📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 বিপদকে কখনো কল্যাণকর ভাবা

📄 বিপদকে কখনো কল্যাণকর ভাবা


বান্দার দৃষ্টি সীমিত ও তার জ্ঞান অল্প। আজ সে যেটাকে বিপদ ও মুসিবত মনে করছে, হয়তো আগামীকালই এটা তার জন্য কল্যাণ ও পুরস্কার হিসেবে সামনে আসবে। যেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴾

"পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তো বা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তোমাদের জন্য তা অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ-ই (সব) জানেন, তোমরা জান না।"৩৪

এই আয়াতের মধ্যে বান্দার জন্য হিকমত, রহস্য ও কল্যাণের অনেকগুলো দিক রয়েছে। বান্দা যদি জানত যে, হয়তো তার এই অপ্রিয় বিষয়টিই সামনে তার জন্য প্রিয় হয়ে আসবে, আবার প্রিয় বিষয়টি অপ্রিয় হয়ে আসবে; তাহলে সে কখনো কল্যাণের আকৃতিতে অকল্যাণ আসার ব্যাপারে নিরাপদ থাকত না, আবার অকল্যাণের আকৃতিতে কল্যাণ আসার ব্যাপারে নিরাশ হতো না। কারণ, সে তো শেষ পরিণতি সম্পর্কে কিছুই জানে না। একমাত্র আল্লাহ তাআলা-ই আগ-পরের সবকিছু জানেন।

কত রমণী আছে, যাদের তালাক তাদের জন্য কল্যাণকর হয়েছে। সে ধৈর্যধারণ করেছে এবং সাওয়াবের আশা করেছে; ফলে এটা তার জন্য সাওয়াব, ইবাদত ও নৈকট্যলাভের কারণ হয়েছে। কখনো কখনো তো তার জন্য পূর্বের স্বামীর চেয়েও উত্তম স্বামী এসে যায়। কত বাবা রয়েছে, সন্তান সম্পর্কে যাদের ধারণা একেবারে কদর্য হয়ে যায়। কিন্তু এ কারণেই সে তার আদর্শ ও দীক্ষার বিষয়গুলো নতুন করে খতিয়ে দেখে। আর এটা তার জন্য কল্যাণকরই হয়। কত মানুষ রয়েছে, যাদের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড রকম বিপদ-মুসিবত আসে। ফলে প্রথমদিকে এটা তার জন্য দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়; কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটাই হয় তার আনন্দ ও প্রশান্তির উপলক্ষ্য।

টিকাঃ
৩৪. সুরা বাকারা: ২১৬

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 মৃত্যু, কবর, হিসাব, পুলসিরাত ও কিয়ামতের ভয়াবহতার কথা অধিক স্মরণ করা

📄 মৃত্যু, কবর, হিসাব, পুলসিরাত ও কিয়ামতের ভয়াবহতার কথা অধিক স্মরণ করা


এখন বেশির ভাগ মানুষই নিজ আমলের হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে উদাসীন। আর কেউ যখন কোনো সমস্যায় পতিত হয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে মনোনিবেশ করে, তখন সে বুঝতে পারে যে, সে এ ব্যাপারে কতটা সীমালঙ্ঘন করেছে!

জ্ঞানী ব্যক্তি জানে, তার নিশ্চিন্ত ও সুখের জীবন খুবই সীমিত। আর বিপদ ও মুসিবত যত বড়ই হোক না কেন, মৃত্যু ও তার যন্ত্রণার সামনে তা একেবারেই নগণ্য।

সুতরাং মৃত্যুর স্মরণ অন্য সব বিষয়কে তুচ্ছ করে তোলে এবং দুনিয়া ও দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতকে হালকা করে দেয়। এটা আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয়াবহতাকে মানুষের নিকট বড় ও গুরুত্ববহ করে তোলে এবং দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতকে একেবারেই তুচ্ছ করে দেয়।

মুমিন কষ্ট-মুসিবতের ওপর সবচেয়ে বেশি ধৈর্যধারণ করে। কঠিন বিপদের সময় প্রশান্ত চিত্তে দৃঢ়তার সাথে নিজ অবস্থানের ওপর অটল থাকে। কারণ, সে জানে—পরকালের জীবনের তুলনায় তাদের দুনিয়ার জীবন খুবই ছোট। সুতরাং তারা এটা কামনা করে না, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বেই দুনিয়া তাদের জন্য জান্নাত হয়ে যাক।

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করা

📄 আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করা


এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। কিন্তু অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন থাকে। কখনো কখনো মানুষকে এমন বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয়, যা সন্দেহযুক্ত অথবা মাকরুহ আবার কোনোটা সরাসরি হারাম। আর তখন সে তার মনিবকে খুশি করার জন্য তা অবলীলায় করে ফেলে। যেমন: কোনো স্ত্রী তার স্বামীকে খুশি করার জন্য এমন হারাম কাজ করে ফেলে, যাতে আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হন। অর্থাৎ মানুষকে খুশি করার জন্য আল্লাহর নাফরমানি করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

مَنْ طَلَبَ رِضَا اللهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَمَنَ الْتَمَسَ سَخَطَ اللَّهِ بِرِضًا النَّاسِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ

“যে ব্যক্তি মানুষের ক্রোধ সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাআলা-ই মানুষের ব্যাপারে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

আর যে আল্লাহর ক্রোধ সত্ত্বেও মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাআলা তার সকল দায়-দায়িত্ব মানুষের কাছেই অর্পণ করে দেন।"৩৫

এ কারণেই কোনো হারাম সিদ্ধান্ত ও সমাধানের পথ বেছে নেওয়া জায়েজ নেই। চাই সেটা নিজের ব্যাপারে হোক কিংবা আল্লাহর হকের ব্যাপারে হোক বা হোক তা মানুষের হকের ব্যাপারে। সুতরাং আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো সমাধানই সমাধান নয় এবং কোনো কল্যাণই কল্যাণ নয়।

টিকাঃ
৩৫. মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুইয়াহ: ১১৭৫

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 পারতপক্ষে সরকারি মাধ্যম তথা থানা-পুলিশ ও কোর্ট-কাছারির দ্বারস্থ না হওয়া

📄 পারতপক্ষে সরকারি মাধ্যম তথা থানা-পুলিশ ও কোর্ট-কাছারির দ্বারস্থ না হওয়া


মানুষের সমস্যা বিভিন্ন ধরনের। উত্তম আচরণ, ধৈর্যধারণ ও ভেবে-চিন্তে, ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণই সমাধানের জন্য যথেষ্ট। আর এ কারণেই যথাসম্ভব থানা-পুলিশ ও কোট-কাছারির দ্বারস্থ না হওয়া উচিত; যাতে পরস্পরের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ না বাড়ে এবং দূরত্ব ও ফাটল আরও গভীর না হয়। আবার কখনো তো এ কারণেই উক্ত সমস্যাটা আরও গভীর ও জটিল আকার ধারণ করে। সুতরাং মধ্যস্থতা ও উপদেশবাণী শোনানোর পরও সমস্যা সমাধানের কোনো উপায় না হলে, তবেই সর্বশেষ ধাপ হিসেবে সরকারি মাধ্যম গ্রহণ করা যেতে পারে। কিছু বিচারকার্য অবশ্য (পরস্পর নসিহত ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে না করে) সরাসরি শরয়ি আইনে করলেই অধিকার আদায় নিশ্চিত হয়; বিশেষত প্রতিপক্ষ যদি মূর্খ, গোঁয়ার, বিদ্বেষী ও হিংসুক প্রকৃতির হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00