📄 জবানের হিফাজত করা
কোনো কোনো সমস্যার ইন্ধন হয় জবান। কথাটা একটু ভিন্নভাবে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সহজ বিষয়টা কঠিন হয়ে যায়। আর এ কারণেই জবানের বিভিন্ন রূপ যেমন: গিবত, চোগলখুরি, মিথ্যা, অপবাদ, উপহাস, অবজ্ঞা, অপমান, গালিগালাজ ও অভিশাপ দেওয়ার কারণে মুসলিম শাস্তির উপযুক্ত হয়।
তাহলে তুমি কি ভেবে দেখেছ, যখন সমস্যা খুবই সংকটপূর্ণ অবস্থায় থাকে এবং অন্তর ক্রোধে পূর্ণ থাকে, তখন এমনটা করলে কী অবস্থা হবে? অপরপক্ষ যদি এই রোগে আক্রান্ত থাকে এবং সে তার জিহ্বাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে, তাহলে এতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না। সুতরাং তোমার জন্য উত্তম হলো, তুমি অপরপক্ষের লোকের অনুসরণ না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করবে; যেন এই অকল্যাণের ব্যাপারে তিনি তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং এই অকল্যাণকে তোমার থেকে সরিয়ে দেন।
📄 সমস্যা সমাধানের অর্থ সেটা চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়
সমস্যা যদি তালাকের মতো কোনো বিষয় হয়, তাহলে তার সমাধান হলো, তাকে তার আপন স্থানেই বন্ধ করে রাখবে; যাতে তা আর না ছড়ায়, ক্ষতির কারণ না হয় এবং এতে তালাকের পর দশজন ক্ষতির মধ্যে না পড়ে। বিশেষ করে, যদি সেখানে সন্তানাদি থাকে। অতঃপর মহিলাও তালাকের সমস্যার পর সমাধান করবে। সুতরাং স্বামী তার স্ত্রীর কাছে যাবে, স্ত্রী তার ঘরে যাবে এবং সন্তানেরা তাদের বাড়িতে ফিরে যাবে। সমাধানের ক্ষেত্রে এটাই যথেষ্ট যে, সমস্যাকে আর সামনে বাড়তে না দেওয়া, যদ্দরুন সেটা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে এবং আরও কঠিন হয়ে যায়। [অবশ্য যখন পূর্ণ তালাকের কারণে দুজনকে একেবারে আলাদা হয়ে যেতে হয়, তখন এ আশায় ধৈর্যধারণ করবে যে, আল্লাহ আগের চেয়ে আরও উত্তম বন্ধনে আবদ্ধ হবার তাওফিক দেবেন।)
যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তির হাত ভেঙে যায় এবং সে ডাক্তারের কাছে আসে, তাহলে তার রোগ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে সুস্থতার জন্য ডাক্তার তাকে প্লাস্টারের ব্যান্ডেজ করে দেয়। অতঃপর তাকে অবশ করে দেয়, যাতে করে পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটা সঠিক পদ্ধতিতে চলতে থাকে।
📄 তুমি সমস্যা নিয়ে সর্বদাই ব্যস্ত থেকো না
নিঃসন্দেহে তুমি যে সমস্যায় পতিত হয়েছ, তা তোমার ধারণা মতে অনেক বড় ও জটিল। কিন্তু এটাই সবকিছু নয়। সুতরাং এটা যেন তোমার সবকিছু কেড়ে না নেয়। তোমার সময় ও ফিকির যেন শুধু এর পেছনেই ব্যয় না হয়। তাহলে এটা তোমাকে অন্য আরেকটা সমস্যার দিকে নিয়ে যাবে, অন্য কাজ বন্ধ করে দেবে এবং অস্থিরতা ও পেরেশানি বৃদ্ধি করবে। বরং তুমি সমস্যাকে তার স্থানে রাখো এবং তোমার অন্যান্য কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করতে থাকো। তুমি কিছু অবসর সময় বের করে বিশ্রাম নাও, তোমার বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের সাথে সময় কাটাও। আনন্দ-খুশির মাধ্যমে নিজের দুঃখ ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো।
📄 প্রতিপক্ষের মনমেজাজ জানা
কোনো কোনো সমস্যা এমন রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় পক্ষ, তৃতীয় পক্ষ বা ততোধিক পক্ষ থাকে। যেমন: স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সমস্যা অথবা সন্তান ও পরিবারের অন্য কারও সাথে সমস্যা। এ সকল ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের মনমেজাজ সম্পর্কে জানা থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। কারণ, কতক মানুষ মেজাজি হয়ে থাকে; কেউ দয়ালু-সহানুভূতিশীল; আবার কেউ লাজুক প্রকৃতির—সঠিক পথ দেখালে খুব তাড়াতাড়িই তা গ্রহণ করে নেয়; কেউবা এমন—আল্লাহর ভয় দেখালে সে ভয় পায় ইত্যাদি।
সুতরাং মানুষের মনমেজাজ জানা থাকলে সঠিকভাবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।