📄 সহস্রাধিক গ্রন্থের প্রণেতা
এর চেয়েও আশ্চর্য হল শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যা আবুল আব্বাস আহমদ ইবন আবদুল হালীম দামেস্কী র. (৬৬১-৭২৮ হিজরী) এর অবস্থা। যাঁর জীবনকাল ছিল মাত্র সাতান্ন বছর। তবে কিতাব রচনা করেছেন পাঁচশ' জিলদ এরও অধিক। এক মুহূর্ত সময়ও তাঁর তা'লীম, তাছনীফ কিংবা ইবাদত-বন্দেগী ছাড়া কাটতো না। যার ফল হয়েছিল, শত শত খণ্ডের কিতাব, যা তাঁর কোন ছাত্র বা অনুসারীদের পক্ষে একত্র করাও সম্ভব হয়নি।
ইবন শাকের তার فوات الوفيات গ্রন্থে লিখেন, ইবন তাইমিয়্যার গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় তিনশ'। তবে হাফেয যাহাবী র. লিখেন এ যাবৎ প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় পাঁচশ'।
তাঁর (ইবন তাইমিয়্যার) শাগরিদ ইবনুল কাইয়্যিম র. তাঁর কিতাবগুলোর নামের একটি সূচী তৈরী করেছেন। যাতে তিনি প্রায় সাড়ে তিনশ' কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন।
ইবনুল কাইয়্যিম র. الوابل الصيب من الكلم الطيب গ্রন্থে যিকিরের বহু ফায়দা ও উপকারিতা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে একষট্টিতম ফায়দা হল, তা 'যাকের' তথা যিকিরকারীকে অলৌকিক এক শক্তি ও ক্ষমতা দান করে। ফলে যিকিরে সময় ব্যয় হওয়া সত্ত্বেও তার দ্বারা এমন এমন কাজ হয় যা অন্য কেউ কল্পনাও করতে পারে না।
এরপর তিনি লিখেন- শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যার মধ্যে আমি সেই শক্তি ও ক্ষমতার আশ্চর্যরকম প্রকাশ দেখেছি। আমি তা দেখেছি তাঁর রীতি ও অভ্যাসে, আচরণে ও উচ্চারণে এবং সাহসিকতা ও পদক্ষেপ গ্রহণে। আর দেখেছি তাঁর লিখনীতে। তিনি একদিনে যে পরিমাণ লিখতেন তা অনুলিপিকারীর লিখতে লাগত এক সপ্তাহ কিংবা তারচে' বেশী সময়।
প্রিয় পাঠক! এ হল মাত্র একজন আলেমের পরিশ্রমের ফসল এবং সময়ের সদ্ব্যবহারের পরিণতি। কেউ কেউ তো একথাও বলেছেন যে, কোন মানুষের পক্ষে তাঁর সকল গ্রন্থ পড়ে শেষ করা সম্ভব নয়। আর আমার মতে এটা মোটেও অত্যুক্তি নয়।