📄 আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করা
এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। কিন্তু অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন থাকে। কখনো কখনো মানুষকে এমন বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়, যা সন্দেহযুক্ত অথবা মাকরুহ আবার কোনোটা সরাসরি হারাম। আর তখন সে তার মনিবকে খুশি করার জন্য তা অবলীলায় করে ফেলে। যেমন: কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে খুশি করার জন্য এমন হারাম কাজ করে ফেলে, যাতে আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হন। অর্থাৎ মানুষকে খুশি করার জন্য আল্লাহর নাফরমানি করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
مَنْ طَلَبَ رِضَا اللهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنَ الْتَمَسَ سَخَطَ اللَّهِ بِرِضًا النَّاسِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ
“যে ব্যক্তি মানুষের ক্রোধ সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাআলা-ই মানুষের ব্যাপারে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
আর যে আল্লাহর ক্রোধ সত্ত্বেও মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাআলা তার সকল দায়-দায়িত্ব মানুষের কাছেই অর্পণ করে দেন।"৩৫
এ কারণেই কোনো হারাম সিদ্ধান্ত ও সমাধানের পথ বেছে নেওয়া জায়েজ নেই। চাই সেটা নিজের ব্যাপারে হোক কিংবা আল্লাহর হকের ব্যাপারে হোক বা হোক তা মানুষের হকের ব্যাপারে। সুতরাং আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো সমাধানই সমাধান নয় এবং কোনো কল্যাণই কল্যাণ নয়।
টিকাঃ
৩৫. মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুইয়াহ: ১১৭৫
📄 পারতপক্ষে সরকারি মাধ্যম তথা থানা-পুলিশ ও কোর্ট-কাছারির দ্বারস্থ না হওয়া
মানুষের সমস্যা বিভিন্ন ধরনের। উত্তম আচরণ, ধৈর্যধারণ ও ভেবে-চিন্তে, ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণই সমাধানের জন্য যথেষ্ট। আর এ কারণেই যথাসম্ভব থানা-পুলিশ ও কোট-কাছারির দ্বারস্থ না হওয়া উচিত; যাতে পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ না বাড়ে এবং দূরত্ব ও ফাটল আরও গভীর না হয়। আবার কখনো তো এ কারণেই উক্ত সমস্যাটা আরও গভীর ও জটিল আকার ধারণ করে। সুতরাং মধ্যস্থতা ও উপদেশবাণী শোনানোর পরও সমস্যা সমাধানের কোনো উপায় না হলে, তবেই সর্বশেষ ধাপ হিসেবে সরকারি মাধ্যম গ্রহণ করা যেতে পারে। কিছু বিচারকার্য অবশ্য (পরস্পর নসিহত ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে না করে) সরাসরি শরয়ি আইনে করলেই অধিকার আদায় নিশ্চিত হয়; বিশেষত প্রতিপক্ষ যদি মূর্খ, গোঁয়ার, বিদ্বেষী ও হিংসুক প্রকৃতির হয়।
📄 সুন্দর কথা ও উত্তম আচরণ করা
সুন্দর কথা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে বেশির ভাগ সমস্যাই সমাধান হয়ে যায়। উভয় দিকের লোককেই বাস্তবতার প্রতি লক্ষ করে উত্তম আচরণ প্রকাশ করতে হবে এবং পরিহার করতে হবে নেতিবাচক বিষয়গুলো।
এ বিষয়টি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই কাম্য। অনুরূপভাবে নিকটাত্মীয়, পরিচিতজন এবং প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রেও একই কথা। কারণ, এ সকল সম্পর্ক অনেক দীর্ঘ; বরং বলা যায় চিরজীবনের। সুতরাং সামান্য খারাপ আচরণ ও আঘাত দিয়ে কথা বলার মাধ্যমে সম্পর্ক নষ্ট করা ঠিক নয়। এ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উচিত। তুমি আল্লাহ তাআলার এই কালাম নিয়ে একটু ভেবে দেখো। আল্লাহ তাআলা বলেন-
الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴾
"যারা সচ্ছলতা ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগ সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। বস্তুত আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।”৩৬
রাগ সংবরণ ক্রমান্বয়ে ক্ষমা প্রদর্শনের দিকে নিয়ে যায়; বরং বলা যায়, ধীরে ধীরে দয়া ও ইহসানের পথে ধাবিত করে। কেউ যদি এ উত্তম আচরণগুলোর একটি আচরণও প্রয়োগ করে, তাহলে এর প্রভাব অনেক গভীরে গিয়ে পড়ে। আর যদি সব উত্তম আচরণই গ্রহণ করে, তাহলে এর প্রভাব কতটা হবে, একবার ভেবে দেখো!
টিকাঃ
৩৬. সুরা আলে ইমরান: ১৩৪
📄 সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিগুলো ভালোভাবে জানা
প্রবাদ আছে, মাথায় কুড়ালের আঘাত লাগলে প্রথমে জেনে নাও, আঘাতটা কতটা গভীর; এরপর সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করো। সুতরাং সমস্যা ও সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি জানা থাকলে সমাধান সহজ হবে। ইলম ও তদনুযায়ী আমল বৃদ্ধির জন্য সর্বোত্তম হলো, কুরআন-সুন্নাহ এবং বিভিন্ন ইসলামি বই পড়া। এ ছাড়াও উপকারী ইসলামি আলোচনা ও বয়ান শোনার মাঝেও আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। আলহামদুলিল্লাহ, বিভিন্ন ক্যাসেটের দোকানে এবং ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে বিভিন্ন নামে এ সংক্রান্ত প্রচুর বই রয়েছে। বৈবাহিক জীবনের আচার-আচরণ, শিশু লালনপালনের পদ্ধতি, প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণ ইত্যাদি।