📄 পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা
প্রতিটি সমস্যা ও জটিলতারই একটা পারিপার্শ্বিক অবস্থা থাকে, যেখানে বা যার কারণে সমস্যাটির উদ্ভব হয়। সুতরাং সেই অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে এবং জানতে হবে কে বা কী তার ওপর প্রভাব ফেলছে? এ ক্ষেত্রে (সমাধানের জন্য) তার চিন্তাভাবনা জানতে এবং সে কী করতে চায়, কেমন আচরণ করতে চায়—তা বুঝতে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে খবর পাঠানো যেতে পারে। অনুরূপ কিছু মানুষ এমন আছে, যারা কিছু ব্যক্তিকে তাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য মনে করে। এতে তারা কাদের পরামর্শ মানে এবং কাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করে, তা ভালোভাবে জানা যায়। আর অনেক সময় তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিচিত লোকজন—তার ওপর যাদের প্রভাব আছে—তাদের মাধ্যমেও পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।
📄 বিভিন্ন মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জানা
মাঝে মাঝে কয়েকজন একত্র হয়ে পরস্পরের সমস্যা সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করবে এবং সে এ থেকে কীভাবে মুক্ত হয়েছে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করবে। সাথে সাথে এ সকল সমস্যা থেকে কীভাবে মুক্ত হওয়া যায়, তা নিয়েও পরামর্শ করবে। এবং এই আলোচনা থেকে তোমার সমস্যা সমাধানের জন্য উত্তম ও সঠিক পরামর্শটি গ্রহণ করবে। তুমি লক্ষ করে দেখবে, কীভাবে তারা এই সমস্যার সমাধান করেছে এবং কীভাবে এই কঠিন মুহূর্তগুলো পার করেছে। বরং তুমি দেখতে পাবে যে, অনেকে তোমার চেয়ে অনেক কঠিন সমস্যায় পতিত, তখন তুমি তা থেকে সান্ত্বনা খুঁজে পাবে। মানুষের সাথে কথা বললে অন্তর হালকা ও প্রশান্ত হয়। তুমি তো একা সমস্যায় পতিত নও। কোনো ঘরই সমস্যা থেকে খালি নেই। কত সমস্যা যে চার দেয়ালের ভেতরে চাপা পড়ে আছে, তা একমাত্র আল্লাহ তাআলা-ই ভালো জানেন।
📄 পরামর্শ-কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া
এখন অনেক পরামর্শ-কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে, বিবাহবিষয়ক পরামর্শ-কেন্দ্র, ঝগড়া-বিবাদ মিমাংসা-কেন্দ্র, অনুরূপভাবে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বাচ্চা লালনপালন ও তাদের শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শ-কেন্দ্র। এ সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন: শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ রহ.-এর যুবকদের বিবাহে সাহায্য-প্রকল্প। এ ছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে অনেক অভিজ্ঞতা ও সুপরামর্শ পাওয়া যেতে পারে।
📄 পরামর্শ করা
মানুষ যখন কোনো দুনিয়াবি বিষয়ে সমস্যায় পতিত হয়, তখন তা থেকে উদ্ধারের জন্য তার একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ও উত্তম ফিকিরের প্রয়োজন হয়। আল্লাহর অনুগ্রহে এটা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে; কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন দেখা দেয় যে, কার সাথে পরামর্শ করবে এবং কার কাছে নিজের চিন্তা ও সমস্যার কথা বলবে?
উমর রা. বলেন, “তুমি অপ্রয়োজনীয় কথা বোলো না। তোমার শত্রুকে চেনো, বন্ধু থেকে সতর্ক থাকো—তবে বিশ্বস্ত হলে ভিন্ন কথা। আর আল্লাহভীরু ব্যতীত কোনো বিশ্বস্ত লোক নেই। তুমি কোনো পাপাচারী লোকের সাথে হাঁটাচলা কোরো না, তাহলে সে তোমাকে তার পাপাচার শিক্ষা দেবে। তার নিকট তোমার গোপন বিষয় প্রকাশ কোরো না এবং তার সাথে তোমার কোনো বিষয় নিয়ে পরামর্শ কোরো না; তবে যে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে তার কথা ভিন্ন।"
বর্তমানে উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতাদের প্রতি তাকালে অবাকই হতে হয়। তাদের কেউ একেবারে অনভিজ্ঞ, কেউ শরয়ি ইলমের কিছুই জানে না, কেউ মহিলা—তার কাছে কোনো নারী বৈবাহিক সমস্যা সম্পর্কে পরামর্শ চাইলে দ্রুত বিবাহবিচ্ছেদের পরামর্শ দেয়। তার সাথে কথা শেষ করে অসহায় নারীটি নিজের স্বামীর কাছে যায় এবং বাড়ি ছেড়ে তালাক ও বিচ্ছেদের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করে। আবার কিছু পরামর্শক আছে, যাদের অন্তর হিংসা-বিদ্বেষে পূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রথম প্রস্তাব হলো, এমন লোকের সাথে পরমর্শ করবে, যার অবস্থান তোমার থেকে অনেক দূরে এবং সে নিজেও প্রচার মাধ্যম থেকে অনেক দূরে থাকে; যাতে করে সে তোমার গোপন বিষয়টা প্রকাশ করতে না পারে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো, আহলে ইলমদের সাথে পরামর্শ করা। তাদের সাথে পরামর্শ করলে দুটি বিষয় একসাথে অর্জন হবে। ১. বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয় থাকবে না। কারণ, তাদের কাছে এত মানুষ যাওয়া-আসা করে যে, কোনটা কার বিষয় সেটা তারা ভুলেই যাবে। তাই আর প্রকাশের বিষয়টিও আসবে না। ২. তারা হলেন আহলে ইলম, পাশাপাশি মুত্তাকি ও পরহেজগার। তাই আল্লাহর ইচ্ছায় তাদের পরামর্শের মধ্যে ইলম ও নুর উভয়টাই থাকবে।
তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, পরামর্শটা যেন আহলে ইলম- তালিবে ইলমের সাথে হয়, বড় কোনো শাইখের সাথে না হয়। কারণ, এটা একটা পরামর্শ, ফাতওয়া নয়। পরামর্শের বিষয়টা একটু সময় নিয়ে শুনতে হবে, তারপর ভেবেচিন্তে একটা সঠিক পরামর্শ দিতে হবে; কিন্তু শাইখদের ব্যস্ততা অনেক বেশি, তারা ফাতওয়ার কাজসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাদের হাতে এত সময় নিয়ে অবস্থা শোনা ও পরামর্শ দেওয়ার সময় নেই। এ ছাড়াও পরামর্শের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের অবস্থাও ভালোভাবে জানতে হয়; কিন্তু এত সময় কোনো শাইখের হাতে থাকে না। তাই আহলে ইলম মুত্তাকি তালিবে ইলমের সাথে পরামর্শ করবে।