📄 সময় বাঁচাতে রুটির পরিবর্তে ছাতু
দাউদ আত্মায়ী র. সময় বাঁচাতে ছাতু গুলিয়ে তা পান করতেন। তিনি নিজেই তার কারণ বর্ণনা করে বলেন, 'ছাতু গিলে খাওয়া আর রুটি চিবিয়ে খাওয়ার মধ্যে যে সময়ের ব্যবধান সে সময়ে প্রায় পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত করা যায়।'
খাওয়ার সময়টুকুও যাঁর কাছে কষ্টকর
উসমান বাকিল্লাভী র. অনেক বড় আবিদ ছিলেন। তিনি (একেবারে শাব্দিক অর্থেই) সবসময় আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন। তিনি বলতেন, খাওয়া দাওয়া ও ইফতারের সময়টুকু যিকির থেকে বিরত থাকার কারণে কষ্টে যেন আমার প্রাণ বের হয়ে যায়। তাই যথা সম্ভব দ্রুত আমি তা থেকে ফারেগ হয়ে আল্লাহর যিকিরে মশগুল হই।
📄 দিনে প্রায় ৪০ পাতা লিখতেন যিনি
হাফেয ইবন রজব র. তাঁর ذیل طبقات الحنابلة নামক গ্রন্থে ইবনুল জাওযী র. এর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে লিখেন, "এমন কোন শাস্ত্র বা বিষয় নেই যাতে তিনি কলম ধরেননি এবং তাছনীফ করেননি। তার সংকলিত গ্রন্থসংখ্যা তিনশ' চল্লিশেরও ঊর্ধ্বে, তাতে যেমনি আছে দশ-বিশ খণ্ডের কিতাব, তেমনি আছে ছোট পুস্তিকাও। মুয়াফ্ফাক আবদুল লতীফ বলেন, "ইবনুল জাওযী র. একটি মুহূর্তও অনর্থক কাটাতেন না। একটু সময়ও নষ্ট করতেন না। দিনে প্রায় চার কুরাসা৩০ বা চারটি পুস্তিকা লিখতেন। প্রতি বছরই তাঁর লেখার পরিমাণ পঞ্চাশ থেকে ষাট জিলদ বা খণ্ড হত।
টিকাঃ
৩০ কুরাসা বলা হয় প্রায় দশ পাতা সম্বলিত ছোট গ্রন্থকে।
📄 প্রায় দু’হাজার গ্রন্থ রচনা করেছেন যিনি
ذیل طبقات الحنابلة গ্রন্থে تذكرة الحفاظ রজব উল্লেখ করেন, আল্লামা ইবনুল জাওযীর দৌহিত্র আবুল মুজাফফার বলেন- "নানাজানকে আমি শেষ বয়সে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, "আমি এই দুই আঙ্গুলে (প্রায়) দু'হাজার খণ্ড গ্রন্থ রচনা করেছি।"
ইবনুল ওয়ারদি র. তাঁর تتمة المختصر في أخبار البشر গ্রন্থে লিখেন "কথিত রয়েছে যে, তিনি (আবুল মুজাফফার) আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর লিখিত সবগুলো পুস্তিকা একত্রিত করে তারপর তাঁর জীবনের দিনগুলো হিসাব করে দেখেন যে, গড়ে প্রতিদিন নয়টি পুস্তিকা (প্রায় ৯০ পাতা) লেখা হয়েছে।
📄 কলম-চাঁছা দিয়ে শেষ গোসলের পানি গরম
الكنى والألقاب নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, ইবনুল জাওযী র. যে সকল কলম দিয়ে শুধু হাদীছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লিপিবদ্ধ করতেন সেগুলোর (মাথার দিকের) কর্তিত অংশগুলোকে জমিয়ে রাখা হত। প্রায় এক বোঝা হয়ে গিয়েছিল সেগুলো। মৃত্যুপূর্বে তিনি অসিয়ত করে গিয়েছেন, তাঁর শেষ গোসলের পানি যেন এগুলো দিয়ে গরম করা হয়। ঠিক তাই করা হল। সেগুলো পরিমাণে এত অধিক ছিল যে, অতিদ্রুত ভস্মীভূত হওয়া সত্ত্বেও গোসলের সম্পূর্ণ পানি গরম করার পরও অনেকখানিই অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল।"৩১
আল্লাহু আকবার! কী পরিমাণ কলমী খেদমত তাঁরা করে গেছেন!
টিকাঃ
৩১ আগে লোকেরা বাঁশ বা কাঠের কলম বানাত এবং সেগুলো কালিতে চুবিয়ে চুবিয়ে লিখত। যখন মাথা ভোঁতা হয়ে যেত- খুব পাতলা করে পেন্সিল চাঁছার মত করে- চেঁছে দেয়া হত।