📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 মুহূর্তকাল সময়ও কর্মশূন্য থাকা অবৈধ

📄 মুহূর্তকাল সময়ও কর্মশূন্য থাকা অবৈধ


সময়ের প্রকৃত মূল্যের বোধ ও উপলব্ধি এবং তা থেকে সর্বোচ্চ উপকার গ্রহণের আগ্রহ ও আসক্তি আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপযুক্ত কাজে কর্মময় ও সাধনাসমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে হাম্বলী ফকীহগণের মাঝে, বরং বলা যায় বড় বড় ইমামগণের মাঝে যারা শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন তাদের অন্যতম হলেন দু'ব্যক্তি। এক. ইমাম আবুল ওফা ইবন আকিল হাম্বলী র.। যিনি ছিলেন খতীব বাগদাদীর অন্যতম শাগরেদ। দুই. ইমাম আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী র.। যিনি ইবন আকীল র. এর শাগরেদের শাগরেদ।
আবুল ওফা ইবন আকীল র. তাঁর জন্ম ৪৩১ হিজরী এবং মৃত্যু ৫১৩ হিজরীতে। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিম, প্রখর ধী-শক্তির অধিকারী ও বহুশাস্ত্রে পারদর্শী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
তিনি বলতেন, জীবনের একটি মুহূর্তও নষ্ট করা বা কর্মশূন্য রাখা আমার কাছে বৈধ মনে হয় না। কখনো এমন হয়নি যে, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি মুহূর্ত আমি নষ্ট করেছি। এমনকি আমার জিহ্বা যখন কোন ইলমি আলোচনা ও পর্যালোচনা আর চোখ মুতালা'আ ও অধ্যয়ন থেকে ফারেগ থাকে- অর্থাৎ আমি যখন শুয়ে থকি বা বিশ্রাম নিই- তখনও আমি একেবারে কর্মশূন্য থাকতে পারি না; মন ও মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখি, ইলমি চিন্তায় বা কোন বিষয়-ভাবনায় মশগুল থাকি। ফলে যখনই বিশ্রাম শেষ হয়, ঘুম ভাঙে তখনই লেখায় মগ্ন হতে পারি। বিষয়-ভাবনায় আর বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয় না।
আমার তো মনে হয় বিশ বছর বয়সে ইলমের প্রতি আমার যে আগ্রহ ও আসক্তি ছিল- আজ আশি বছর বয়সে তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এটাই আমার উপলব্ধি।
তিনি আরও বলেন, অতি প্রয়োজনীয় কাজগুলোর ক্ষেত্রেও আমি সময় বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করি। এমনকি খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটে না। শক্ত রুটি না খেয়ে আমি কেক জাতীয় নরম কিছু ভিজিয়ে খেয়ে নিই। ফলে খাবার চিবানোর সময়টুকু বেঁচে যায়। আর তা আমি কোন বিষয় অধ্যয়নে বা উপকারী কিছুর লিখনে ব্যয় করতে পারি।
আর এমনটা তো করতেই হবে। হেফাযত করার মত এরচে' দামী সম্পদ আর কী হতে পারে? দায়িত্ব ও কর্তব্য তো আমাদের বেশুমার, অথচ সময় তো অল্প, অতি অল্প।
শায়খ ইবনুল জাওযী বলেন, ইবন আকীল সব সময়ই ইলম অন্বেষণ ও অনুশীলনে মশগুল থাকতেন। যে কোন শাস্ত্রের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর বিষয় উদঘাটন আর অস্পষ্ট থেকে অস্পষ্টতর বিষয় স্পষ্টকরণই ছিল তাঁর কাজ। তাছাড়াও তিনি ছিলেন চমৎকার চিন্তা-ভাবনার অধিকারী।
বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। কারো কারো মতে প্রায় বিশটির মত বৃহৎগ্রন্থ রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে সবচে' বড় হল الفنون নামক গ্রন্থটি, এটাকে গ্রন্থ না বলে বিশ্বকোষ বলাই শ্রেয় বলে মনে হয়। কারণ এতে লেখক গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল বিষয়ই সন্নিবেশিত করেছেন। যথা: ওয়াজ-নসিহত, তাফসীর-ফিকহ, উসূলে-দ্বীন, নাহব-ছরফ, ভাষাতত্ত্ব ও কবিতা এবং ইতিহাস ও গল্প-কাহিনী। এছাড়াও আছে তাঁর বিভিন্ন শিক্ষা- মজলিস ও আলোচনা-পর্যালোচনা, মুনাযারা ও চিন্তা-ভাবনা।
হাফেয যাহাবী র. তো এ কিতাব সম্পর্কে এতটুকু বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত দুনিয়াতে এরচে' বৃহৎ কলেবরের কোন গ্রন্থ রচিত হয়নি। এই কিতাবটির চার'শ খণ্ডের পরের কোন একটি খণ্ড দেখেছেন এমন এক ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, ইবন রজব সহ অনেকেই বলেছেন এটি আট'শ খণ্ডের এক মহাগ্রন্থ।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 সময় বাঁচাতে রুটির পরিবর্তে ছাতু

📄 সময় বাঁচাতে রুটির পরিবর্তে ছাতু


দাউদ আত্মায়ী র. সময় বাঁচাতে ছাতু গুলিয়ে তা পান করতেন। তিনি নিজেই তার কারণ বর্ণনা করে বলেন, 'ছাতু গিলে খাওয়া আর রুটি চিবিয়ে খাওয়ার মধ্যে যে সময়ের ব্যবধান সে সময়ে প্রায় পঞ্চাশ আয়াত তেলাওয়াত করা যায়।'
খাওয়ার সময়টুকুও যাঁর কাছে কষ্টকর
উসমান বাকিল্লাভী র. অনেক বড় আবিদ ছিলেন। তিনি (একেবারে শাব্দিক অর্থেই) সবসময় আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন। তিনি বলতেন, খাওয়া দাওয়া ও ইফতারের সময়টুকু যিকির থেকে বিরত থাকার কারণে কষ্টে যেন আমার প্রাণ বের হয়ে যায়। তাই যথা সম্ভব দ্রুত আমি তা থেকে ফারেগ হয়ে আল্লাহর যিকিরে মশগুল হই।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 দিনে প্রায় ৪০ পাতা লিখতেন যিনি

📄 দিনে প্রায় ৪০ পাতা লিখতেন যিনি


হাফেয ইবন রজব র. তাঁর ذیل طبقات الحنابلة নামক গ্রন্থে ইবনুল জাওযী র. এর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে লিখেন, "এমন কোন শাস্ত্র বা বিষয় নেই যাতে তিনি কলম ধরেননি এবং তাছনীফ করেননি। তার সংকলিত গ্রন্থসংখ্যা তিনশ' চল্লিশেরও ঊর্ধ্বে, তাতে যেমনি আছে দশ-বিশ খণ্ডের কিতাব, তেমনি আছে ছোট পুস্তিকাও। মুয়াফ্ফাক আবদুল লতীফ বলেন, "ইবনুল জাওযী র. একটি মুহূর্তও অনর্থক কাটাতেন না। একটু সময়ও নষ্ট করতেন না। দিনে প্রায় চার কুরাসা৩০ বা চারটি পুস্তিকা লিখতেন। প্রতি বছরই তাঁর লেখার পরিমাণ পঞ্চাশ থেকে ষাট জিলদ বা খণ্ড হত।

টিকাঃ
৩০ কুরাসা বলা হয় প্রায় দশ পাতা সম্বলিত ছোট গ্রন্থকে।

📘 সময়ের মূল্য বুঝতেন যারা > 📄 প্রায় দু’হাজার গ্রন্থ রচনা করেছেন যিনি

📄 প্রায় দু’হাজার গ্রন্থ রচনা করেছেন যিনি


ذیل طبقات الحنابلة গ্রন্থে تذكرة الحفاظ রজব উল্লেখ করেন, আল্লামা ইবনুল জাওযীর দৌহিত্র আবুল মুজাফফার বলেন- "নানাজানকে আমি শেষ বয়সে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি, "আমি এই দুই আঙ্গুলে (প্রায়) দু'হাজার খণ্ড গ্রন্থ রচনা করেছি।"
ইবনুল ওয়ারদি র. তাঁর تتمة المختصر في أخبار البشر গ্রন্থে লিখেন "কথিত রয়েছে যে, তিনি (আবুল মুজাফফার) আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর লিখিত সবগুলো পুস্তিকা একত্রিত করে তারপর তাঁর জীবনের দিনগুলো হিসাব করে দেখেন যে, গড়ে প্রতিদিন নয়টি পুস্তিকা (প্রায় ৯০ পাতা) লেখা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00