📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় 📄 ইসতেখারা

📄 ইসতেখারা


সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করবে এবং সমাধানের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ এবং তাদের মতামত শোনার পর শরিয়তসম্মতভাবে ইসতেখারা করবে। হাদিসে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ، فَلْيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ، وَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أُقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ - يُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ الَّذِي يُرِيدُ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي، وَمَعَادِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسَّرْهُ لِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي مِثْلَ الْأَوَّلِ، فَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاقْدِرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ رَضَّنِي بِهِ.

'যখন তোমাদের কারও কোনো বিষয় চিন্তিত করে তোলে, তখন সে যেন ফরজ নামাজ ছাড়া (অতিরিক্ত নফল) দুই রাকআত নামাজ আদায় করে। অতঃপর বলে-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أُقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ - يُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ الَّذِي يُرِيدُ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي، وَمَعَادِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسَّرْهُ لِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي مِثْلَ الْأَوَّلِ، فَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاقْدِرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ رَضْنِي بِهِ

“হে আল্লাহ, আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইসতেখারা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আমি শক্তি কামনা করি। আমি আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করি। আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সবকিছুতেই অবগত, আমি অজ্ঞ। আপনিই অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, আপনি জানেন যে, আমার এ কাজ (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের নাম বলবে) আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন, পরকাল এবং সর্বোপরি আমার পরিণামে কল্যাণকর হলে তা আমাকে অর্জন করার শক্তি দিন। আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার জন্য তাতে বরকত দিন। আর আপনার অবগতিতে সেটা আমার জন্য প্রথমে উল্লেখিত কাজসমূহে অকল্যাণকর হলে আমাকে তা থেকে দূরে রাখুন এবং সেটিকেও আমার থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর আমাকে তা-ই অর্জন করার শক্তি দিন, তা যেখানেই থাক না কেন। অতঃপর আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন।"'৪৫

টিকাঃ
৪৫. সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় 📄 সময়ক্ষেপণ

📄 সময়ক্ষেপণ


সময় সমাধানের একটা অংশ; বরং বলা যায় সময় নিজেই একটা সমাধান। মানুষের জীবনে দুঃখ-মুসিবত আসে। তারপর মেঘমালার মতো দিনগুলো চলতে থাকে। রাতের পর রাত অতিবাহিত হয়। এক সময় মৃত ব্যক্তি স্মৃতি থেকে মুছে যায়। তালাকপ্রাপ্তা রমণীর বিবাহ হয়। ছোট শিশু বড় হয় এবং মা তার সন্তানকে দুধ পান করানো বন্ধ করে দেয়। এভাবেই সময়ের সাথে সাথে মানুষ তার দুঃখ-কষ্টগুলো ভুলে যায় এবং জড়িয়ে যায় নতুন কোনো ব্যস্ততায়। আর আল্লাহ তাআলা-ই এই পরিবর্তনগুলো করে থাকেন।

সময়কে তার আপন গতিতে চলতে দাও। তুমি ইবাদত-বন্দেগিতে রত থেকে নেকি অর্জন করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করো। কারণ, দিনগুলো তার ভূমিকা পালন করতে থাকবে এবং সময়গুলো শেষ হতে থাকবে। এভাবেই একসময় তিক্ত মৃত্যু এসে যাবে এবং কিয়ামতের ভয়াবহ হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদানের বিষয় চলে আসবে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় 📄 সকল বিষয় আল্লাহ তাআলার দিকে অর্পণ করা

📄 সকল বিষয় আল্লাহ তাআলার দিকে অর্পণ করা


মানুষ এই দুনিয়ায় চেষ্টা-পরিশ্রম করে; কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার জন্য যতটুকু লিখে রেখেছেন, সে তার চেয়ে বেশি অর্জন করতে পারে না। সকল বিষয় একমাত্র আল্লাহ তাআলা-ই পরিচালনা করেন এবং তিনি যেভাবে চান, সেভাবে পরিচালনা করেন। সুতরাং তুমি আল্লাহ তাআলার ফয়সালাকে খুশিমনে মেনে নেবে। যদিও এর বিপরীত তুমি তোমার সকল চেষ্টা-পরিশ্রম ব্যয় করে থাকো। সকল প্রশংসা ওই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের, যিনি সকল বিষয় নির্ধারণ করে থাকেন। তুমি এক মজবুত খুঁটির নিকট এবং দয়াময় ক্ষমাশীল রবের নিকট আশ্রয় নিতে পেরেছ, তার জন্য তোমার আনন্দিত ও খুশি হওয়া উচিত।

তুমি একবার নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অবস্থা নিয়ে চিন্তা করো, তিনি তাঁর সকল চেষ্টা-পরিশ্রম ব্যয় করার পরও যখন তাঁর গোত্রের লোকেরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, তখন তিনি এর জন্য আফসোস করতেন। মহান আল্লাহ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন-

فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ ﴾

“সুতরাং আপনি তাদের জন্য অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না।”৪৬

টিকাঃ
৪৬. সুরা ফাতির: ৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px