📄 দায়িত্ব অনেক বেশি
এতে সন্দেহ নেই যে, একজন মানুষের ওপর অনেকগুলো দায়িত্ব থাকে—নিজের, বাবা-মার, স্ত্রীর, সন্তানসন্ততির, পাড়া-প্রতিবেশীর, চাকর-চাকরানির। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে এসব দায়িত্ব পালনের মাঝে ডুবে থাকতে হয়। আবার যখন এই সময়ের সাথে তার দৈনন্দিনের জীবিকা অন্বেষণের জন্য ব্যয়িত দীর্ঘ সময়কে যুক্ত করা হবে, তখন সময় আরও সংকীর্ণ হয়ে যাবে। জীবিকার জন্যই সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। এ জন্যই সময়ের মূল্য অনেক বেশি।
একদা কিছু লোক উমর বিন আব্দুল আজিজ -এর নিকট এল। খিলাফতের গুরুদায়িত্ব ও উম্মাহর চিন্তা তাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। তারা তার নিকট এসে বলল, 'নিজের বোঝাটা কিছুটা হালকা করে নিন।' তিনি তাদের বললেন, 'তাহলে আমার আজকের দিনের কাজগুলো কে করে দেবে?' তারা বলল, 'আগামীকাল সেগুলো আপনি করে নেবেন।' তিনি বললেন, 'একদিনের কাজ আদায় করতে করতেই আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি। তাহলে দুদিনের কাজ একত্রিত হলে আমার কী অবস্থা হবে?!'
📄 ‘মৃতদের কথা শোনো’
এমন একজন ব্যক্তির কথা বলছি, যিনি মৃত্যুর পরেও আমাদের উপদেশ দিয়েছেন এবং সঠিক পথের দিশা দিয়ে পুণ্যে অংশীদার হয়েছেন, তিনি হলেন আবু মুহাম্মাদ জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-আব্বাসি। তিনি ৫৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইনতিকালের আগে অসিয়ত করেছেন যে, তার কবরের ওপর যেন এই কথাটি লিখে দেওয়া হয়, 'অনেক প্রয়োজন অপূরণীয় রয়ে গেছে। অনেক আশা বাস্তবায়িত হয়নি। অনেক মানুষ আক্ষেপ করে মারা গেছে।'
(আজ তুমি তোমার লক্ষ্যগুলোর মধ্য হতে কয়টি বাস্তবায়ন করেছ?)
📄 সফরের সময় ঘনিয়ে এসেছে
যখন মানুষ দুনিয়া থেকে পরপারের পথে যাত্রা করবে, দুনিয়া অতীত হয়ে যাবে এবং সে আখিরাতের মুখোমুখি হবে, তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি তাকে সামান্য সুযোগ দেওয়া হতো! তাহলে দুনিয়ায় যে সময়গুলো সে নষ্ট করেছে, সেগুলোকে সে পরিশুদ্ধ করে নিত এবং যেগুলো ছেড়ে এসেছে, সেগুলো অর্জন করে নিত। কিন্তু না! তা কখনোই সম্ভব নয়। সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন-উত্তরের পালা। অচেতনতার সময় শেষ, সচেতন হওয়ার সময় শুরু। তাই মানুষ যদি এই বিষয়গুলো চিন্তা করে, তাহলে তার দীর্ঘ আশাগুলো সংকুচিত হয়ে আসবে, সময়ের প্রতি যত্নবান হবে। তাই কবি বলেন :
'অবসর সময়ে নফল সালাতের প্রতি গুরুত্ব দাও, হতে পারে সহসা তোমার মৃত্যু উপস্থিত হবে।
কত সুস্থ লোককে দেখেছি, কোনো রোগব্যাধি ছাড়াই তার প্রিয় আত্মা বের হয়ে গেছে।'
হে ভাই, তোমার একটি দিনের একটি মুহূর্ত চলে যাওয়ার মানে হলো, তোমার জন্য নির্ধারিত আয়ুর একটি অংশ অতিবাহিত হয়ে গেছে। কবি বলেন :
'যেদিন তুমি দোলনায় ছিলে, সেদিন থেকেই আমি তোমাকে অপূর্ণতায় দেখছি, তখন থেকেই তোমার একেকটি মুহূর্ত তোমাকে কবরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।'
হ্যাঁ! বাস্তবতা এমনই। আমাদের একেকটি নিশ্বাস আমাদের মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা জানিও না, সেই মৃত্যু আমাদের কখন সংঘটিত হবে? সুতরাং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার কাজ কি এই নয় যে, হঠাৎ করে মৃত্যু গ্রাস করার পূর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। একদিন উমর বিন আব্দুল আজিজ লোকজনকে নিয়ে এক জায়গায় বসা ছিলেন। যখন দ্বিপ্রহর হলো, তখন তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন এবং বিরক্তিবোধ করলেন। তাই উপস্থিত লোকজনকে বললেন, 'আমি আসা পর্যন্ত আপনারা এখানেই অবস্থান করবেন।' অতঃপর তিনি তার ঘরে প্রবেশ করলেন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। এমন সময় তার ছেলে আব্দুল মালিক এসে উপস্থিত লোকজনকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, 'তিনি ঘরের ভেতরে গিয়েছেন।' অতঃপর তিনি অনুমতি চেয়ে বাবার কাছে প্রবেশ করে বললেন, 'হে আমিরুল মুমিনিন, কেন আপনি ঘরে প্রবেশ করেছেন?' তিনি বললেন, 'কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে এসেছি।' ছেলে বলল, 'আপনি এখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন আর প্রজারা বাইরে আপনার অপেক্ষায় আছে, আপনি কি নিশ্চিত যে, এই অবস্থায় আপনার মৃত্যু আসবে না?!' সাথে সাথে উমর বিন আব্দুল আজিজ দাঁড়িয়ে গেলেন এবং মানুষের কাছে চলে গেলেন।
📄 ‘বস্তু ও তার ছায়া’
দীর্ঘ আশা করা এবং খারাপ আমল করা, উভয়ের মাঝে একটি আবশ্যক ও একমুখী সম্পর্ক রয়েছে। এই বিষয়টি ভালোভাবে অনুধাবন করেছেন রাসুলে কারিম -এর বিশিষ্ট সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ । যিনি নববি পাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, 'যার আশা অনেক দীর্ঘ হয়, তার আমল মন্দ হয়।'
সুতরাং যখনই এমন কাউকে দেখবে, যে আমলে ত্রুটি করে, আল্লাহর হক আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শন করে, মনে করবে যে, তার অন্তরের মধ্যে মৃত্যুর স্মরণ নেই। এভাবে যখন কারও অবাধ্যতা আর সীমালঙ্ঘন সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়, তখন তার আশা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হতে থাকে।