📄 ভালোভাবে হিসাব-নিকাশ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া
কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে ভালোভাবে হিসাব-নিকাশ করবে যে, এর ভালোর দিকটা বেশি নাকি খারাপের দিকটা বেশি? অর্থাৎ বিষয়টিকে একটা পৃষ্ঠায় লিখবে এবং তার ইতিবাচক দিকটির একটা ঘর এবং নেতিবাচক দিকটির একটা ঘর রাখবে। অতঃপর বিভিন্নভাবে তার সমাধান নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে এবং সমাধানের প্রতিটি দিকের জন্য একশ করে নম্বর নির্ধারণ করবে। প্রত্যেক সমাধানের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকের মধ্যে একশ নাম্বার ভাগ করে দেবে। তবে একটি বিষয় ভালোভাবে খেয়াল রাখবে যে, ইতিবাচক দিকটিকেই একটু বেশি নম্বর দেওয়ার চেষ্টা করবে। কারণ, নেতিবাচক দিকটির ফলাফল অজানা, যা ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে। আর তা ভালোও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, এক পরিবারে এক স্ত্রীর তার স্বামীর সাথে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তখন সে কয়েকটি সিদ্ধান্ত স্থির করবে। যেমন:
| সমাধান | ইতিবাচক দিক | নেতিবাচক দিক |
| :--- | :--- | :--- |
| ১. সে তার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজ পরিবারের নিকট চলে যাবে। | ১০% | ৩০% |
| ২. তার চাচা অথবা মসজিদের ইমামকে বিষয়টি জানাবে। | ৫০% | ৫০% |
| ৩. ধৈর্যধারণ করবে এবং সমস্যা সমাধানের অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করবে। | ৮০% | ২০% |
এই পর্যবেক্ষণের পর দেখা যাবে যে, তৃতীয় সমাধানটি সবচেয়ে কম ক্ষতিকর। সুতরাং সে সেটাকে গ্রহণ করবে।
📄 কখনো সমস্যা সমাধানে কোনো ভালো মানুষের শরণাপন্ন হওয়া
কোনো কোনো সমস্যা ও জটিলতা এমন রয়েছে, যার সমাধান করার ক্ষেত্রে অপর কোনো ভালো মানুষের শরণাপন্ন হতে হয়। যেমন: কোনো মহিলার স্বামী মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করে না। এই সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে স্ত্রীর পক্ষ থেকে মসজিদের ইমাম সাহেবকে জানাতে হবে। ইমাম সাহেব তার স্বামীর সাথে বারবার সাক্ষাৎ করবেন। তাকে সালাম দেবেন, মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ের তাগিদ দিতে থাকবেন। আবার কখনো কখনো ছেলে সন্তানদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য নিকটাত্মীয় বা শিক্ষকদের শরণাপন্ন হতে হয়। তবে সতর্ক থাকতে হবে—যাকে সমস্যা সমাধানের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে, তার সাথে কথা বলার সময় শুধু উক্ত সমস্যার কথাই বলবে। তাকে অন্য কোনো সমস্যার কথা বলা যাবে না এবং পূর্বের কোনো সমস্যার কথাও বলা যাবে না; বরং তাকে শুধু ঐ বিষয়টাই স্পষ্ট করে বলবে, যাতে সমস্যা সমাধানে এটা সহায়ক হয়।
📄 সমস্যার মূল কারণ বা উৎসের খোঁজ করা
বেশির ভাগ সমস্যা একদিনে হঠাৎ করে তৈরি হয় না; বরং বিভিন্ন কারণে ধীরে ধীরে সমস্যার উদ্ভব হয়। যেমন: কোনো যুবক-যুবতি একদিনে বিপথগামী হয়ে যায় না; বরং বিভিন্ন কারণে ধীরে ধীরে কমবেশ কিছু কাল অতিক্রম হওয়ার পর তবেই তারা বিপথগামী হয়ে ওঠে। যেমন: কেউ মোবাইল, টেলিভিশন, খারাপ বন্ধু ইত্যাদির কারণে ধীরে ধীরে বিপথে চলে যায়। সুতরাং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রথমে তার মূল কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। যাতে করে মূল থেকে সমস্যার সমাধান করা যায়। সমাধান সাময়িক বা অস্থায়ী কোনো জিনিস নয়। পূর্বের বিষয় জানা না থাকা বা সমস্যার মূল কারণটা অনেক শক্তিশালী ও প্রভাববিস্তারকারী হওয়ার কারণে এর সমাধান করতে অনেক সময় লেগে যায়। অনুরূপভাবে বিপথগামী বা সমস্যায় পতিত ব্যক্তির কারণেও সমাধানে অনেক সময় লেগে যায়।
📄 জবানের হিফাজত করা
কোনো কোনো সমস্যার ইন্ধন হয় জবান। কথাটা একটু ভিন্নভাবে প্রবাহিত হওয়ার কারণে সহজ বিষয়টা কঠিন হয়ে যায়। আর এ কারণেই জবানের বিভিন্ন রূপ যেমন: গিবত, চোগলখুরি, মিথ্যা, অপবাদ, উপহাস, অবজ্ঞা, অপমান, গালিগালাজ ও অভিশাপ দেওয়ার কারণে মুসলিম শাস্তির উপযুক্ত হয়।
তাহলে তুমি কি ভেবে দেখেছ, যখন সমস্যা খুবই সংকটপূর্ণ অবস্থায় থাকে এবং অন্তর ক্রোধে পূর্ণ থাকে, তখন এমনটা করলে কী অবস্থা হবে? অপরপক্ষ যদি এই রোগে আক্রান্ত থাকে এবং সে তার জিহ্বাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে, তাহলে এতে তোমার কোনো ক্ষতি হবে না। সুতরাং তোমার জন্য উত্তম হলো, তুমি অপরপক্ষের লোকের অনুসরণ না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করবে; যেন এই অকল্যাণের ব্যাপারে তিনি তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং এই অকল্যাণকে তোমার থেকে সরিয়ে দেন।