📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 জীবনকে ধারণ নয় ‘যাপন’ কর

📄 জীবনকে ধারণ নয় ‘যাপন’ কর


প্রকৃতপক্ষে মানুষ তার জীবনকে যে পরিমাণ ধারণ করে তার অতি সামান্যই সে ‘যাপন’ করে। বলা যায়, যেভাবে জীবনকে যাপন করা উচিৎ তার এক দশমাংশও সে করে না। না শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে, আর না স্বাস্থ্য ও অর্থ-সম্পদের ক্ষেত্রে। বাকী অংশগুলো তারা অনর্থক ব্যয় করে। অবহেলা অলসতায়, খেল-তামাশা বা গাল-গল্পে নষ্ট করে।
আমার তো মনে হয়, যথাযথভাবে সময়কে (তাদের) মূল্যায়ন না করা এবং জীবনকে যেভাবে যাপন করা উচিৎ সেভাবে যাপন না করার কারণ হল- সময়ের সঠিক ব্যবহার ও তাকে ভালো কাজে পূর্ণ করে রাখার এবং শরীয়ত ও বিবেকের মাপকাঠিতে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার পন্থা ও পদ্ধতি তারা জানে না। (উস্তায আহমদ আমীনের বক্তব্য সমাপ্ত হল)

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 সময়ই তো জীবন

📄 সময়ই তো জীবন


উস্তায হাসানুল বান্না র. الوقت هو الحياة (সময়ই জীবন) শিরোনামের একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, “বলা হয়ে থাকে, সময় হল স্বর্ণখণ্ড কিংবা অমূল্য রত্ন। কিন্তু একথাটি তাদের জন্য যারা বস্তুগত মূল্য ছাড়া কোন কিছুকে মূল্যায়ন করতে জানে না।
তবে যাদের দৃষ্টি এর চেয়েও দূরে, এর চেয়েও ভিন্ন তাদের জন্য বলা যায়, সময় তো তোমার জীবনকাল ছাড়া অন্য কিছু নয়। বলো তো ভাই! তোমার জীবনটা কী, শুধু জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে কেটে যাওয়া সময়টুকু ছাড়া?
ধন-সম্পদ তো এই আসে, এই ফুরিয়ে যায়, এরপরও মানুষ যে ধন-সম্পদ হারায় তার বহুগুণ অর্জন করতে পারে। কিন্তু সময় সম্পদ থেকে যা ফুরিয়ে যায় এবং হারিয়ে যায়, তা কি কখনো ফিরে আসে? তার কি কখনো পুনরাবৃত্তি ঘটে? নিশ্চয় না। সুতরাং একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় সময় স্বর্ণের চেয়েও দামী, হীরার চেয়েও মূল্যবান। কেননা, সময়ের সীমিত পরিধিতেই বেষ্টিত মানবজীবন।
সফলতা শুধু সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও অনুকূল পরিস্থিতির মাধ্যমেই আসে না। বরং তা উপযোগী মুহূর্তের উপরও নির্ভর করে। তাই তো পূর্ববর্তী মনীষীগণের জীবনীতে আমরা দেখতে পাই, তাঁরা যেমন ত্বরিত ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতেন। তেমনি বিরত থাকতেন বিলম্বিত সিদ্ধান্ত থেকেও, বরং সঠিক ও উপযোগী সময়ের প্রতিই লক্ষ রাখতেন। আর সফলতা তো সঠিক ও উপযুক্ত মুহূর্তে কাজ করার মাঝেই নিহিত।
এই মুনাছিব ও উপযুক্ত মুহূর্তের প্রতি লক্ষ না রাখার এবং তা উদঘাটনে গভীরভারে চিন্তায় মনোনিবেশ না করার কারনেই মানুষ ব্যর্থতা, হতাশা ও ক্ষতিগ্রস্ততার সম্মুখীন হয়। তাদেরকেই (কুরআনে) বলা হয়েছে, গাফেল ও উদাসীন। বলা হয়েছে, পশুর চেয়েও অধম।
وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿
অর্থ : আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু আছে, কিন্তু তা দ্বারা দেখে না এবং তাদের কর্ণ আছে, তা দ্বারা শ্রবণ করে না; এরা পশুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফিল। -সূরা আ'রাফ : ১৭৯
সময় সংরক্ষণের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতইনা সুন্দর বলেছেন-
ما من يوم ينشق فجره إلا وينادى : يا ابن آدم! أنا خلق جديد، وعلى عملك شهيد، فتزود منى، فإنى لا أعود إلى يوم القيامة
অর্থ : প্রতিদিন যখন প্রভাত উদিত হয় তখন সে আহ্বান করে বলে, হে আদম সন্তান! আমি এক নতুন সৃষ্টি এবং তোমার কর্মের সাক্ষী। সুতরাং তুমি আমার থেকে পাথেয় গ্রহণে ব্রতী হও। কেননা, কেয়ামত পর্যন্ত আমি আর কখনো ফিরে আসব না।
প্রায় একই অর্থের আরেকটি হাদীছ-
ما من يوم طلعت شمسه إلا يقول : من استطاع أن يعمل في خيرا فليعمله، فإني غير مكرر عليكم أبدا
অর্থ : প্রতিদিন যখন সূর্য উদিত হয় তখন তা বলে, যে আমার মধ্যে কল্যাণকাজ করতে পারে, সে যেন তা করে নেয়। কেননা, তোমাদের কাছে কখনো আমার পুনরাগমন ঘটবে না।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 অবশেষে তোমাকে বলছি বন্ধু

📄 অবশেষে তোমাকে বলছি বন্ধু


আমাদের উল্লিখিত সব ঘটনা এবং সুদীর্ঘ আলোচনার পর এখন তো নিশ্চয় তুমি একথা স্বীকার করে নেবে যে সময়ের চেয়ে দামী, তার চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই; এবং কিছুই হতে পারে না।
আর জেনে রাখ-বন্ধু! সময় কিন্তু সর্বক্ষণ এক রকম হয় না, তার কল্যাণধারা ও দানপ্রবাহ এক রকম থাকে না। ফলে সুখ-সৌভাগ্যের তারতম্যেও পরিবর্তন ঘটে।
তাই তো দেখা যায়, কোন কোন সময় অন্য সময় থেকে অধিক কল্যাণপ্রসূ, কোন দিন অন্যদিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাপূর্ণ এবং কোন মাস অন্য মাসের চে' অধিক সম্মানিত। কবির ভাষায়:
هو الجد حتى تفضل العين أختها * وحتى يكون اليوم لليوم سيدا
অর্থ: আর তা হল নসীব, এমন কি তোমার এক চোখ অন্য চোখের চেয়ে উৎকৃষ্ট এবং এক দিন আরেক দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর উম্মতকে বার বার সতর্ক করেছেন, বহু হাদীছে উল্লেখ করেছেন সময়ের সদ্ব্যহারের কথা এবং তা থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়ার পন্থা। যেমন ইঙ্গিতার্থে এক হাদীছে বলেন,
المؤمن بين مخافتين : بين عاجل قد مضى، لا يدرى ما الله صانع فيه، وبين أجل قد بقى لا يدرى ما الله قاض فيه
অর্থ: মু'মিন দুই শঙ্কাকালের মাঝে থাকে। একটি কাল হল যা অতিবাহিত হয়েছে (তথা, বিগতকাল), কিন্তু সে জানে না- সে ব্যাপারে আল্লাহ কী করবেন, অন্যটি হল ভবিষ্যতকাল), আর সে জানে না আল্লাহ তাতে কী ফায়সালা করবেন।
তাই প্রত্যেকের উচিৎ নিজের উপকারার্থে নিজের থেকে কাজ আদায় করে নেয়া, এবং আখেরাতের ফসলের জন্যে দুনিয়ার শস্যক্ষেত্রে শ্রম দিয়ে যাওয়া। বার্ধক্যের পূর্বেই তারুণ্য ও যৌবন থেকে সাধনা-সম্পদ অর্জনে ব্রতী হওয়া এবং মৃত্যুর পূর্বেই জীবনকে, তথা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ সময়কে মূল্যায়ন করা।
প্রিয় পাঠক! বার বার একই কথা বলে যাচ্ছি, একই পথে আহ্বান করে চলছি- তোমার জীবনকে উপলব্ধি কর, সময়কে মূল্যায়ন কর। তা তো ধারালো তরবারির মত। তুমি তাকে না কাটলে, নিশ্চিতভাবে সে তোমাকে কেটে ফেলবে। আর কালক্ষেপণ ও দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার কর। এরচে' ক্ষতির কিছুই নেই। আর, ................... আর আল্লাহর কাছে মকবুল কাজের এবং ফযিলতপূর্ণ সময়ের তাওফীক কামনা কর।
প্রিয় পাঠক! আল্লাহ আমাদের সকলকে সময়ের হেফাযত এবং সময়কে ইলমে নাফে' ও আমলে ছালেহ্ দ্বারা পূর্ণ রাখার তাওফীক দান করুন। আর আমাদেরকে তাঁদের দলে শামিল করুন, যাঁরা সময়ের মূল্য বোঝে এবং জীবনের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করে ফলে তারা নিজেদেরকে প্রতারিত করে না, এবং দেশ ও জাতিকেও প্রতারিত করে না। আর তারাই সুপথপ্রাপ্ত।
تم بعون الله .

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00