📄 পরামর্শ-কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া
এখন অনেক পরামর্শ-কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে, বিবাহবিষয়ক পরামর্শ-কেন্দ্র, ঝগড়া-বিবাদ মিমাংসা-কেন্দ্র, অনুরূপভাবে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বাচ্চা লালনপালন ও তাদের শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ-কেন্দ্র। এ সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন: শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রহ.-এর যুবকদের বিবাহে সাহায্য-প্রকল্প। এ ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে অনেক অভিজ্ঞতা ও সুপরামর্শ পাওয়া যেতে পারে।
📄 পরামর্শ করা
মানুষ যখন কোনো দুনিয়াবি বিষয়ে সমস্যায় পতিত হয়, তখন তা থেকে উদ্ধারের জন্য তার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ও উত্তম ফিকিরের প্রয়োজন হয়। আল্লাহর অনুগ্রহে এটা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে; কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন দেখা দেয় যে, কার সাথে পরামর্শ করবে এবং কার কাছে নিজের চিন্তা ও সমস্যার কথা বলবে?
উমর রা. বলেন, “তুমি অপ্রয়োজনীয় কথা বোলো না। তোমার শত্রুকে চেনো, বন্ধু থেকে সতর্ক থাকো—তবে বিশ্বস্ত হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহভীরু ব্যতীত কোনো বিশ্বস্ত লোক নেই। তুমি কোনো পাপাচারী লোকের সাথে হাঁটাচলা কোরো না, তাহলে সে তোমাকে তার পাপাচার শিক্ষা দেবে। তার নিকট তোমার গোপন বিষয় প্রকাশ কোরো না এবং তার সাথে তোমার কোনো বিষয় নিয়ে পরামর্শ কোরো না; তবে যে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে তার কথা ভিন্ন।"
বর্তমানে উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতাদের প্রতি তাকালে অবাকই হতে হয়। তাদের কেউ একেবারে অনভিজ্ঞ, কেউ শরয়ি ইলমের কিছুই জানে না, কেউ মহিলা—তার কাছে কোনো নারী বৈবাহিক সমস্যা সম্পর্কে পরামর্শ চাইলে দ্রুত বিবাহবিচ্ছেদের পরামর্শ দেয়। তার সাথে কথা শেষ করে অসহায় নারীটি নিজের স্বামীর কাছে যায় এবং বাড়ি ছেড়ে তালাক ও বিচ্ছেদের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করে। আবার কিছু পরামর্শক আছে, যাদের অন্তর হিংসা-বিদ্বেষে পূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম প্রস্তাব হলো, এমন লোকের সাথে পরমর্শ করবে, যার অবস্থান তোমার থেকে অনেক দূরে এবং সে নিজেও প্রচার মাধ্যম থেকে অনেক দূরে থাকে; যাতে করে সে তোমার গোপন বিষয়টা প্রকাশ করতে না পারে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো, আহলে ইলমদের সাথে পরামর্শ করা। তাদের সাথে পরামর্শ করলে দুটি বিষয় একসাথে অর্জন হবে। ১. বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয় থাকবে না। কারণ, তাদের কাছে এত মানুষ যাওয়া-আসা করে যে, কোনটা কার বিষয় সেটা তারা ভুলেই যাবে। তাই আর প্রকাশের বিষয়টিও আসবে না। ২. তারা হলেন আহলে ইলম, পাশাপাশি মুত্তাকি ও পরহেজগার। তাই আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের পরামর্শের মধ্যে ইলম ও নুর উভয়টাই থাকবে।
তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, পরামর্শটা যেন আহলে ইলম- তালিবে ইলমের সাথে হয়, বড় কোনো শাইখের সাথে না হয়। কারণ, এটা একটা পরামর্শ, ফাতওয়া নয়। পরামর্শের বিষয়টা একটু সময় নিয়ে শুনতে হবে, তারপর ভেবেচিন্তে একটা সঠিক পরামর্শ দিতে হবে; কিন্তু শাইখদের ব্যস্ততা অনেক বেশি, তারা ফাতওয়ার কাজসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাদের হাতে এত সময় নিয়ে অবস্থা শোনা ও পরামর্শ দেওয়ার সময় নেই। এ ছাড়াও পরামর্শের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের অবস্থাও ভালোভাবে জানতে হয়; কিন্তু এত সময় কোনো শাইখের হাতে থাকে না। তাই আহলে ইলম মুত্তাকি তালিবে ইলমের সাথে পরামর্শ করবে।
📄 ইসতেখারা
সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করবে এবং সমাধানের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে। মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ এবং তাদের মতামত শোনার পর শরিয়তসম্মতভাবে ইসতেখারা করবে। হাদিসে এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ، فَلْيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ، وَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أُقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ - يُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ الَّذِي يُرِيدُ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي، وَمَعَادِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسَّرْهُ لِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي مِثْلَ الْأَوَّلِ، فَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاقْدِرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ رَضَّنِي بِهِ.
'যখন তোমাদের কারও কোনো বিষয় চিন্তিত করে তোলে, তখন সে যেন ফরজ নামাজ ছাড়া (অতিরিক্ত নফল) দুই রাকআত নামাজ আদায় করে। অতঃপর বলে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أُقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ - يُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ الَّذِي يُرِيدُ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي، وَمَعَادِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي، وَيَسَّرْهُ لِي، وَبَارِكْ لِي فِيهِ اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي مِثْلَ الْأَوَّلِ، فَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّي، وَاقْدِرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ رَضْنِي بِهِ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইসতেখারা করছি। আপনার কুদরতের মাধ্যমে আমি শক্তি কামনা করি। আমি আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করি। আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনি সবকিছুতেই অবগত, আমি অজ্ঞ। আপনিই অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ, আপনি জানেন যে, আমার এ কাজ (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের নাম বলবে) আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন, পরকাল এবং সর্বোপরি আমার পরিণামে কল্যাণকর হলে তা আমাকে অর্জন করার শক্তি দিন। আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার জন্য তাতে বরকত দিন। আর আপনার অবগতিতে সেটা আমার জন্য প্রথমে উল্লেখিত কাজসমূহে অকল্যাণকর হলে আমাকে তা থেকে দূরে রাখুন এবং সেটিকেও আমার থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর আমাকে তা-ই অর্জন করার শক্তি দিন, তা যেখানেই থাক না কেন। অতঃপর আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন।"'৪৫
টিকাঃ
৪৫. সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮
📄 সময়ক্ষেপণ
সময় সমাধানের একটা অংশ; বরং বলা যায় সময় নিজেই একটা সমাধান। মানুষের জীবনে দুঃখ-মুসিবত আসে। তারপর মেঘমালার মতো দিনগুলো চলতে থাকে। রাতের পর রাত অতিবাহিত হয়। এক সময় মৃত ব্যক্তি স্মৃতি থেকে মুছে যায়। তালাকপ্রাপ্তা রমণীর বিবাহ হয়। ছোট শিশু বড় হয় এবং মা তার সন্তানকে দুধ পান করানো বন্ধ করে দেয়। এভাবেই সময়ের সাথে সাথে মানুষ তার দুঃখ-কষ্টগুলো ভুলে যায় এবং জড়িয়ে যায় নতুন কোনো ব্যস্ততায়। আর আল্লাহ তাআলা-ই এই পরিবর্তনগুলো করে থাকেন।
সময়কে তার আপন গতিতে চলতে দাও। তুমি ইবাদত-বন্দেগিতে রত থেকে নেকি অর্জন করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করো। কারণ, দিনগুলো তার ভূমিকা পালন করতে থাকবে এবং সময়গুলো শেষ হতে থাকবে। এভাবেই একসময় তিক্ত মৃত্যু এসে যাবে এবং কিয়ামতের ভয়াবহ হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদানের বিষয় চলে আসবে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।