📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 সালাফের জীবনী অধ্যয়ন কর

📄 সালাফের জীবনী অধ্যয়ন কর


বিচক্ষণ আলেম বিজ্ঞ কবি ও সাহিত্যিক আব্বাস ইবন হাসান আলাভী র. এক মূল্যবান নছীহতে একথার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। আমি তাঁর পুরো উপদেশ বাণীটিই এখানে উল্লেখ করা পাঠকের জন্য ভাল ও উপকারী মনে করছি। কেননা, তাতে রয়েছে সূক্ষ্ম-গভীর চিন্তার নির্যাস এবং আগ্রহীদের জন্য জ্ঞানের মূল্যবান খোরাক।
তিনি বলেন, "জেনে রাখ, তোমার মেধা ও মস্তিষ্ক জ্ঞানের সকল শাখা, এমনকি কোন একটি শাখার সকল প্রশাখাকেও পরিবেষ্টন করতে পারবে না। তাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ ও অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়েই ব্যস্ত রাখ। কেননা, গুরুত্বহীন ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে মস্তিষ্ককে তুমি যতটা সক্রিয় করবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ততই অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হবে।
আর তোমার ধন-সম্পদ সকল মানুষকে অভাবমুক্ত করে দিতে পারবে না। তাই শুধু হক্বপন্থীদের জন্যই তা ব্যয় কর। কেননা, যখন তুমি সম্পদকে অন্যায় পথে ও অসৎ জনে ব্যয় করবে, তখন সৎপথে ও সৎজনের জন্য ব্যয় করতে চাইলেও তুমি তা পাবে না।
আর তোমার সম্মান-মর্যাদা সাধারণ-অসাধারণ নির্বিশেষে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে না। শাব্দিক অর্থেই সবাই তোমার মর্যাদা বুঝবে না এবং তোমাকে সম্মান করবে না। সুতরাং তুমি শুধু গুণবান ও মর্যাদাবানদের থেকেই তা কামনা কর। কেননা যখন তুমি হীন ও নীচ লোকদের থেকে সম্মান ও মর্যাদা কামনা করবে তখন গুণবান ও মর্যাদাবানদের কাছে তোমার অবস্থান হারাবে।
আর দিন-রাত্রিতে তুমি যদি অবিরাম পরিশ্রম করে চল, অধ্যবসায়ী হয়ে কাজে আত্মনিয়োগ কর তবুও তোমার প্রয়োজন পূর্ণ হবে না, কাজ ফুরোবে না। তাই কাজ ও সহনীয়তার মাঝেই দিন-রাতকে ভাগ করে নাও এবং প্রয়োজনীয় কাজেই মশগুল থাক। কেননা, যখন তুমি অপ্রয়োজনীয় কাজে মশগুল থাকবে তখন স্বভাবতই প্রয়োজনীয় কাজ তোমার হাতছাড়া হবে।"
এ হল পূর্ববর্তী ইমাম ও আলিমদের চিন্তা ও চেতনা, তাঁদের ভাব ও ভাবনা এবং সময়ের ব্যাপারে তাঁদের মূল্য ও মূল্যায়নের কতক খণ্ডচিত্র। বরং বলা ভাল, তাদের বহুজন থেকে অল্প ক'জনের জীবনের সামান্য অংশের উপর একটি ত্বরিত দৃষ্টি মাত্র। সবার কৃতিত্ব ও গুণাবলীর উল্লেখ করা হলে তো এটি শত খণ্ডের বিশাল গ্রন্থে পরিণত হবে এবং এর রচনায় একাধিক জীবনকালের প্রয়োজন হবে। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা তো ছিলেন ইসলামের গৌরব, বরং সমগ্র মানবজাতি ও মানবতার গৌরব। কবি কত সুন্দর করে বলেছেন,
أولئك قوم شيَّد الله فخرهم فما فوقه فخر وإن عظم الفخر
অর্থ : আল্লাহ তাঁদের গৌরবকে করেছেন সুদৃঢ় ও সমুন্নত/এর ঊর্ধ্বে নেই কোন গৌরব, হোক না তা বিশাল ব্যাপ্ত। .....
যৎসামান্য আলোচনায় যা কিছু উল্লেখ করা হল এরপর তো আর পাঠকের আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, যদি তিনি শোনেন যে, অমুক আলেম শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন বা অমুকের রচনা-সম্ভার জ্ঞানের সকল বিষয়ের আলোচনায় যথেষ্ট সমৃদ্ধ কিংবা এ জাতীয় কিছু। এ ধরনের কর্ম-কীর্তি বা বক্তব্যকে অসম্ভব মনে করারও কিছু নেই। কেননা, এর হেতু বা কারণ, উপায় ও উপকরণ তো জানা হয়ে গেছে- তাঁরা সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন, অহেতুক অনর্থক কাজ থেকে বিরত থেকেছেন, জীবনের সংক্ষিপ্ততা ও সময়ের গতিধারা সম্পর্কেও সজাগ থেকেছেন। প্রতিটি ঘণ্টা-মিনিট, এমনকি প্রতিটি মুহূর্তের ক্ষেত্রে তাঁরা প্রতিযোগিতা করেছেন। ফলে এ সকল মহা কীর্তি ও স্মরণীয় কর্ম তাঁরা আঞ্জাম দিতে পেরেছেন। ........
উস্তায জামীলুল আ'জম দামেস্কী ر. (মৃত্যু-১৩৫২ হিজরী) একটি কিতাব লিখেন, যার নাম عقود الجوهر في تراجم من لهم خمسون تصنيفا فمئة فأكثر এতে তিনি এমন বহু ওলামায়ে কেরামের কথা উল্লেখ করেন যাঁরা বহু গ্রন্থ রচয়িতা হিসেবে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ। যেমন ইবন জারীর তাবারী, ইবনুল জাওযী, ইমাম নববী, ইবন সীনা, ইমাম গাযালী, ইবন হাজার আসকালানী, বদরুল আইনী, সুয়ূতী, ইবন তাইমিয়া, ইবনুল কায়্যিম, আলী ক্বারী, শায়খ মুনাভী, আব্দুল গণী নাবলুসী, আব্দুল হাই লাখনুভীসহ আরও অনেকের- যাদের প্রত্যেকেরই গ্রন্থ সংখ্যা পঞ্চাশ বা একশ'র উপরে- তাঁদের জীবনী বা জীবনীর অংশ বিশেষ উল্লেখ করেন। এ ধরনের গ্রন্থ ও এ জাতীয় মনীষীদের জীবনী যখন কেউ পড়বে তখন স্বভাবতই তা তাকে উদ্বুদ্ধ করবে সময়ের মূল্য উপলব্ধি করণে এবং তার যথাযথ মূল্যায়নে। পাঠক যদি দৃঢ় মনোবল ও কঠিন সংকল্পের অধিকারী হন তবে- আল্লাহ চান তো- তিনিও তাঁদের কাতারে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন, তাঁদের দলে শামিল হতে পারেন। তিনিও রেখে যেতে পারেন ত্রিশ, চল্লিশ বা পঞ্চাশের অধিক গ্রন্থ।
ويزيد الله في الخلق ما يشاء، ويختص برحمته من يشاء والله واسع عليم -
(তরজমা: আল্লাহ সৃষ্টির মাঝে যা ইচ্ছা বৃদ্ধি ঘটান এবং যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত দ্বারা বিশেষিত করেন। আর তিনি তো মহা দানশীল ও মহাজ্ঞানী।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00