— এসেনশিয়ালস অফ ফেইথ বেইসড ওয়েলথ বিল্ডিং' শিরোনামে একটি বইয়ের রচয়িতাও তিনি।