📄 শুধু আল্লাহর জন্য ব্যয়িত সময়টুকুই প্রকৃত জীবন
প্রকৃতপক্ষে জীবন তো খণ্ড খণ্ড সময়ের সমষ্টি বৈ কিছু নয়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, 'সময়ই জীবন'। আর পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনের মূলও এই সময়ই। হোক তা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জান্নাতী জীবন কিংবা দুঃখ-যাতনার জাহান্নামী জীবন।
সময়ের মূল্যায়ন করে ও আল্লাহর রাহে ব্যয় করে যেমন জান্নাত লাভের আশা করা যায়, তেমনি এর অবমূল্যায়ন ও অপাত্রে ব্যয়ের কারণে- আল্লাহ মাফ করুন- জাহান্নামের ফয়সালার আশঙ্কাও রয়ে যায়।
আর আল্লাহ তা'আলা তো মানুষকে সৃষ্টিই করেছেন তাঁর ইবাদাতের জন্য।
সুতরাং বলা যায়, যে সময়টুকু মানুষ আল্লাহর জন্য- তাঁর আদেশ পালনে ও নিষেধ থেকে নিজেকে দমনে ব্যয় করে তাই তার জীবন, তথা মানব জীবন বলে গণ্য হবে। আর বাকী সময়টা, যতই দীর্ঘ জীবন সে লাভ করুক না কেন- সেটা পশুত্বের জীবন। যদি কেউ তার সময় ও জীবনকে উদাসীনতা, প্রবৃত্তি পূজা ও কামনা-বাসনা চরিতার্থ করে কাটায় তবে বলা যায়- তার জীবনের ঐ সময়টুকুই সবচে' ভাল কাটল, যেটুকু সে ঘুমে ও কর্মহীনতায় কাটাল। এ ধরনের মানুষের জন্য জীবনের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।
বিষয়াট বোঝার স্বাথে একাট উদাহরণ পেশ করা যায়, যখন কোন বান্দা নামাযে দাঁড়ায় তখন নামাযের ঐ অংশটুকুই তার উপকারে আসে যেটুকু সে সজ্ঞানে আদায় করে। আর সেটুকুই নামায বলে বিবেচিত হয়।
তবে কি আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি না, যে সময়টা মানুষ আল্লাহর রাহে, তাঁর ইবাদত-বন্দেগীতে ও তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে অতিবাহিত করে সে অংশটুকুই প্রকৃত জীবন; সেটাই তার যথার্থ আয়ুষ্কাল!
তাই আমাদের পূর্বসূরীগণ এবং তাদের সার্থক উত্তরসূরীগণ সময় সংরক্ষণ এবং পুণ্য ও ভাল কাজে তা আতিবাহিত করণে অত্যন্ত আগ্রহী; বরং বলা ভাল, মরণপণ চেষ্টায় রত ছিলেন। এক্ষেত্রে আলেম ও আবেদের মাঝে কোন পার্থক্য ছিল না। প্রতিটি ঘণ্টা ও মিনিট সংরক্ষণে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ করে যেতেন। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে তারা যেন ছুটে চলতেন। জীবনের প্রতি মমতা ও সময়ের ব্যাপারে 'কৃপণতার' কারণে সর্বদা তারা সজাগ-সতর্ক থাকতেন, যেন একটি মুহূর্তও অনর্থক হাতছাড়া না হয়ে যায়।