📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা

📄 বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা


আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে বক্ষ প্রশস্ত হয়, হৃদয়ের দ্বার খুলে যায়, দূর হয় সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি। বিশেষ করে, দুঃখ-মুসিবতের সময় বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করলে অন্তর প্রশান্ত হয়। কেননা, অন্তর নিশ্চিন্ততা ও চিন্তামুক্ত থাকার ক্ষেত্রে জিকিরের অনেক প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন- أَلا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ﴾

"জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।"৩২

জিকির, যেমন : حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ )“আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক!") দুআটি বলা।

সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الوَكِيلُ، قَالَهَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَقَالَهَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالُوا: {إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا، وَقَالُوا: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الوَكِيلُ}

“ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ইবরাহিম আ.-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তিনি এ দুআটি বলেছিলেন। অনুরূপ দুআটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও বলেছিলেন, যখন তারা (মুনাফিকরা) তাঁকে বলেছিল (কুরআনের ভাষায়(- إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ তোমাদের বিরুদ্ধে একত্র হয়েছে। অতএব তাদের ভয় করো। আর এটা তাঁদের ইমানই কেবল বৃদ্ধি করল। আর তাঁরা (মুমিনরা) বলল, আল্লাহ তাআলা-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই উত্তম দায়িত্বগ্রহণকারী।]"

এভাবে لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ “আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই।"] দুআটি পড়া।

টিকাঃ
৩২. সুরা রা'দ: ২৮
৩৩. সহিহ বুখারি: ৪৫৬৩

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 হারাম মাধ্যম গ্রহণ না করা

📄 হারাম মাধ্যম গ্রহণ না করা


মানুষ বিপদে পতিত হলে বুঝতে পারে, সে বিপদে পতিত হয়েছে। পাশাপাশি সে এটাও জানতে পারে যে, তার বিপদে পতিত হওয়ার মূল কারণটা আসলে কী? হোক সেটা তালাক, বিচ্ছেদ বা অন্য কোনো সমস্যা। সুতরাং প্রত্যেক বিপদগ্রস্তকে এই নতুন বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে সমাধানের একটা সহজ ও সঠিক পথ বের করতে হবে।

কখনো কখনো সমস্যার সমাধানটা তার কাছে অনেক কঠিন মনে হবে। মনে হবে তার সামনে সমাধানের সকল পথ বন্ধ। সাথে ভয় ও দুর্বলতা তো আছেই। তখন কেউ কেউ এসে তাকে নাজায়েজ পন্থা অবলম্বনের জন্য পীড়াপীড়ি করবে। যেমন: জাদুকার, গণক, জ্যোতিষীদের কাছে যেতে বলবে। তখন কেউ কেউ প্রতিশোধের নেশায় এবং প্রতিপক্ষের ক্ষতির মধ্যে সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টায় তাবিজ-কবজ ও জাদু-টোনার মাধ্যমে তার জীবন অতিষ্ঠ করে তোলবে। এমনটি করা উচিত নয়। এটা নাজায়েজ।

হে বিপদগ্রস্ত (ভাই/বোন), তুমি ধৈর্যধারণ করো। তাহলে আল্লাহ তাআলার নিকট প্রতিদান পাবে। তুমি জাদু-টোনা করে কাউকে কষ্ট দিয়ে আল্লাহর অবাধ্য হয়ে নিজের জীবনকে শেষ করে দিয়ো না।

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 বিপদকে কখনো কল্যাণকর ভাবা

📄 বিপদকে কখনো কল্যাণকর ভাবা


বান্দার দৃষ্টি সীমিত ও তার জ্ঞান অল্প। আজ সে যেটাকে বিপদ ও মুসিবত মনে করছে, হয়তো আগামীকালই এটা তার জন্য কল্যাণ ও পুরস্কার হিসেবে সামনে আসবে। যেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴾

"পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তো বা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয়, অথচ তোমাদের জন্য তা অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ-ই (সব) জানেন, তোমরা জান না।"৩৪

এই আয়াতের মধ্যে বান্দার জন্য হিকমত, রহস্য ও কল্যাণের অনেকগুলো দিক রয়েছে। বান্দা যদি জানত যে, হয়তো তার এই অপ্রিয় বিষয়টিই সামনে তার জন্য প্রিয় হয়ে আসবে, আবার প্রিয় বিষয়টি অপ্রিয় হয়ে আসবে; তাহলে সে কখনো কল্যাণের আকৃতিতে অকল্যাণ আসার ব্যাপারে নিরাপদ থাকত না, আবার অকল্যাণের আকৃতিতে কল্যাণ আসার ব্যাপারে নিরাশ হতো না। কারণ, সে তো শেষ পরিণতি সম্পর্কে কিছুই জানে না। একমাত্র আল্লাহ তাআলা-ই আগ-পরের সবকিছু জানেন।

কত রমণী আছে, যাদের তালাক তাদের জন্য কল্যাণকর হয়েছে। সে ধৈর্যধারণ করেছে এবং সাওয়াবের আশা করেছে; ফলে এটা তার জন্য সাওয়াব, ইবাদত ও নৈকট্যলাভের কারণ হয়েছে। কখনো কখনো তো তার জন্য পূর্বের স্বামীর চেয়েও উত্তম স্বামী এসে যায়। কত বাবা রয়েছে, সন্তান সম্পর্কে যাদের ধারণা একেবারে কদর্য হয়ে যায়। কিন্তু এ কারণেই সে তার আদর্শ ও দীক্ষার বিষয়গুলো নতুন করে খতিয়ে দেখে। আর এটা তার জন্য কল্যাণকরই হয়। কত মানুষ রয়েছে, যাদের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড রকম বিপদ-মুসিবত আসে। ফলে প্রথমদিকে এটা তার জন্য দুঃখ-কষ্টের কারণ হয়; কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটাই হয় তার আনন্দ ও প্রশান্তির উপলক্ষ্য।

টিকাঃ
৩৪. সুরা বাকারা: ২১৬

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 মৃত্যু, কবর, হিসাব, পুলসিরাত ও কিয়ামতের ভয়াবহতার কথা অধিক স্মরণ করা

📄 মৃত্যু, কবর, হিসাব, পুলসিরাত ও কিয়ামতের ভয়াবহতার কথা অধিক স্মরণ করা


এখন বেশির ভাগ মানুষই নিজ আমলের হিসাব-নিকাশের ব্যাপারে উদাসীন। আর কেউ যখন কোনো সমস্যায় পতিত হয়ে আল্লাহ তাআলার দিকে মনোনিবেশ করে, তখন সে বুঝতে পারে যে, সে এ ব্যাপারে কতটা সীমালঙ্ঘন করেছে!

জ্ঞানী ব্যক্তি জানে, তার নিশ্চিন্ত ও সুখের জীবন খুবই সীমিত। আর বিপদ ও মুসিবত যত বড়ই হোক না কেন, মৃত্যু ও তার যন্ত্রণার সামনে তা একেবারেই নগণ্য।

সুতরাং মৃত্যুর স্মরণ অন্য সব বিষয়কে তুচ্ছ করে তোলে এবং দুনিয়া ও দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতকে হালকা করে দেয়। এটা আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয়াবহতাকে মানুষের নিকট বড় ও গুরুত্ববহ করে তোলে এবং দুনিয়ার বিপদ-মুসিবতকে একেবারেই তুচ্ছ করে দেয়।

মুমিন কষ্ট-মুসিবতের ওপর সবচেয়ে বেশি ধৈর্যধারণ করে। কঠিন বিপদের সময় প্রশান্ত চিত্তে দৃঢ়তার সাথে নিজ অবস্থানের ওপর অটল থাকে। কারণ, সে জানে—পরকালের জীবনের তুলনায় তাদের দুনিয়ার জীবন খুবই ছোট। সুতরাং তারা এটা কামনা করে না, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বেই দুনিয়া তাদের জন্য জান্নাত হয়ে যাক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00