📄 পরিশিষ্ট
যখন তুমি আকস্মিক বিপদে নিপতিত হবে, বিভিন্ন পেরেশানিতে আক্রান্ত হবে এবং পার্থিব দুর্যোগে সকল রাস্তা ও পথঘাট অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে, তখন তুমি আল্লাহর ফয়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। এটাই হলো প্রথম ধাপ যে, তুমি আল্লাহর তাকদিরে সন্তুষ্ট থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا )
“(হে নবী) আপনি বলুন, আমাদের কাছে (ভালো-মন্দ) কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন।”৪৭
এর দ্বিতীয় স্তর হলো, বিপদে ধৈর্যধারণ করা। এটা তার জন্য, যে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করা অতি উত্তম ও সর্বোচ্চ স্তরের কাজ। আর মুমিনের জন্য ধৈর্যধারণ করা তো আবশ্যক একটি বিষয়।
স্মরণ রেখো, তুমি যখন বিপদে আক্রান্ত হবে, তখন এটা বুঝে নেবে যে, এ ফয়সালা যিনি করেছেন তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। তিনি যা ইচ্ছা, তা-ই করেন এবং যা চান, তা-ই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বান্দার ওপর তাঁর দয়া ও রহমত বিভিন্নভাবে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। তিনি দয়া করে বান্দাকে কিছু দান করেন। এরপর দয়া করে তাকে কৃতজ্ঞতা আদায়ের তাওফিক দেন। তিনি তাকে অনুগ্রহ করে বিপদে নিপতিত করেন। অতঃপর তাকে ধৈর্যের তাওফিক দেন। অতএব ভালো-মন্দ সর্বাবস্থায় আমাদের তাঁর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা উচিত। তা ছাড়া বিপদের মাধ্যমেও তিনি বান্দার ওপর দয়া করেন। কেননা, এর ওসিলায় তিনি তাদের গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন। তাদের প্রতিদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।