📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিগুলো ভালোভাবে জানা

📄 সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিগুলো ভালোভাবে জানা


প্রবাদ আছে, মাথায় কুড়ালের আঘাত লাগলে প্রথমে জেনে নাও, আঘাতটা কতটা গভীর; এরপর সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করো। সুতরাং সমস্যা ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি জানা থাকলে সমাধান সহজ হবে। ইলম ও তদনুযায়ী আমল বৃদ্ধির জন্য সর্বোত্তম হলো, কুরআন-সুন্নাহ এবং বিভিন্ন ইসলামি বই পড়া। এ ছাড়াও উপকারী ইসলামি আলোচনা ও বয়ান শোনার মাঝেও আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। আলহামদুলিল্লাহ, বিভিন্ন ক্যাসেটের দোকানে এবং ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে বিভিন্ন নামে এ সংক্রান্ত প্রচুর বই রয়েছে। বৈবাহিক জীবনের আচার-আচরণ, শিশু লালনপালনের পদ্ধতি, প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণ ইত্যাদি।

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 অধিক পরিমাণে দুআ ও কাকুতিমিনতি করা

📄 অধিক পরিমাণে দুআ ও কাকুতিমিনতি করা


আমাদের যত চিন্তা-পেরেশানি ও দুঃখ-কষ্ট, তার সবই আমাদের পাপ ও অপরাধের কারণেই এসে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

فَكُلًّا أَخَذْنَا بِذَنْبِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِ حَاصِبًا وَمِنْهُمْ مَنْ أَخَذَتْهُ الصَّيْحَةُ وَمِنْهُمْ مَنْ خَسَفْنَا بِهِ الْأَرْضَ وَمِنْهُمْ مَنْ أَغْرَقْنَا وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴾

“আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে আঘাত করেছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জিত। বস্তুত আল্লাহ এমন নন যে, তাদের প্রতি জুলুম করবেন; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।”৩৭

অপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِير

“তোমাদের ওপর যেসব বিপদাপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ মার্জনা করে দেন।”৩৮

মুহাম্মাদ বিন সিরিন রহ. যখন ঋণে জর্জরিত হয়ে পেরেশান হলেন, তখন তিনি বললেন, 'অবশ্যই আমি জানি, এই পেরেশানি আমার গুনাহের কারণেই এসেছে—যা আমি চল্লিশ বছর ধরে করেছি।'

আমরা আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে কত যে সীমালঙ্ঘন করেছি এবং কত গুনাহ ও অপরাধ যে করেছি, তার কোনো হিসেব নেই! কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাই আমাদের দুঃখ-মুসিবত ও বিপদের সময় যেন আমরা আল্লাহ তাআলার দিকে প্রত্যাবর্তন করি এবং তাঁর নিকট তাওবা করি। আল্লাহ আমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করবেন এবং আমাদের ভুলত্রুটিগুলো মার্জনা করবেন। পরিশেষে আমি আবারও বলছি, গুনাহের কারণেই বিপদাপদ নেমে আসে, আবার তাওবার কারণে তা উঠে যায়।

টিকাঃ
৩৭. সুরা আনকাবুত: ৪০
৩৮. সুরা শুরা: ৩০

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 মানুষের কষ্ট প্রদান ও ক্ষতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা

📄 মানুষের কষ্ট প্রদান ও ক্ষতির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা


প্রতিটি মুসলমানেরই এ কথা জানা উচিত যে, মানুষের কষ্টপ্রদান বিশেষ করে খারাপ কথা ও অন্যায় অপবাদের মাধ্যমে কষ্টপ্রদান তার বিশেষ কোনো ক্ষতি করবে না; বরং এটা উল্টো ওদেরই ক্ষতির কারণ হবে। তুমি ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর এই সুন্দর ও অতি মূল্যবান কথাটা মনে রেখো। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কথা শোনা থেকে মুক্ত থাকতে চায়, সে পাগল। তারা তো আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে বলে যে, তিনি তিনজনের একজন। নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলে জাদুকর, পাগল। তাহলে তোমার কি মনে হয় যে, যারা তাঁদের চেয়ে নিম্নমানের, তারা নিরাপদ থাকবে?”

মিথ্যা অপবাদ থেকে রবের মর্যাদা নিরাপদ নয়, নবুওয়াতের অবস্থান নিরাপদ নয়, আর তুমি মানুষের কথা শোনা থেকে নিরাপদ থাকবে? তুমি সর্বদা এই দুআ করবে, হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনিই যথেষ্ট হয়ে যান।

যে ব্যক্তি তার জবানকে হিফাজত করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মানিত করবেন। তাকে পুরস্কার ও প্রতিদান দেবেন; বিশেষ করে, মানুষের ঠাট্টা-উপহাস ও অন্যায়-অপবাদ শোনার পরও যে নিজ জবানকে হিফাজত করে। তুমি এমন প্রতিদানের সুসংবাদ গ্রহণ করো, যা তোমাকে দেওয়া হবে; অথচ তুমি তার সম্পর্কে কিছুই জান না। তবে কিয়ামতের দিন যখন আমলনামা খোলা হবে, তখন তা দেখতে পাবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

أَمْسِكُ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ

"তুমি তোমার জবানকে হিফাজত করো এবং নিজ ঘরকে প্রশস্ত করো এবং নিজ ভুলের কারণে ক্রন্দন করো।"৩৯

টিকাঃ
৩৯. শুআবুল ইমান: ৭৮৪

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 বিপদ-আপদ এলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাও

📄 বিপদ-আপদ এলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাও


নামাজের মধ্যে রয়েছে হৃদয়ের প্রশান্তি, অন্তরের নিশ্চিন্ততা। নামাজের মাধ্যমে দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-মুসিবতে সাহায্য চাইলে আল্লাহ তাআলা সাহায্য করেন। আল্লাহ তআলা বলেন-

وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةُ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ.

“তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্য এটা অনেক কঠিন, তবে বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।”৪০

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

يَا بِلَالُ، أَرِحْنَا بِالصَّلَاةِ.

“হে বিলাল, নামাজের মাধ্যমে আমাদের শান্তি দাও।"৪১

[নোট. এখানে নামাজের মাধ্যমে শান্তি দেওয়ার অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল রা.-কে ইকামতের আদেশ দিতেন। অর্থাৎ ইকামতের মাধ্যমে নামাজ শুরু হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানসিকভাবে প্রশান্তি লাভ করতেন। এ কথাটিই এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, “হে বিলাল, নামাজের মাধ্যমে আমাদের শান্তি দাও।” সুনানে আবু দাউদের বর্ণনা থেকে এর ব্যাখ্যা স্পষ্টভাবে বুঝা যায়। দেখুন- সুনানে আবু দাউদ : ৪/২৯৬, হা. নং ৪৯৮৫ (প্র. আল মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরূত) - সম্পাদক]

আমরা নামাজের মধ্যে রুকু-সিজদাতে আমাদের নিচুতা-হীনতা ও তুচ্ছতা প্রকাশ করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট আমাদের দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-মুসিবতের কথা প্রকাশ করব। আল্লাহর শপথ করে বলছি, এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার যে, তুমি তোমার বিপদ-মুসিবতের সময় একান্তে আল্লাহ তাআলার নিকট নিজের বিপদ ও সমস্যার কথা প্রকাশ করবে এবং মুনাজাত করে তাঁর সাথে কথা বলে নিজের দুঃখ-কষ্ট ভুলবে। আর প্রশান্ত করবে নিজের মনকে।

টিকাঃ
৪০. সুরা বাকারা: ৪৫
৪১. মুসনাদে আহমাদ: ২৩০৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00