📘 সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করবেন > 📄 সফরের সময় ঘনিয়ে এসেছে

📄 সফরের সময় ঘনিয়ে এসেছে


যখন মানুষ দুনিয়া থেকে পরপারের পথে যাত্রা করবে, দুনিয়া অতীত হয়ে যাবে এবং সে আখিরাতের মুখোমুখি হবে, তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি তাকে সামান্য সুযোগ দেওয়া হতো! তাহলে দুনিয়ায় যে সময়গুলো সে নষ্ট করেছে, সেগুলোকে সে পরিশুদ্ধ করে নিত এবং যেগুলো ছেড়ে এসেছে, সেগুলো অর্জন করে নিত। কিন্তু না! তা কখনোই সম্ভব নয়। সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন-উত্তরের পালা। অচেতনতার সময় শেষ, সচেতন হওয়ার সময় শুরু। তাই মানুষ যদি এই বিষয়গুলো চিন্তা করে, তাহলে তার দীর্ঘ আশাগুলো সংকুচিত হয়ে আসবে, সময়ের প্রতি যত্নবান হবে। তাই কবি বলেন :
'অবসর সময়ে নফল সালাতের প্রতি গুরুত্ব দাও, হতে পারে সহসা তোমার মৃত্যু উপস্থিত হবে।
কত সুস্থ লোককে দেখেছি, কোনো রোগব্যাধি ছাড়াই তার প্রিয় আত্মা বের হয়ে গেছে।'
হে ভাই, তোমার একটি দিনের একটি মুহূর্ত চলে যাওয়ার মানে হলো, তোমার জন্য নির্ধারিত আয়ুর একটি অংশ অতিবাহিত হয়ে গেছে। কবি বলেন :
'যেদিন তুমি দোলনায় ছিলে, সেদিন থেকেই আমি তোমাকে অপূর্ণতায় দেখছি, তখন থেকেই তোমার একেকটি মুহূর্ত তোমাকে কবরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।'
হ্যাঁ! বাস্তবতা এমনই। আমাদের একেকটি নিশ্বাস আমাদের মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা জানিও না, সেই মৃত্যু আমাদের কখন সংঘটিত হবে? সুতরাং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার কাজ কি এই নয় যে, হঠাৎ করে মৃত্যু গ্রাস করার পূর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। একদিন উমর বিন আব্দুল আজিজ লোকজনকে নিয়ে এক জায়গায় বসা ছিলেন। যখন দ্বিপ্রহর হলো, তখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং বিরক্তিবোধ করলেন। তাই উপস্থিত লোকজনকে বললেন, 'আমি আসা পর্যন্ত আপনারা এখানেই অবস্থান করবেন।' অতঃপর তিনি তার ঘরে প্রবেশ করলেন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। এমন সময় তার ছেলে আব্দুল মালিক এসে উপস্থিত লোকজনকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, 'তিনি ঘরের ভেতরে গিয়েছেন।' অতঃপর তিনি অনুমতি চেয়ে বাবার কাছে প্রবেশ করে বললেন, 'হে আমিরুল মুমিনিন, কেন আপনি ঘরে প্রবেশ করেছেন?' তিনি বললেন, 'কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে এসেছি।' ছেলে বলল, 'আপনি এখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন আর প্রজারা বাইরে আপনার অপেক্ষায় আছে, আপনি কি নিশ্চিত যে, এই অবস্থায় আপনার মৃত্যু আসবে না?!' সাথে সাথে উমর বিন আব্দুল আজিজ দাঁড়িয়ে গেলেন এবং মানুষের কাছে চলে গেলেন।

📘 সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করবেন > 📄 ‘বস্তু ও তার ছায়া’

📄 ‘বস্তু ও তার ছায়া’


দীর্ঘ আশা করা এবং খারাপ আমল করা, উভয়ের মাঝে একটি আবশ্যক ও একমুখী সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করেছেন রাসুলে কারিম -এর বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ । যিনি নববি পাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, 'যার আশা অনেক দীর্ঘ হয়, তার আমল মন্দ হয়।'
সুতরাং যখনই এমন কাউকে দেখবে, যে আমলে ত্রুটি করে, আল্লাহর হক আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শন করে, মনে করবে যে, তার অন্তরের মধ্যে মৃত্যুর স্মরণ নেই। এভাবে যখন কারও অবাধ্যতা আর সীমালঙ্ঘন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়, তখন তার আশা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে।

📘 সময়ের সঠিক ব্যবহার কীভাবে করবেন > 📄 ‘হে প্রভু, একটু সময় দিন’

📄 ‘হে প্রভু, একটু সময় দিন’


মালিক, আমাকে একটু সুযোগ দিন। আমি দুনিয়াতে ফিরে যাব। আপনাকে সিজদা করব। আপনার কাছে মাথা নত করব। রুকু করব। আমার অতীতের পাপগুলোর জন্য আপনার কাছে অশ্রুসজল চোখে প্রার্থনা করব। ক্ষমা চাইব আপনার দরবারে। মায়ের কদমে চুম্বন করব, জীবনভর যার অবাধ্যতাই করে আসলাম। বাবার হাত ধরে ক্ষমা চাইব, দুনিয়াতে যার সাথে ভালো আচরণ করিনি। হে প্রভু, আমাকে একটু সুযোগ দিন। দুনিয়াতে গিয়ে ভালো কাজ করব। সত্যকে সাহায্য করব।
হে আল্লাহ, সেই সময়গুলো থেকে একটু সময় দিন, দুনিয়াতে যেই সময়গুলো নষ্ট করে এসেছি আমার কামনাবাসনা চরিতার্থের জন্য এবং শয়তান ও আমার কুপ্রবৃত্তির অনুসরণে।
হায়...! বহু মৃত লোক এই আশা ব্যক্ত করেই যাবে আর আগুনের মধ্যে পাক খেতে থাকবে, গরম পানিতে সিদ্ধ হতে থাকবে। হে ভাগ্যবান যুবক, তুমি এখনো অবকাশের মধ্যেই রয়েছ। এখনো তোমার সময় আছে। সুতরাং কখন তুমি রবের দরবারে কান্না করবে?
হে ভাই, তুমি এখনো বহু মানুষের আশার কেন্দ্রস্থলে আছ। কত মৃত লোক একটি মাত্র মুহূর্তের জন্য আল্লাহর কাছে জীবন ভিক্ষা চাইবে। কিন্তু তারা সে সুযোগ পাবে না। অথচ তুমি এমন মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে আল্লাহর অবাধ্যতায় অতিবাহিত করে যাচ্ছ। শুধু মুহূর্তই নয়; বরং একেকটি ঘণ্টা, দিন, মাস ও বছরকে তুমি অযথা নষ্ট করে দিচ্ছ। কখন তুমি চেতনা ফিরে পাবে?!
হে ভাই, এখনো কি আল্লাহ তাআলার সেই বাণীর মর্ম অনুধাবন করোনি? তিনি ইরশাদ করেছেন:
وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ
'আর তাদের ও তারা যা আকাঙ্ক্ষা করে, তার মাঝে আড়াল করে দেওয়া হবে।' ৫
হে আমার ভাই, সেই মহান সত্তাকে ভুলে যেয়ো না—যিনি তোমার সাক্ষাতের জন্য তোমার প্রতিটি নিশ্বাসকে গণনা করছেন। কবি বলেন:
'জীবন তো কেবল একটি রাত মাত্র। যার পরে আবার দিন আসে এবং দিনের পরে দিন আর মাসের পরে মাস আসে।
এই সময়গুলো একটি আরোহণযোগ্য বাহনের মতো। যেগুলো নতুন নতুন প্রাণগুলোকে ধীরে ধীরে পুরাতন করে দিচ্ছে, সুস্থ সবল মানুষের দেহের অংশগুলোকে কবরের কাছাকাছি করে দিচ্ছে।
সময় সকলকেই ক্রমান্বয়ে নিয়ে যায়, আবার কাউকে রেখে যায় অন্যের জন্য, আর তারা এমনভাবে বণ্টন করে যায়, যাতে কেউ বাদ না পড়ে।'

**টিকাঃ**
৫. সুরা সাবা: ৫৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00