📄 দ্বিতীয় বাহু : দক্ষতা বা যোগ্যতা অর্জন
হে যুবক, তোমাদের বলছি..., তোমাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেগুলো তোমাদের খুবই প্রয়োজন। যদি যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্য কর্ম ও সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি বিনিয়োগ। যদি তা অন্বেষণে ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকো, তবেই তা অর্জন করতে পারবে। তাই যত দ্রুত এই চেষ্টা শুরু করবে, তত দ্রুত তোমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হতে থাকবে। এমন কিছু যোগ্যতা হলো :
• যোগাযোগ বিদ্যা।
• ব্যক্তিগত রীতিনীতি-সম্পর্কিত বিদ্যা।
• সময় পরিচালনার জ্ঞান।
• পারস্পরিক আলোচনা করার যোগ্যতা।
• দ্রুত পড়ার যোগ্যতা।
• প্রতিবেদন ও মৌলিক জীবনী লেখার যোগ্যতা।
• উপস্থাপন দক্ষতা।
• বিভিন্ন বিদেশী ভাষা সমানভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা।
বর্তমানে কর্মের বাজারে এই যোগ্যতাগুলো আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। তোমাদের আমি সাহাবায়ে কিরামের একটি যোগ্যতার কথা বলব। দেখো, তাঁরা কতটা দক্ষ ছিলেন। জায়েদ বিন সাবিত বলেন, 'রাসুল আমাকে ইহুদিদের কিতাবের ভাষা শিক্ষা করার আদেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, তখনো কোনো ইহুদি আমাদের কিতাবের প্রতি ইমান আনেনি। অতঃপর অর্ধমাস অতিবাহিত হতে না হতেই আমি তা শিখে ফেললাম। তারপর রাসুল যখন কোনো ইহুদির কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করতেন, আমি লিখে দিতাম। তারা কোনো পত্র দিলে আমি তা পড়ে দিতাম।'
হে যুবক, তোমাকে বলছি, বর্তমান সময়ে বিধর্মীদের কয়টি ভাষা শিখেছ তুমি?! কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছ তাতে?! কতটুকু সময় ব্যয় করেছ তা শেখার জন্য?!
প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, কেন আমরা সময়গুলোকে সেসব মুবারক আমল দ্বারা ব্যস্ত রাখি না, যেগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের কাছে সম্মান বেড়ে যায়! এতে তো দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের সম্মান নিহিত রয়েছে।
বর্তমানে আমরা প্রতিটি মুহূর্তে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ফার্মাসিস্টসহ অনেক ধরনের মুসলিম পেশাজীবী লোকদের প্রয়োজন অনুভব করি। প্রত্যেক সেক্টরে এমন কিছু দায়ির প্রয়োজন, যারা উত্তম চরিত্র ও যথার্থ ইলমের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এই মহান লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য সময়কে পরিপূর্ণ কাজে না লাগাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কেউ এই সেক্টরগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে না। তাই কেন তুমি অবসর সময় ও সুযোগগুলোতে এসব যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না?!
হে যুবক, তোমাদের বলছি..., তোমাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেগুলো তোমাদের খুবই প্রয়োজন। যদি যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্য কর্ম ও সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি বিনিয়োগ। যদি তা অন্বেষণে ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকো, তবেই তা অর্জন করতে পারবে। তাই যত দ্রুত এই চেষ্টা শুরু করবে, তত দ্রুত তোমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হতে থাকবে। এমন কিছু যোগ্যতা হলো :
• যোগাযোগ বিদ্যা।
• ব্যক্তিগত রীতিনীতি-সম্পর্কিত বিদ্যা।
• সময় পরিচালনার জ্ঞান।
• পারস্পরিক আলোচনা করার যোগ্যতা।
• দ্রুত পড়ার যোগ্যতা।
• প্রতিবেদন ও মৌলিক জীবনী লেখার যোগ্যতা।
• উপস্থাপন দক্ষতা।
• বিভিন্ন বিদেশী ভাষা সমানভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা।
বর্তমানে কর্মের বাজারে এই যোগ্যতাগুলো আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। তোমাদের আমি সাহাবায়ে কিরামের একটি যোগ্যতার কথা বলব। দেখো, তাঁরা কতটা দক্ষ ছিলেন। জায়েদ বিন সাবিত বলেন, 'রাসুল আমাকে ইহুদিদের কিতাবের ভাষা শিক্ষা করার আদেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, তখনো কোনো ইহুদি আমাদের কিতাবের প্রতি ইমান আনেনি। অতঃপর অর্ধমাস অতিবাহিত হতে না হতেই আমি তা শিখে ফেললাম। তারপর রাসুল যখন কোনো ইহুদির কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করতেন, আমি লিখে দিতাম। তারা কোনো পত্র দিলে আমি তা পড়ে দিতাম।'
হে যুবক, তোমাকে বলছি, বর্তমান সময়ে বিধর্মীদের কয়টি ভাষা শিখেছ তুমি?! কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছ তাতে?! কতটুকু সময় ব্যয় করেছ তা শেখার জন্য?!
প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, কেন আমরা সময়গুলোকে সেসব মুবারক আমল দ্বারা ব্যস্ত রাখি না, যেগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের কাছে সম্মান বেড়ে যায়! এতে তো দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের সম্মান নিহিত রয়েছে।
বর্তমানে আমরা প্রতিটি মুহূর্তে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ফার্মাসিস্টসহ অনেক ধরনের মুসলিম পেশাজীবী লোকদের প্রয়োজন অনুভব করি। প্রত্যেক সেক্টরে এমন কিছু দায়ির প্রয়োজন, যারা উত্তম চরিত্র ও যথার্থ ইলমের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এই মহান লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য সময়কে পরিপূর্ণ কাজে না লাগাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কেউ এই সেক্টরগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে না। তাই কেন তুমি অবসর সময় ও সুযোগগুলোতে এসব যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না?!
হে যুবক, তোমাদের বলছি..., তোমাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেগুলো তোমাদের খুবই প্রয়োজন। যদি যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্য কর্ম ও সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি বিনিয়োগ। যদি তা অন্বেষণে ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকো, তবেই তা অর্জন করতে পারবে। তাই যত দ্রুত এই চেষ্টা শুরু করবে, তত দ্রুত তোমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হতে থাকবে। এমন কিছু যোগ্যতা হলো :
• যোগাযোগ বিদ্যা।
• ব্যক্তিগত রীতিনীতি-সম্পর্কিত বিদ্যা।
• সময় পরিচালনার জ্ঞান।
• পারস্পরিক আলোচনা করার যোগ্যতা।
• দ্রুত পড়ার যোগ্যতা।
• প্রতিবেদন ও মৌলিক জীবনী লেখার যোগ্যতা।
• উপস্থাপন দক্ষতা।
• বিভিন্ন বিদেশী ভাষা সমানভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা।
বর্তমানে কর্মের বাজারে এই যোগ্যতাগুলো আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। তোমাদের আমি সাহাবায়ে কিরামের একটি যোগ্যতার কথা বলব। দেখো, তাঁরা কতটা দক্ষ ছিলেন। জায়েদ বিন সাবিত বলেন, 'রাসুল আমাকে ইহুদিদের কিতাবের ভাষা শিক্ষা করার আদেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, তখনো কোনো ইহুদি আমাদের কিতাবের প্রতি ইমান আনেনি। অতঃপর অর্ধমাস অতিবাহিত হতে না হতেই আমি তা শিখে ফেললাম। তারপর রাসুল যখন কোনো ইহুদির কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করতেন, আমি লিখে দিতাম। তারা কোনো পত্র দিলে আমি তা পড়ে দিতাম।'
হে যুবক, তোমাকে বলছি, বর্তমান সময়ে বিধর্মীদের কয়টি ভাষা শিখেছ তুমি?! কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছ তাতে?! কতটুকু সময় ব্যয় করেছ তা শেখার জন্য?!
প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, কেন আমরা সময়গুলোকে সেসব মুবারক আমল দ্বারা ব্যস্ত রাখি না, যেগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের কাছে সম্মান বেড়ে যায়! এতে তো দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের সম্মান নিহিত রয়েছে।
বর্তমানে আমরা প্রতিটি মুহূর্তে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ফার্মাসিস্টসহ অনেক ধরনের মুসলিম পেশাজীবী লোকদের প্রয়োজন অনুভব করি। প্রত্যেক সেক্টরে এমন কিছু দায়ির প্রয়োজন, যারা উত্তম চরিত্র ও যথার্থ ইলমের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এই মহান লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য সময়কে পরিপূর্ণ কাজে না লাগাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কেউ এই সেক্টরগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে না। তাই কেন তুমি অবসর সময় ও সুযোগগুলোতে এসব যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না?!
হে যুবক, তোমাদের বলছি..., তোমাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যেগুলো তোমাদের খুবই প্রয়োজন। যদি যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্য কর্ম ও সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি বিনিয়োগ। যদি তা অন্বেষণে ধারাবাহিকভাবে লেগে থাকো, তবেই তা অর্জন করতে পারবে। তাই যত দ্রুত এই চেষ্টা শুরু করবে, তত দ্রুত তোমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার উজ্জ্বল হতে থাকবে। এমন কিছু যোগ্যতা হলো :
• যোগাযোগ বিদ্যা।
• ব্যক্তিগত রীতিনীতি-সম্পর্কিত বিদ্যা।
• সময় পরিচালনার জ্ঞান।
• পারস্পরিক আলোচনা করার যোগ্যতা।
• দ্রুত পড়ার যোগ্যতা।
• প্রতিবেদন ও মৌলিক জীবনী লেখার যোগ্যতা।
• উপস্থাপন দক্ষতা।
• বিভিন্ন বিদেশী ভাষা সমানভাবে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা।
বর্তমানে কর্মের বাজারে এই যোগ্যতাগুলো আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। তোমাদের আমি সাহাবায়ে কিরামের একটি যোগ্যতার কথা বলব। দেখো, তাঁরা কতটা দক্ষ ছিলেন। জায়েদ বিন সাবিত বলেন, 'রাসুল আমাকে ইহুদিদের কিতাবের ভাষা শিক্ষা করার আদেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, তখনো কোনো ইহুদি আমাদের কিতাবের প্রতি ইমান আনেনি। অতঃপর অর্ধমাস অতিবাহিত হতে না হতেই আমি তা শিখে ফেললাম। তারপর রাসুল যখন কোনো ইহুদির কাছে পত্র লেখার ইচ্ছা করতেন, আমি লিখে দিতাম। তারা কোনো পত্র দিলে আমি তা পড়ে দিতাম।'
হে যুবক, তোমাকে বলছি, বর্তমান সময়ে বিধর্মীদের কয়টি ভাষা শিখেছ তুমি?! কতটুকু যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছ তাতে?! কতটুকু সময় ব্যয় করেছ তা শেখার জন্য?!
প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, কেন আমরা সময়গুলোকে সেসব মুবারক আমল দ্বারা ব্যস্ত রাখি না, যেগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের কাছে সম্মান বেড়ে যায়! এতে তো দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের সম্মান নিহিত রয়েছে।
বর্তমানে আমরা প্রতিটি মুহূর্তে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ফার্মাসিস্টসহ অনেক ধরনের মুসলিম পেশাজীবী লোকদের প্রয়োজন অনুভব করি। প্রত্যেক সেক্টরে এমন কিছু দায়ির প্রয়োজন, যারা উত্তম চরিত্র ও যথার্থ ইলমের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা এই মহান লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য সময়কে পরিপূর্ণ কাজে না লাগাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা কেউ এই সেক্টরগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে না। তাই কেন তুমি অবসর সময় ও সুযোগগুলোতে এসব যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ না?!
📄 তৃতীয় বাহু : সামাজিক কাজে সময় ব্যয় করা
■ এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের কর্তব্য
রাসুল ইরশাদ করেছেন : حَقُّ المُسْلِمِ عَلَى المُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ العاطس
‘এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। ১. সালামের উত্তর দেওয়া। ২. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা। ৩. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। ৪. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া। ৫. হাঁচির উত্তর দেওয়া। ১৮ অপর বর্ণনায় এভাবে আছে, خَمْسُ تَجِبُ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ ‘একজন মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে।’... ১৯
ইবনুল আরাবি বলেন, এই হকগুলোর প্রতি তোমাকে যত্নবান হতে হবে এবং ইসলামের সাম্যের শিক্ষা সবার মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা হলো সকল মুসলিম সমান। তাই এমন কথা বলো না যে, এ তো বাদশাহ; সে অনেক সম্মান-প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য ও সম্পদের অধিকারী। আর এ তো ফকির, দরিদ্র। এ ধরনের কথা বলো না। নিম্ন শ্রেণির কাউকে হেয়জ্ঞান করো না। ইসলামকে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির মতো মনে করো। আর সকল মুসলমানকে সেই ব্যক্তির অঙ্গ মনে করো। কেননা, মুসলিম ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব থাকবে না, যেমনিভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছাড়া কোনো মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
• আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা
রাসুল ইরশাদ করেছেন :
حُسْنُ الْجِوَارِ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ يَعْمُرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
'প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং সুন্দর আচরণ করার দ্বারা ঘর আবাদ হয় এবং বয়স বৃদ্ধি পায়।' ২০
এই হাদিসের সাথে সময়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এতে বয়স বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আর হাদিসের এই কথাটির দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে।
প্রথমত, এখানে 'বয়সের বৃদ্ধি' দ্বারা বয়সের মধ্যে বরকত হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। যেমন: জীবনে বরকত হলে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ বেশি বেশি করা যায় এবং এমন সব আমল সম্পাদন করা যায়, যা পরকালে কাজে আসবে।
দ্বিতীয়ত, বাস্তবিকভাবে বয়স বেড়ে যাবে। যেমন বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ১০০ বছর। আর যদি তা রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ৬০ বছর। আর আল্লাহ তাআলা তো ভালোই জানেন যে, সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে, না ছিন্ন করবে।
রাসুল -এর প্রায় উপদেশে আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উম্মুল মুমিনিন মাইমুনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি দাসী ছিল। তাকে আমি আজাদ করে দিয়েছিলাম। অতঃপর নবি কারিম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন:
أَجَرَكِ اللهُ، أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ
'আল্লাহ তাআলা তোমাকে পুরস্কার দান করুন। যদি এটি তোমার মামাদের দান করতে, তাহলে তোমার প্রতিদান আরও বেড়ে যেত।' ২১
এই হাদিস থেকে আতা বিন আবি রাবাহ একটি শিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, 'দারিদ্র্য দূর করার জন্য এক হাজার দিরহাম খরচ করার চেয়েও আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয়ের জন্য এক দিরহাম খরচ করা অধিক প্রিয়।' এরপর এক ব্যক্তি তাকে বললেন, 'হে আবু মুহাম্মাদ, আমার আত্মীয়রা যদি আমার মতোই ধনী হয়ে থাকে, তাহলে কী করব?' তিনি বললেন, 'তারা ধনী হলেও তাদেরকেই দাও।'
অপর দিকে যারা নিজেদের উত্তম জিনিসগুলো আত্মীয়দের মাঝে ব্যয় করে না, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি করে রাসুল ইরশাদ করেছেন: أَيُّمَا رَجُلٍ أَتَاهُ ابْنُ عَمِّهِ، فَسَأَلَهُ مِنْ فَضْلِهِ، فَمَنَعَهُ مَنَعَهُ اللَّهُ فَضْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তির কাছে তার চাচাতো ভাই কোনো অনুগ্রহ তালাশে আসার পর সে তাকে নিষেধ করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন। ২২
রাসুল অন্যত্র ইরশাদ করেছেন:
مَا مِنْ ذِي رَحِمٍ يَأْتِي ذَا رَحِمِهِ، يَسْأَلُهُ فَضْلًا أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ، فَيَبْخَلُ عَلَيْهِ إِلَّا أَخْرَجَ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ جَهَنَّمَ حَيَّةً يُقَالُ لَهَا: شُجَاعُ يَتَلَمَّظُ، فَيُطَوَّقُ بِهِ
'কোনো নিকটাত্মীয় যদি তার অপর নিকটাত্মীয়ের কাছে গিয়ে এমন কোনো অনুগ্রহ কামনা করে, যা আল্লাহ তাআলা কেবল তাকেই দান করেছেন, অতঃপর সে তা দিতে কার্পণ্য করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে একটি সাপ বের করে আনবেন। যাকে شُجَاعٌ বলা হয়। সে তার ঠোঁট চাটতে থাকবে। অতঃপর তাকে প্যাঁচিয়ে ধরবে।' ২৩ (হাদিসটি হাসান সহিহ।)
• এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ
তুমি কি কোনো এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছ কখনো?! রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'তুমি কি চাও যে, তোমার অন্তর নরম হোক এবং প্রয়োজন পূরণ হোক? (যদি চাও) তাহলে এতিমের প্রতি দয়া করো, তার মাথা মুছে দাও, তুমি যা খাও তাকে তা খাওয়াও-তবেই তোমার অন্তর নরম হবে এবং প্রয়োজন পূরণ হবে। ' ২৪
শুধু তাই নয়, রাসুলে কারিম তোমাকে এই সুসংবাদও দিয়েছেন যে, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী ও তিনি জান্নাতে পাশাপাশি অট্টালিকায় থাকবেন। তা হবে খুব কাছাকাছি। স্বয়ং রাসুল -এর পাশের আসনে থাকবে সে। তিনি ইরশাদ করেছেন :
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ، وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَلِيلًا
‘আমি ও এতিমের রক্ষণাবেক্ষণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। এ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা ইশারা করেছেন। আর উভয় আঙুলের মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখেছেন।’ ২৫
হে মুসলিম ভাই, এখনো কি তুমি এই সুযোগ গ্রহণ করোনি? রাসুল-এর পার্শ্ববর্তী ফ্লাটটি এখনো বুকিং দাওনি?! তিনি তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রতিবেশী। নাকি এখনো তুমি উদাসীন হয়ে আছ?!
• দুর্বলদের সহায়তা করা
যদি তোমার কাছে সময়কে সংকীর্ণ মনে হয় এবং সবকিছু বোঝা মনে হয়, তাহলে দুজন খলিফার ঘটনা শোনো।
আবু বকর সিদ্দিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে পাড়ার লোকদেরকে তাদের বকরির দুধ দোহন করে দিতেন। অতঃপর যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তাদের মধ্য হতে এক দাসী বলে উঠল, 'এখন আর তিনি দুধ দোহন করবেন না।' আবু বকর শুনে বললেন, 'বরং আমি আশা করি যে, আমি এতদিন যে কাজ করতাম, তা থেকে যেন আমার পরিবর্তন না হয়।'
উমর বিধবা নারীদের দেখাশুনা করতেন। রাতের বেলায় তাদের পানি পান করাতেন। একদা তালহা উমর-কে এই অবস্থায় এক মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে ফেলেন। ফলে তিনি দিনের বেলায় এসে সেই বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলেন, সেখানে একজন অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন। তখন তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, 'এই ব্যক্তি এখানে এসে কী করে?' বৃদ্ধা বললেন, 'সে তো অমুক দিন থেকেই আমার দেখাশুনা করে, আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসে, আমার কষ্টগুলো দূর করে।' উমর বিষয়টি জানার পর বললেন, 'হে তালহা, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। তুমি উমরের গোপন বিষয়ের অনুসন্ধান করছ?!'
• কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা
যাকে তুমি আল্লাহর জন্য ভালোবাসো এবং যার অস্তিত্বে তোমার মাঝে সহানুভূতি জাগে—এমন কারও সাথে সময় কাটালে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। কেননা, নবি কারিম বলেন, 'যে ব্যক্তি শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আল্লাহর জন্য তার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' ২৬
**টিকাঃ**
১৮. সহিহুল বুখারি: ১২৪০।
১৯. সহিহু মুসলিম: ২১৬২।
২০. ইবনে আবিদ দুনইয়া কৃত মাকারিমুল আখলাক: ৩২৯।
২১. সুনানু আবি দাউদ: ১৬৯০।
২২. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ৯৩। আলবানি এটিকে হাসান লি-গাইরিহি বলেছেন।
২৩. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল আওসাত: ৫৫৯৩।
২৪. শাব্দিক কিছুটা তারতম্যের সাথে এটি বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, আল-জামিউস সহিহ লিস সুনান ওয়াল মাসানিদ: ১০/২৪৪; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২১৪।
২৫. মুসনাদু আহমাদ: ২২৮২০।
২৬. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ১১৮, আল-মুজামুল আওসাত : ১৭৪৩, শুআবুল ইমান: ৮৩৫৮।
■ এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের কর্তব্য
রাসুল ইরশাদ করেছেন : حَقُّ المُسْلِمِ عَلَى المُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ العاطس
‘এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। ১. সালামের উত্তর দেওয়া। ২. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা। ৩. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। ৪. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া। ৫. হাঁচির উত্তর দেওয়া। ১৮ অপর বর্ণনায় এভাবে আছে, خَمْسُ تَجِبُ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ ‘একজন মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে।’... ১৯
ইবনুল আরাবি বলেন, এই হকগুলোর প্রতি তোমাকে যত্নবান হতে হবে এবং ইসলামের সাম্যের শিক্ষা সবার মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা হলো সকল মুসলিম সমান। তাই এমন কথা বলো না যে, এ তো বাদশাহ; সে অনেক সম্মান-প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য ও সম্পদের অধিকারী। আর এ তো ফকির, দরিদ্র। এ ধরনের কথা বলো না। নিম্ন শ্রেণির কাউকে হেয়জ্ঞান করো না। ইসলামকে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির মতো মনে করো। আর সকল মুসলমানকে সেই ব্যক্তির অঙ্গ মনে করো। কেননা, মুসলিম ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব থাকবে না, যেমনিভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছাড়া কোনো মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
• আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা
রাসুল ইরশাদ করেছেন :
حُسْنُ الْجِوَارِ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ يَعْمُرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
'প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং সুন্দর আচরণ করার দ্বারা ঘর আবাদ হয় এবং বয়স বৃদ্ধি পায়।' ২০
এই হাদিসের সাথে সময়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এতে বয়স বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আর হাদিসের এই কথাটির দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে।
প্রথমত, এখানে 'বয়সের বৃদ্ধি' দ্বারা বয়সের মধ্যে বরকত হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। যেমন: জীবনে বরকত হলে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ বেশি বেশি করা যায় এবং এমন সব আমল সম্পাদন করা যায়, যা পরকালে কাজে আসবে।
দ্বিতীয়ত, বাস্তবিকভাবে বয়স বেড়ে যাবে। যেমন বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ১০০ বছর। আর যদি তা রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ৬০ বছর। আর আল্লাহ তাআলা তো ভালোই জানেন যে, সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে, না ছিন্ন করবে।
রাসুল -এর প্রায় উপদেশে আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উম্মুল মুমিনিন মাইমুনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি দাসী ছিল। তাকে আমি আজাদ করে দিয়েছিলাম। অতঃপর নবি কারিম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন:
أَجَرَكِ اللهُ، أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ
'আল্লাহ তাআলা তোমাকে পুরস্কার দান করুন। যদি এটি তোমার মামাদের দান করতে, তাহলে তোমার প্রতিদান আরও বেড়ে যেত।' ২১
এই হাদিস থেকে আতা বিন আবি রাবাহ একটি শিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, 'দারিদ্র্য দূর করার জন্য এক হাজার দিরহাম খরচ করার চেয়েও আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয়ের জন্য এক দিরহাম খরচ করা অধিক প্রিয়।' এরপর এক ব্যক্তি তাকে বললেন, 'হে আবু মুহাম্মাদ, আমার আত্মীয়রা যদি আমার মতোই ধনী হয়ে থাকে, তাহলে কী করব?' তিনি বললেন, 'তারা ধনী হলেও তাদেরকেই দাও।'
অপর দিকে যারা নিজেদের উত্তম জিনিসগুলো আত্মীয়দের মাঝে ব্যয় করে না, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি করে রাসুল ইরশাদ করেছেন: أَيُّمَا رَجُلٍ أَتَاهُ ابْنُ عَمِّهِ، فَسَأَلَهُ مِنْ فَضْلِهِ، فَمَنَعَهُ مَنَعَهُ اللَّهُ فَضْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তির কাছে তার চাচাতো ভাই কোনো অনুগ্রহ তালাশে আসার পর সে তাকে নিষেধ করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন। ২২
রাসুল অন্যত্র ইরশাদ করেছেন:
مَا مِنْ ذِي رَحِمٍ يَأْتِي ذَا رَحِمِهِ، يَسْأَلُهُ فَضْلًا أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ، فَيَبْخَلُ عَلَيْهِ إِلَّا أَخْرَجَ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ جَهَنَّمَ حَيَّةً يُقَالُ لَهَا: شُجَاعُ يَتَلَمَّظُ، فَيُطَوَّقُ بِهِ
'কোনো নিকটাত্মীয় যদি তার অপর নিকটাত্মীয়ের কাছে গিয়ে এমন কোনো অনুগ্রহ কামনা করে, যা আল্লাহ তাআলা কেবল তাকেই দান করেছেন, অতঃপর সে তা দিতে কার্পণ্য করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে একটি সাপ বের করে আনবেন। যাকে شُجَاعٌ বলা হয়। সে তার ঠোঁট চাটতে থাকবে। অতঃপর তাকে প্যাঁচিয়ে ধরবে।' ২৩ (হাদিসটি হাসান সহিহ।)
• এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ
তুমি কি কোনো এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছ কখনো?! রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'তুমি কি চাও যে, তোমার অন্তর নরম হোক এবং প্রয়োজন পূরণ হোক? (যদি চাও) তাহলে এতিমের প্রতি দয়া করো, তার মাথা মুছে দাও, তুমি যা খাও তাকে তা খাওয়াও-তবেই তোমার অন্তর নরম হবে এবং প্রয়োজন পূরণ হবে। ' ২৪
শুধু তাই নয়, রাসুলে কারিম তোমাকে এই সুসংবাদও দিয়েছেন যে, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী ও তিনি জান্নাতে পাশাপাশি অট্টালিকায় থাকবেন। তা হবে খুব কাছাকাছি। স্বয়ং রাসুল -এর পাশের আসনে থাকবে সে। তিনি ইরশাদ করেছেন :
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ، وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَلِيلًا
‘আমি ও এতিমের রক্ষণাবেক্ষণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। এ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা ইশারা করেছেন। আর উভয় আঙুলের মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখেছেন।’ ২৫
হে মুসলিম ভাই, এখনো কি তুমি এই সুযোগ গ্রহণ করোনি? রাসুল-এর পার্শ্ববর্তী ফ্লাটটি এখনো বুকিং দাওনি?! তিনি তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রতিবেশী। নাকি এখনো তুমি উদাসীন হয়ে আছ?!
• দুর্বলদের সহায়তা করা
যদি তোমার কাছে সময়কে সংকীর্ণ মনে হয় এবং সবকিছু বোঝা মনে হয়, তাহলে দুজন খলিফার ঘটনা শোনো।
আবু বকর সিদ্দিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে পাড়ার লোকদেরকে তাদের বকরির দুধ দোহন করে দিতেন। অতঃপর যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তাদের মধ্য হতে এক দাসী বলে উঠল, 'এখন আর তিনি দুধ দোহন করবেন না।' আবু বকর শুনে বললেন, 'বরং আমি আশা করি যে, আমি এতদিন যে কাজ করতাম, তা থেকে যেন আমার পরিবর্তন না হয়।'
উমর বিধবা নারীদের দেখাশুনা করতেন। রাতের বেলায় তাদের পানি পান করাতেন। একদা তালহা উমর-কে এই অবস্থায় এক মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে ফেলেন। ফলে তিনি দিনের বেলায় এসে সেই বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলেন, সেখানে একজন অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন। তখন তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, 'এই ব্যক্তি এখানে এসে কী করে?' বৃদ্ধা বললেন, 'সে তো অমুক দিন থেকেই আমার দেখাশুনা করে, আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসে, আমার কষ্টগুলো দূর করে।' উমর বিষয়টি জানার পর বললেন, 'হে তালহা, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। তুমি উমরের গোপন বিষয়ের অনুসন্ধান করছ?!'
• কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা
যাকে তুমি আল্লাহর জন্য ভালোবাসো এবং যার অস্তিত্বে তোমার মাঝে সহানুভূতি জাগে—এমন কারও সাথে সময় কাটালে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। কেননা, নবি কারিম বলেন, 'যে ব্যক্তি শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আল্লাহর জন্য তার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' ২৬
**টিকাঃ**
১৮. সহিহুল বুখারি: ১২৪০।
১৯. সহিহু মুসলিম: ২১৬২।
২০. ইবনে আবিদ দুনইয়া কৃত মাকারিমুল আখলাক: ৩২৯।
২১. সুনানু আবি দাউদ: ১৬৯০।
২২. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ৯৩। আলবানি এটিকে হাসান লি-গাইরিহি বলেছেন।
২৩. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল আওসাত: ৫৫৯৩।
২৪. শাব্দিক কিছুটা তারতম্যের সাথে এটি বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, আল-জামিউস সহিহ লিস সুনান ওয়াল মাসানিদ: ১০/২৪৪; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২১৪।
২৫. মুসনাদু আহমাদ: ২২৮২০।
২৬. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ১১৮, আল-মুজামুল আওসাত : ১৭৪৩, শুআবুল ইমান: ৮৩৫৮।
■ এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের কর্তব্য
রাসুল ইরশাদ করেছেন : حَقُّ المُسْلِمِ عَلَى المُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ العاطس
‘এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। ১. সালামের উত্তর দেওয়া। ২. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা। ৩. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। ৪. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া। ৫. হাঁচির উত্তর দেওয়া। ১৮ অপর বর্ণনায় এভাবে আছে, خَمْسُ تَجِبُ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ ‘একজন মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে।’... ১৯
ইবনুল আরাবি বলেন, এই হকগুলোর প্রতি তোমাকে যত্নবান হতে হবে এবং ইসলামের সাম্যের শিক্ষা সবার মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা হলো সকল মুসলিম সমান। তাই এমন কথা বলো না যে, এ তো বাদশাহ; সে অনেক সম্মান-প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য ও সম্পদের অধিকারী। আর এ তো ফকির, দরিদ্র। এ ধরনের কথা বলো না। নিম্ন শ্রেণির কাউকে হেয়জ্ঞান করো না। ইসলামকে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির মতো মনে করো। আর সকল মুসলমানকে সেই ব্যক্তির অঙ্গ মনে করো। কেননা, মুসলিম ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব থাকবে না, যেমনিভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছাড়া কোনো মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
• আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা
রাসুল ইরশাদ করেছেন :
حُسْنُ الْجِوَارِ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ يَعْمُرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
'প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং সুন্দর আচরণ করার দ্বারা ঘর আবাদ হয় এবং বয়স বৃদ্ধি পায়।' ২০
এই হাদিসের সাথে সময়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এতে বয়স বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আর হাদিসের এই কথাটির দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে।
প্রথমত, এখানে 'বয়সের বৃদ্ধি' দ্বারা বয়সের মধ্যে বরকত হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। যেমন: জীবনে বরকত হলে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ বেশি বেশি করা যায় এবং এমন সব আমল সম্পাদন করা যায়, যা পরকালে কাজে আসবে।
দ্বিতীয়ত, বাস্তবিকভাবে বয়স বেড়ে যাবে। যেমন বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ১০০ বছর। আর যদি তা রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ৬০ বছর। আর আল্লাহ তাআলা তো ভালোই জানেন যে, সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে, না ছিন্ন করবে।
রাসুল -এর প্রায় উপদেশে আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উম্মুল মুমিনিন মাইমুনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি দাসী ছিল। তাকে আমি আজাদ করে দিয়েছিলাম। অতঃপর নবি কারিম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন:
أَجَرَكِ اللهُ، أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ
'আল্লাহ তাআলা তোমাকে পুরস্কার দান করুন। যদি এটি তোমার মামাদের দান করতে, তাহলে তোমার প্রতিদান আরও বেড়ে যেত।' ২১
এই হাদিস থেকে আতা বিন আবি রাবাহ একটি শিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, 'দারিদ্র্য দূর করার জন্য এক হাজার দিরহাম খরচ করার চেয়েও আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয়ের জন্য এক দিরহাম খরচ করা অধিক প্রিয়।' এরপর এক ব্যক্তি তাকে বললেন, 'হে আবু মুহাম্মাদ, আমার আত্মীয়রা যদি আমার মতোই ধনী হয়ে থাকে, তাহলে কী করব?' তিনি বললেন, 'তারা ধনী হলেও তাদেরকেই দাও।'
অপর দিকে যারা নিজেদের উত্তম জিনিসগুলো আত্মীয়দের মাঝে ব্যয় করে না, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি করে রাসুল ইরশাদ করেছেন: أَيُّمَا رَجُلٍ أَتَاهُ ابْنُ عَمِّهِ، فَسَأَلَهُ مِنْ فَضْلِهِ، فَمَنَعَهُ مَنَعَهُ اللَّهُ فَضْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তির কাছে তার চাচাতো ভাই কোনো অনুগ্রহ তালাশে আসার পর সে তাকে নিষেধ করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন। ২২
রাসুল অন্যত্র ইরশাদ করেছেন:
مَا مِنْ ذِي رَحِمٍ يَأْتِي ذَا رَحِمِهِ، يَسْأَلُهُ فَضْلًا أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ، فَيَبْخَلُ عَلَيْهِ إِلَّا أَخْرَجَ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ جَهَنَّمَ حَيَّةً يُقَالُ لَهَا: شُجَاعُ يَتَلَمَّظُ، فَيُطَوَّقُ بِهِ
'কোনো নিকটাত্মীয় যদি তার অপর নিকটাত্মীয়ের কাছে গিয়ে এমন কোনো অনুগ্রহ কামনা করে, যা আল্লাহ তাআলা কেবল তাকেই দান করেছেন, অতঃপর সে তা দিতে কার্পণ্য করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে একটি সাপ বের করে আনবেন। যাকে شُجَاعٌ বলা হয়। সে তার ঠোঁট চাটতে থাকবে। অতঃপর তাকে প্যাঁচিয়ে ধরবে।' ২৩ (হাদিসটি হাসান সহিহ।)
• এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ
তুমি কি কোনো এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছ কখনো?! রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'তুমি কি চাও যে, তোমার অন্তর নরম হোক এবং প্রয়োজন পূরণ হোক? (যদি চাও) তাহলে এতিমের প্রতি দয়া করো, তার মাথা মুছে দাও, তুমি যা খাও তাকে তা খাওয়াও-তবেই তোমার অন্তর নরম হবে এবং প্রয়োজন পূরণ হবে। ' ২৪
শুধু তাই নয়, রাসুলে কারিম তোমাকে এই সুসংবাদও দিয়েছেন যে, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী ও তিনি জান্নাতে পাশাপাশি অট্টালিকায় থাকবেন। তা হবে খুব কাছাকাছি। স্বয়ং রাসুল -এর পাশের আসনে থাকবে সে। তিনি ইরশাদ করেছেন :
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ، وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَلِيلًا
‘আমি ও এতিমের রক্ষণাবেক্ষণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। এ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা ইশারা করেছেন। আর উভয় আঙুলের মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখেছেন।’ ২৫
হে মুসলিম ভাই, এখনো কি তুমি এই সুযোগ গ্রহণ করোনি? রাসুল-এর পার্শ্ববর্তী ফ্লাটটি এখনো বুকিং দাওনি?! তিনি তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রতিবেশী। নাকি এখনো তুমি উদাসীন হয়ে আছ?!
• দুর্বলদের সহায়তা করা
যদি তোমার কাছে সময়কে সংকীর্ণ মনে হয় এবং সবকিছু বোঝা মনে হয়, তাহলে দুজন খলিফার ঘটনা শোনো।
আবু বকর সিদ্দিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে পাড়ার লোকদেরকে তাদের বকরির দুধ দোহন করে দিতেন। অতঃপর যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তাদের মধ্য হতে এক দাসী বলে উঠল, 'এখন আর তিনি দুধ দোহন করবেন না।' আবু বকর শুনে বললেন, 'বরং আমি আশা করি যে, আমি এতদিন যে কাজ করতাম, তা থেকে যেন আমার পরিবর্তন না হয়।'
উমর বিধবা নারীদের দেখাশুনা করতেন। রাতের বেলায় তাদের পানি পান করাতেন। একদা তালহা উমর-কে এই অবস্থায় এক মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে ফেলেন। ফলে তিনি দিনের বেলায় এসে সেই বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলেন, সেখানে একজন অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন। তখন তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, 'এই ব্যক্তি এখানে এসে কী করে?' বৃদ্ধা বললেন, 'সে তো অমুক দিন থেকেই আমার দেখাশুনা করে, আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসে, আমার কষ্টগুলো দূর করে।' উমর বিষয়টি জানার পর বললেন, 'হে তালহা, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। তুমি উমরের গোপন বিষয়ের অনুসন্ধান করছ?!'
• কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা
যাকে তুমি আল্লাহর জন্য ভালোবাসো এবং যার অস্তিত্বে তোমার মাঝে সহানুভূতি জাগে—এমন কারও সাথে সময় কাটালে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। কেননা, নবি কারিম বলেন, 'যে ব্যক্তি শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আল্লাহর জন্য তার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' ২৬
**টিকাঃ**
১৮. সহিহুল বুখারি: ১২৪০।
১৯. সহিহু মুসলিম: ২১৬২।
২০. ইবনে আবিদ দুনইয়া কৃত মাকারিমুল আখলাক: ৩২৯।
২১. সুনানু আবি দাউদ: ১৬৯০।
২২. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ৯৩। আলবানি এটিকে হাসান লি-গাইরিহি বলেছেন।
২৩. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল আওসাত: ৫৫৯৩।
২৪. শাব্দিক কিছুটা তারতম্যের সাথে এটি বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, আল-জামিউস সহিহ লিস সুনান ওয়াল মাসানিদ: ১০/২৪৪; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২১৪।
২৫. মুসনাদু আহমাদ: ২২৮২০।
২৬. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ১১৮, আল-মুজামুল আওসাত : ১৭৪৩, শুআবুল ইমান: ৮৩৫৮।
■ এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের কর্তব্য
রাসুল ইরশাদ করেছেন : حَقُّ المُسْلِمِ عَلَى المُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ المَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيتُ العاطس
‘এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে। ১. সালামের উত্তর দেওয়া। ২. অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা। ৩. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। ৪. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া। ৫. হাঁচির উত্তর দেওয়া। ১৮ অপর বর্ণনায় এভাবে আছে, خَمْسُ تَجِبُ لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ ‘একজন মুসলিমের জন্য তার অপর ভাইয়ের পাঁচটি কর্তব্য রয়েছে।’... ১৯
ইবনুল আরাবি বলেন, এই হকগুলোর প্রতি তোমাকে যত্নবান হতে হবে এবং ইসলামের সাম্যের শিক্ষা সবার মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা হলো সকল মুসলিম সমান। তাই এমন কথা বলো না যে, এ তো বাদশাহ; সে অনেক সম্মান-প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য ও সম্পদের অধিকারী। আর এ তো ফকির, দরিদ্র। এ ধরনের কথা বলো না। নিম্ন শ্রেণির কাউকে হেয়জ্ঞান করো না। ইসলামকে একজন পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির মতো মনে করো। আর সকল মুসলমানকে সেই ব্যক্তির অঙ্গ মনে করো। কেননা, মুসলিম ছাড়া ইসলামের অস্তিত্ব থাকবে না, যেমনিভাবে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছাড়া কোনো মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
• আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা
রাসুল ইরশাদ করেছেন :
حُسْنُ الْجِوَارِ، وَصِلَةُ الرَّحِمِ، وَحُسْنُ الْخُلُقِ يَعْمُرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الْأَعْمَارِ
'প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা এবং সুন্দর আচরণ করার দ্বারা ঘর আবাদ হয় এবং বয়স বৃদ্ধি পায়।' ২০
এই হাদিসের সাথে সময়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কেননা, এতে বয়স বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। আর হাদিসের এই কথাটির দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে।
প্রথমত, এখানে 'বয়সের বৃদ্ধি' দ্বারা বয়সের মধ্যে বরকত হওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। যেমন: জীবনে বরকত হলে আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ বেশি বেশি করা যায় এবং এমন সব আমল সম্পাদন করা যায়, যা পরকালে কাজে আসবে।
দ্বিতীয়ত, বাস্তবিকভাবে বয়স বেড়ে যাবে। যেমন বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি যদি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ১০০ বছর। আর যদি তা রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তার মোট আয়ু হবে ৬০ বছর। আর আল্লাহ তাআলা তো ভালোই জানেন যে, সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে, না ছিন্ন করবে।
রাসুল -এর প্রায় উপদেশে আত্মীয়তার সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। উম্মুল মুমিনিন মাইমুনা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি দাসী ছিল। তাকে আমি আজাদ করে দিয়েছিলাম। অতঃপর নবি কারিম আমার কাছে আসলেন এবং বললেন:
أَجَرَكِ اللهُ، أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لِأَجْرِكِ
'আল্লাহ তাআলা তোমাকে পুরস্কার দান করুন। যদি এটি তোমার মামাদের দান করতে, তাহলে তোমার প্রতিদান আরও বেড়ে যেত।' ২১
এই হাদিস থেকে আতা বিন আবি রাবাহ একটি শিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, 'দারিদ্র্য দূর করার জন্য এক হাজার দিরহাম খরচ করার চেয়েও আমার কাছে আমার নিকটাত্মীয়ের জন্য এক দিরহাম খরচ করা অধিক প্রিয়।' এরপর এক ব্যক্তি তাকে বললেন, 'হে আবু মুহাম্মাদ, আমার আত্মীয়রা যদি আমার মতোই ধনী হয়ে থাকে, তাহলে কী করব?' তিনি বললেন, 'তারা ধনী হলেও তাদেরকেই দাও।'
অপর দিকে যারা নিজেদের উত্তম জিনিসগুলো আত্মীয়দের মাঝে ব্যয় করে না, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি করে রাসুল ইরশাদ করেছেন: أَيُّمَا رَجُلٍ أَتَاهُ ابْنُ عَمِّهِ، فَسَأَلَهُ مِنْ فَضْلِهِ، فَمَنَعَهُ مَنَعَهُ اللَّهُ فَضْلَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'যে ব্যক্তির কাছে তার চাচাতো ভাই কোনো অনুগ্রহ তালাশে আসার পর সে তাকে নিষেধ করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে তাঁর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন। ২২
রাসুল অন্যত্র ইরশাদ করেছেন:
مَا مِنْ ذِي رَحِمٍ يَأْتِي ذَا رَحِمِهِ، يَسْأَلُهُ فَضْلًا أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ، فَيَبْخَلُ عَلَيْهِ إِلَّا أَخْرَجَ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ جَهَنَّمَ حَيَّةً يُقَالُ لَهَا: شُجَاعُ يَتَلَمَّظُ، فَيُطَوَّقُ بِهِ
'কোনো নিকটাত্মীয় যদি তার অপর নিকটাত্মীয়ের কাছে গিয়ে এমন কোনো অনুগ্রহ কামনা করে, যা আল্লাহ তাআলা কেবল তাকেই দান করেছেন, অতঃপর সে তা দিতে কার্পণ্য করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে একটি সাপ বের করে আনবেন। যাকে شُجَاعٌ বলা হয়। সে তার ঠোঁট চাটতে থাকবে। অতঃপর তাকে প্যাঁচিয়ে ধরবে।' ২৩ (হাদিসটি হাসান সহিহ।)
• এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ
তুমি কি কোনো এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছ কখনো?! রাসুল ইরশাদ করেছেন, 'তুমি কি চাও যে, তোমার অন্তর নরম হোক এবং প্রয়োজন পূরণ হোক? (যদি চাও) তাহলে এতিমের প্রতি দয়া করো, তার মাথা মুছে দাও, তুমি যা খাও তাকে তা খাওয়াও-তবেই তোমার অন্তর নরম হবে এবং প্রয়োজন পূরণ হবে। ' ২৪
শুধু তাই নয়, রাসুলে কারিম তোমাকে এই সুসংবাদও দিয়েছেন যে, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী ও তিনি জান্নাতে পাশাপাশি অট্টালিকায় থাকবেন। তা হবে খুব কাছাকাছি। স্বয়ং রাসুল -এর পাশের আসনে থাকবে সে। তিনি ইরশাদ করেছেন :
أَنَا وَكَافِلُ الْيَتِيمِ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ، وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى، وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا قَلِيلًا
‘আমি ও এতিমের রক্ষণাবেক্ষণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব। এ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দ্বারা ইশারা করেছেন। আর উভয় আঙুলের মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখেছেন।’ ২৫
হে মুসলিম ভাই, এখনো কি তুমি এই সুযোগ গ্রহণ করোনি? রাসুল-এর পার্শ্ববর্তী ফ্লাটটি এখনো বুকিং দাওনি?! তিনি তো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রতিবেশী। নাকি এখনো তুমি উদাসীন হয়ে আছ?!
• দুর্বলদের সহায়তা করা
যদি তোমার কাছে সময়কে সংকীর্ণ মনে হয় এবং সবকিছু বোঝা মনে হয়, তাহলে দুজন খলিফার ঘটনা শোনো।
আবু বকর সিদ্দিক খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে পাড়ার লোকদেরকে তাদের বকরির দুধ দোহন করে দিতেন। অতঃপর যখন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন তাদের মধ্য হতে এক দাসী বলে উঠল, 'এখন আর তিনি দুধ দোহন করবেন না।' আবু বকর শুনে বললেন, 'বরং আমি আশা করি যে, আমি এতদিন যে কাজ করতাম, তা থেকে যেন আমার পরিবর্তন না হয়।'
উমর বিধবা নারীদের দেখাশুনা করতেন। রাতের বেলায় তাদের পানি পান করাতেন। একদা তালহা উমর-কে এই অবস্থায় এক মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে ফেলেন। ফলে তিনি দিনের বেলায় এসে সেই বাড়িতে প্রবেশ করে দেখলেন, সেখানে একজন অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা বসে আছেন। তখন তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, 'এই ব্যক্তি এখানে এসে কী করে?' বৃদ্ধা বললেন, 'সে তো অমুক দিন থেকেই আমার দেখাশুনা করে, আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসে, আমার কষ্টগুলো দূর করে।' উমর বিষয়টি জানার পর বললেন, 'হে তালহা, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। তুমি উমরের গোপন বিষয়ের অনুসন্ধান করছ?!'
• কোনো ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করা
যাকে তুমি আল্লাহর জন্য ভালোবাসো এবং যার অস্তিত্বে তোমার মাঝে সহানুভূতি জাগে—এমন কারও সাথে সময় কাটালে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। কেননা, নবি কারিম বলেন, 'যে ব্যক্তি শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে আল্লাহর জন্য তার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' ২৬
**টিকাঃ**
১৮. সহিহুল বুখারি: ১২৪০।
১৯. সহিহু মুসলিম: ২১৬২।
২০. ইবনে আবিদ দুনইয়া কৃত মাকারিমুল আখলাক: ৩২৯।
২১. সুনানু আবি দাউদ: ১৬৯০।
২২. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ৯৩। আলবানি এটিকে হাসান লি-গাইরিহি বলেছেন।
২৩. তাবারানি কৃত আল-মুজামুল আওসাত: ৫৫৯৩।
২৪. শাব্দিক কিছুটা তারতম্যের সাথে এটি বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, আল-জামিউস সহিহ লিস সুনান ওয়াল মাসানিদ: ১০/২৪৪; হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২১৪।
২৫. মুসনাদু আহমাদ: ২২৮২০।
২৬. তাবারানি কৃত আল-মুজামুস সগির: ১১৮, আল-মুজামুল আওসাত : ১৭৪৩, শুআবুল ইমান: ৮৩৫৮।
📄 চতুর্থ বাহু : বিনোদনের জন্য সময় ব্যয় করা
অনেকেই বিনোদনের গুরুত্ব বোঝে না। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বিনোদন মানে জীবনের মূল্যবান সময়গুলোকে নষ্ট করা। অথচ বিনোদন মানবজীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু তাই নয়, যদি নিয়ত বিশুদ্ধ থাকে এবং শরিয়াহর মাপকাঠি অনুযায়ী হয়, তাহলে এটি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হবে। ইসলামি শরিয়ায় বিভিন্ন দলিল-প্রমাণের আলোকে এর বৈধতা পাওয়া যায়। বরং শরিয়াহ এর প্রতি উৎসাহিত করেছে। এখানে আমি যুবকদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরব। তা হলো শারীরিক ব্যায়াম। রাসুল ইরশাদ করেছেন:
لَا سَبَقَ إِلَّا فِي نَصْلٍ، أَوْ خُفٌ، أَوْ حَافِرٍ 'নিক্ষেপণ, দৌড় খেলা এবং ঘোড়দৌড় ছাড়া অন্য কিছুতে প্রতিযোগিতা নেই।' ২৭
এখানে نَصْل দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তির নিক্ষেপের মাধ্যমে বিনোদন করা। এ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দৌড় খেলা। حَافِر দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ঘোড়দৌড় খেলা। সাহাবায়ে কিরামের সময়ের চারটি বিনোদন বা খেলার নমুনা তোমাদের সামনে তুলে ধরা হলো।
الرمي বা নিক্ষেপ করা
এটিকে আমি কী বলব? ইবাদত বলব, নাকি ব্যায়াম বলব? হ্যাঁ, যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ত ঠিক থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত উভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। একদা নবি কারিম এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তারা পরস্পর প্রতিযোগিতা করছিল। অর্থাৎ তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে তির নিক্ষেপের প্রতিযোগিতা করছিল। রাসুল এই অবস্থা দেখে তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন:
ارْمُوا بَنِي إِسْمَاعِيلَ، فَإِنَّ أَبَاكُمْ كَانَ رَامِيًا ارْمُوا، وَأَنَا مَعَ بَنِي فُلَانٍ
'হে বনি ইসমাইল, তোমরা নিক্ষেপ করো। কেননা, তোমাদের পূর্বপুরুষও (ইসমাইল আ.) নিক্ষেপ করতেন। তোমরা নিক্ষেপ করো। আমিও অমুকের সন্তানদের সাথে আছি।'
এ সময় তাদের এক দল নিজেদের হাত গুটিয়ে রাখল। অর্থাৎ তির নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকল এবং তা থেকে বারণ করল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ বলেছেন: مَا لَكُمْ »لَا تَرْمُونَ؟ 'কী হলো তোমাদের?! নিক্ষেপ করছ না কেন?' তারা বলল, كَيْفَ نَرْيِي وَأَنْتَ مَعَهُمْ؟ 'কীভাবে আমরা নিক্ষেপ করি! অথচ আপনি তাদের মাঝে আছেন।' এ কথা শুনে রাসুল বললেন: »ارْمُوا فَأَنَا مَعَكُمْ كُلُّكُمْ 'নিক্ষেপ করো। আমি তোমাদের সবার সাথেই আছি।' ২৮
এই হাদিসের মধ্যে প্রশিক্ষণকে উন্নত চরিত্রের অংশ বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়। সাহাবায়ে কিরাম যখন নিক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছেন, তখন রাসুল-এর সাথে কতই না উত্তম ও সুন্দর ভদ্রতা বজায় রেখেছেন। কেননা, রাসুল তখন বিপরীত দলে ছিলেন। তাই তাঁরা রাসুল-এর ওপর জয়ী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন যে, ফলে তিনি পরাজিতদের দলে চলে যাবেন।
• العَدْوُ বা দৌড় প্রতিযোগিতা
নবি কারিম আয়িশা সিদ্দিকা-এর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। মাঝে মাঝে তিনি আয়িশা-কে পেছনে রেখে আগে চলে যেতেন। আবার মাঝে মাঝে আয়িশা রাসুল-কে পেছনে রেখে সামনে চলে যেতেন। ফলে রাসুল তাকে বললেন, 'এটা হলো (পূর্বেরটার) বদলা।' এখান থেকেই আনসাররা মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার জন্য রাসুল -এর কাছে অনুমতি চাইতেন। রাসুল -ও তাঁদের অনুমতি দিতেন। যেমনটি আমরা কোনো এক গাজওয়া থেকে ফেরার সময় সালামা বিন আকওয়া -এর হাদিসে দেখতে পাই।
তিনি বলেন, ...একজন আনসার ছিলেন। কেউ দৌড় প্রতিযোগিতায় তার আগে যেতে পারত না। একদা সেই আনসারি লোকটি বারবার বলছিল যে, 'আমার সাথে প্রতিযোগিতা করে মদিনায় যাওয়ার মতো কেউ নেই? আছে কি কোনো প্রতিযোগিতাকারী?' সে এ কথার পুনরাবৃত্তি করেই যাচ্ছিল। সালামা বিন আকওয়া বলেন, 'যখন আমি তার এই ঘোষণা শুনলাম, তখন তাকে বললাম, “তুমি কি কোনো সম্মানিত ব্যক্তিকে ভয় করো না? কোনো ভদ্র ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করো না?” সে বলল, “না। রাসুল ব্যতীত অন্য কারও সাথে প্রতিযোগিতা করতে আমার কোনো ভয় নেই।” তার এ কথা শুনে আমি রাসুল -এর কাছে আরজ করে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা-বাবা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আমাকে অনুমতি দিন আমি ওই ব্যক্তির সাথে প্রতিযোগিতা করব।”
রাসুল বললেন, "যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তাহলে করতে পারো।” তিনি বলেন, 'রাসুলের অনুমতি পেয়ে আমি বললাম, "আমি তোমার কাছে যাব।” অতঃপর আমি পা দ্বারা দাগ টানলাম এবং লাফ দিয়ে দৌড়াতে শুরু করলাম। অবশেষে আমি তার আগে মদিনায় গিয়ে পৌঁছলাম।'
• المُصَارَعَةُ (কুষ্টি বা মল্লযুদ্ধ)
রাসুল এক মুশরিকের সাথে তিনবার কুস্তি লড়াই করেছিলেন। প্রতিবার একশ বকরির চুক্তি করা হয়েছিল। অতঃপর রাসুল তাকে পরাজিত করে দিয়েছেন। তৃতীয়বারে সে রাসুল-কে উদ্দেশ্য করে বলল, 'হে মুহাম্মাদ, তোমার পূর্বে কেউ আমার পিঠকে জমিন স্পর্শ করাতে পারেনি।' অতঃপর লোকটি ইসলাম কবুল করেছে এবং রাসুল-ও তার বকরিগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়। রাসুল তো বদর যুদ্ধের সৈন্য সংগ্রহের সময় সামুরা বিন জুনদুব ও রাফি' বিন খাদিজ নামক দুই বালকের মাঝে কোনোরূপ চুক্তি ছাড়া কুস্তি লাগিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর সামুরা রাফি'কে পরাজিত করায় রাসুল তাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। অথচ প্রথমবার সে যুদ্ধের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলে ছোট হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
■ ঘোড়া বা উট প্রতিযোগিতা
রাসুল তাঁর সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন উষ্ট্রীর সাথে অন্যান্য উষ্ট্রীর দৌড় প্রতিযোগিতা বাধিয়ে দিতেন। সেই উষ্ট্রীকে অন্য কোনো উষ্ট্রী কখনো পরাজিত করতে পারত না। কিন্তু একদিন অন্য একটি উষ্ট্রী তাকে পরাজিত করে ফেলে। তাই সাহাবিরা বলতে লাগলেন যে, 'দ্রুতগামী উষ্ট্রী পরাজিত হয়েছে।' সহিহ হাদিসে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুল ﷺ পা ঢাকা ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে সানিইয়্যাতুল বিদা'য় গিয়েছেন। যার দূরত্ব হলো ছয় থেকে সাত মাইল। অতঃপর নগ্ন পাবিশিষ্ট ঘোড়ায় আরোহণ করে সানিইয়্যাতুল বিদা' থেকে মসজিদে বনি জুরাইকে গিয়েছেন। যার দূরত্ব হলো প্রায় এক মাইলের সমান। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় রাসুল ﷺ বিজয়ীকে পুরস্কৃত করতেন।
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে যে, আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবি কারিম ﷺ ঘোড়ার মাঝে প্রতিযোগিতা করলেন। অতঃপর বিজয়ীকে পুরষ্কৃত করেছেন। এখান থেকেই উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহঃ) শরীরচর্চার প্রতি গুরুত্বারোপ করার জন্য মদিনায় ঘোড় দৌড়ের প্রতিযোগিতা চালু রেখেছেন। এক প্রতিযোগিতায় আবু বকর (রাঃ)-এর নাতি মুহাম্মাদ বিন আবু তালহার ঘোড়ার মাঝে ও জনৈক বেদুইনের ঘোড়ার মাঝে কঠিন প্রতিযোগিতা চলছিল। ঘটনাক্রমে বেদুইন ব্যক্তির ঘোড়া মুহাম্মাদ বিন তালহার ঘোড়ার সামনে চলে গেল। এই অবস্থা দেখে বেদুইন ব্যক্তি সুউচ্চ স্বরে বলতে থাকল :
'ওহে, সর্বোচ্চ মর্যাদা আজ কার হয়ে গেল! হ্যাঁ, আমরাই এর জন্য প্রতিযোগিতা করেছি এবং আমরাই এর একমাত্র হকদার। যদি পাখিও আসে আমাদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে, তাহলে আমরা তার সাথেও জয়ী হব।'
সে এ কথা বলতে না বলতেই মুহাম্মাদ বিন তালহার ঘোড়া তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে সামনে চলে গেল এবং তিনিই বিজয়ী হলেন। অতঃপর উমর বিন আব্দুল আজিজ বেদুইন লোকটিকে বললেন, 'আল্লাহর শপথ, কল্যাণে অগ্রগামী ব্যক্তির নাতি তোমার ওপর জয়ী হয়েছে।'
এ কথাগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, সাহাবায়ে কিরাম ও তাবিয়িদের সময় শরীরচর্চার চিত্র কেমন ছিল। হে যুবক, এবার তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি, আজ তুমি কোন ধরনের শরীরচর্চায় ব্যস্ত?! তুমি তো কোনো ব্যায়ামই করো না! যার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন থেকে নিষ্কৃতি পাবে।
বড়ই আশ্চর্যের বিষয়! বর্তমানে যুবকরা বিভিন্ন ক্রীড়া চ্যানেল ফলো করে, খেলাধুলা-সম্পর্কিত পত্রিকাসহ অনেক ধরনের ক্রীড়াবিষয়ক খবরাখবর পড়ে। কিন্তু তারা নিজেরা কখনো কোনো ধরনের ব্যায়াম করে না। শুধু ফলো করেই সময় কাটায়।
ইবনে মুজাহিদ ছিলেন বাগদাদের প্রধান কারি। একদা তিনি তার কয়েকজন সঙ্গী-সাথির সাথে বাগদাদের এক বাগানে হাঁটতে বের হয়েছেন। তখন তার সঙ্গীরা বাগানে এদিক সেদিক হাঁটাহাঁটি করছিল আর মজা করছিল। এ সময় একজন তার দিকে আড় চোখে তাকালে তিনি বলেন, বাগানে التعاقل করা মসজিদে খেলার মতো।
'প্রতিটি দিন শেষে স্বল্প সময়ের মধ্যে হলেও পরবর্তী দিনের কার্যতালিকা তৈরি করে রাখো।'
**টিকাঃ**
২৭. সুনানুন নাসায়ি: ৩৫৮৬।
২৮. সহিহুল বুখারি : ২৮৯৯।