📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 অবসর যেন বিবেক নিয়ন্ত্রিত হয়

📄 অবসর যেন বিবেক নিয়ন্ত্রিত হয়


সময়ের হেফাযত ও মূল্যায়ন বলতে আমি একথা বুঝাচ্ছিনা যে, তোমরা সব সময়ই কাজ আর কাজ করে যাবে, গোটা জীবনই শুধু মেহনত আর সাধনা করে যাবে, সেখানে থাকবে না কোন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আর না থাকবে কোন বিশ্রাম ও আনন্দ। তা হবে একেবারে শুষ্ক, কঠোর, যেন কোন গোমড়ামুখ, যাতে না আছে হাসির চিহ্ন, না আছে কোন খুশী-আনন্দ। বরং আমি বলতে চাচ্ছি, তোমাদের জীবনে কাজের সময়ের চেয়ে যেন অবসর সময় বেশী হয়ে না যায়। আর কর্মশূন্য সময় যেন কর্মপূর্ণ সময়ের উপর প্রভাব বিস্তার করে না ফেলে এবং প্রাধান্য প্রাপ্ত হয়ে না যায়। এমন যেন না হয় যে, অবসর সময়টাই জীবনের মূল ও সারাংশে পরিণত হয়ে বসেছে আর কর্মময় সময় হয়ে গেছে প্রাসঙ্গিক বা পার্শ্ব বিষয়।
আমার তো মন চায় আরেকটু বাড়িয়ে এ পর্যন্ত বলি যে, তোমাদের অবসর সময়গুলো যেন কর্মময় সময়ের মত বিবেক নিয়ন্ত্রিত হয়, আকল-বুদ্ধি দিয়ে পরিচালিত হয়। উদাহরণ দিয়েই বিষয়টি সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করছি। যেমন ধর, আমরা কাজের ক্ষেত্রে কোন না কোন লক্ষ্য নির্ধারণ করি এবং কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই কাজ করি। তেমনি ভাবে অবসর ও কর্মহীন সময়গুলোও যেন কোন না কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য, উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় হয়। যেমন, শারীরিক সুস্থতা অর্জনের জন্য শরীরচর্চামূলক বৈধ খেলাধুলা বা মানসিক তৃপ্তির জন্য কোন ইলমী মুতালা'আ কিংবা রূহানী খোরাকের জন্য কুরআন তেলাওয়াত, হাদীছ অধ্যয়ন বা নফল ইবাদত বন্দেগী ইত্যাদিতে মগ্ন থাকা। অর্থাৎ কোন একটা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যেন তোমার অবসর সময়টা কাটে। অবসর মানে একেবারেই হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা, এমনটা যেন না হয়। অবসরেই যেন মনের শান্তি ও দেহের তৃপ্তির মত কোন কাজ করে ফেলা হয়। অবসর যেন একবারে ফায়দাশূন্য না হয়। অন্যথায় তোমার অবসর যাপন হবে সময় নষ্ট করা; বরং বলা যায় সময়কে 'হত্যা' করা। আর সেটা তো কখনো বৈধ হতে পারে না। কেননা, এই সময়ই তো তোমার জীবন। তাহলে সময়কে হত্যা করা তো জীবন হত্যা, বরং আত্মহত্যারই নামান্তর।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 রুচি ও অভ্যাসের পরিবর্তন সম্ভব

📄 রুচি ও অভ্যাসের পরিবর্তন সম্ভব


যারা দীর্ঘ সময় দাবা, পাশা ও অন্যান্য শরীয়ত নিষিদ্ধ ক্রীড়া বিনোদনে লিপ্ত থাকে, এমনিভাবে যারা চা পানের দোকানে, যেখানে সেখানে অহেতুক সময় অতিবাহিত করে থাকে, তাদের এই কাজ তো কখনো বিবেক-সম্মত হতে পারে না। তাদের এসব অবস্থা বিবেক তো কখনো অনুমোদন করতে পারে না। এসবের মাধ্যমে সময়কে বধ ও বরবাদ করা ছাড়া তো আর কোন উদ্দেশ্য হতে পারে না। হায়! মনে হয়, সময় যেন তাদের শত্রু।
এই সমস্যার সমাধান এবং এই রোগের চিকিৎসা এভাবে হতে পারে যে, প্রথমতঃ মনে এই বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে এবং তাকে দৃঢ়ভাবে লালন করতে হবে যে, মানুষ সচেষ্ট হলে তার পছন্দ ও অপছন্দের পথ ও বিষয় যেভাবে ও যেদিকে ইচ্ছা পরিবর্তন করতে পারে এবং সে তার শওক ও আগ্রহকেও যে পথে ইচ্ছা চালাতে পারে। তাহলে সে নিজেকে এমন সব বিষয়ে এবং কাজে অভ্যস্ত করে তুলতে পারে যার প্রতি ইতোপূর্বে সে আগ্রহী ছিল না। তেমনিভাবে এমন বিষয় ও কাজকে অপছন্দ ও ঘৃণা করতে পারে, যাকে সে আগে পছন্দ করত এবং স্বাচ্ছন্দ্যে গ্রহণ করত।
তাই বলা যেতে পারে, যদি তার মনোবল দৃঢ় হয়, ইচ্ছা শক্তি প্রবল হয়, তবে সে অবসর সময়গুলোকে তার সুস্থতা, বুদ্ধিমত্তা বা ধার্মিকতার উৎকর্ষ সাধনের মত হিতকর কাজে ব্যয়ে অভ্যস্ত হতে পারে। যদিও সে ও তার মন ইতোপূর্বে এতে অভ্যস্ত ছিল না।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 একটি ভ্রান্ত ধারণা

📄 একটি ভ্রান্ত ধারণা


প্রসঙ্গতঃ একটি কথা বড় আফসোসের সাথে বলতে হয়, অধিকাংশ মানুষ এখন মনে করে, বরং বলা যায় বিশ্বাস করে যে, অসার গল্প-উপন্যাস এবং মানহীন পত্র-পত্রিকা ইত্যাদির পঠনই জ্ঞান আহরণের জন্য যথেষ্ট। ফলে শিক্ষানবিশরা সেগুলো অবাধে গলাধঃকরণ করছে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক তৃপ্তির জন্য সেগুলোকেই উপযোগী ও যথেষ্ট মনে করছে। কিন্তু ফল হচ্ছে হিতে বিপরীত। কিন্তু এ সকল বিষয়বস্তু তো তাদের মন-মস্তিষ্ককে অবশ ও বিবশ করে দেয় এবং তাদের যৌনানুভূতিকে সজাগ করে। ফলে তারা হয়ে পড়ছে আরও অশান্ত ও উশৃঙ্খল।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 ছাত্রকে ভাবতে হবে

📄 ছাত্রকে ভাবতে হবে


আমার তো বিশ্বাস, সামান্য ধৈর্য ও সহনশীলতা এবং ইচ্ছাশক্তির একটু দৃঢ়তা একজন ছাত্রকে নিরবচ্ছিন্ন পঠন ও উপকারী অধ্যয়নে আগ্রহী করে তুলতে পারে। আর প্রতিটি শিক্ষার্থীই সক্ষম- নিজের ইচ্ছা শক্তিকে আন্দোলিত করতে, নিজের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করতে এবং জ্ঞানের কোন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ কোন ভূমিকা রাখার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে। চাই তা সাহিত্য, প্রকৌশল বা প্রাণীবিদ্যা হোক, কিংবা হোক কোন যুগের ইতিহাস বা অন্য কোন শাস্ত্র। ইচ্ছা শক্তি ও আভ্যন্তরীণ আন্দোলনে সে এসকল বিষয়ে ব্যাপক অধ্যয়নে ব্রতী হবে, তার গভীরে পৌঁছার চেষ্টা করবে এবং দিনের একটা নির্ধারিত অংশে নিয়মিত সে বিষয়ের সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে। আর এসব কাজে সব সময় নিজেকে আগ্রহী ও উদ্দীপ্ত রাখার চেষ্টা করবে।
তাকে নিজের মাঝে বিভিন্ন ভাবনা জাগরুক রাখতে হবে, যা হবে তার চালিকা শক্তি। তাকে ভাবতে হবে যে, সে এখন ভিন্ন এক মানুষ, তার রয়েছে বিশেষ এক শক্তি, সম্মানিত এক ব্যক্তিত্ব। সে এখন নিজের জন্য, স্বজাতির জন্য এবং প্রজন্মের জন্য উপকারী ও কল্যাণকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
এ পথে তাকে ভাবতে হবে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখায় এ জাতি তার সন্তানদের দ্বারা সমৃদ্ধ। সুতরাং জীবনের কোন ক্ষেত্রে বা জ্ঞানের কোন পথে কেউ বিশেষ জ্ঞান ও উৎকর্ষ কামনা করলে সে তাঁদের কারো উপর ভরসা করতে পারে। তাঁদের জীবনী ও জ্ঞান-ভাণ্ডার থেকে পথের দিশা ও পাথেয় সংগ্রহ করতে পারে।
তাছাড়া জ্ঞানীদের মজলিসে নানাবিধ ইলমী, আমলী ও আখলাকী আলোচনা হয়। তখন বহু মূল্যবান কথা-বার্তা বেরিয়ে আসে, বহু উন্নত চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ পায় এবং একে অন্য থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। ফলে জীবন সজীব ও সমুজ্জ্বল হয়। সে তাঁদের মজলিস থেকে মূল্যবান মণি-মাণিক্য লাভ করতে পারে।
এছাড়াও এখন তো শিক্ষা-সংস্কৃতি অনেক উন্নত হয়েছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান অনেক ব্যাপকতা লাভ করছে, জীবন ও জীবন-যাত্রার মানে বহু উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। এখন কেন সে পারবে না তাঁদের মত হতে। পৃথিবীকে জ্ঞান ও কর্মের নতুন নতুন ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিতে!!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00