📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 সমস্যার পরিণতির প্রতি লক্ষ্য করা

📄 সমস্যার পরিণতির প্রতি লক্ষ্য করা


সমস্যা ও জটিলতা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে ধৈর্য, সহ্য, শক্তি ও অবিচল থাকার দিক থেকেও মানুষের অন্তরসমূহ বিভিন্ন ধরনের। তুমি যাকে সমস্যা মনে করছ, অন্যজন তাকে সমস্যা নাও মনে করতে পারে। এ কারনেই সমস্যার ব্যাপারে ধারণা স্বচ্ছ হওয়া চাই; যাতে সমস্যার শেষ পরিণতি ও তার সর্বোচ্চ ক্ষতির পরিমাপ করা যায়।

সুতরাং যখন কোনো স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়, তখন তার একেবারে ভেঙে না পড়া উচিত। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রথম স্বামীর চেয়ে উত্তম স্বামীও দান করতে পারেন। অনুরূপভাবে যখন কারও মা-বাবা মারা যায়, তখন তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং এই ভেবে শুকরিয়া আদায় করতে হবে যে, দুনিয়া হলো আখিরাতের ফল বা ফসল সংগ্রহ করার খেতস্বরূপ। আর আল্লাহ তাআলা তাকে এখানে আরও কিছু সময় অবস্থান করে সংশোধন হওয়া ও আখিরাতের জন্য পুঁজি সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছেন।

এভাবে তুমি প্রতিটি সমস্যা ও মুসিবতকে পরিমাপ করবে। কখনো তুমি তাকে তার পরিমাণ ও পরিমাপের চেয়ে বড় ও কঠিন হিসেবে গ্রহণ করবে না। তুমি কখনো এটা মনে কোরো না যে—এটাই হলো দুনিয়ার শেষ, এর পর শুধু খারাপ আর ধ্বংসই রয়েছে।

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 বেশি বেশি ইসতিগফার পড়া

📄 বেশি বেশি ইসতিগফার পড়া


অন্তরের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো, আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করা এবং তাঁর তাওফিক ও সাহায্য কামনা করা। আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণের একটি বড় মাধ্যম হলো, বেশি বেশি ইসতিগফার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

مَنْ أَكْثَرَ مِنَ الاسْتِغْفَارِ، جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمَّ فَرَجًا، وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

“যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে ইসতিগফার পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে সকল পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন এবং সকল সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত রিজিক দান করবেন।”১৯

আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার অনেক বড় একটি নিয়ামত এই যে, তিনি আমাদের জিহ্বাকে অনেক হালকা বানিয়েছেন এবং কোনো ধরনের কষ্ট ছাড়াই তার নড়াচড়ার ব্যবস্থা করেছেন।

টিকাঃ
১৯. মুসনাদে আহমাদ: ২২৩৪

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 মাসনূন দুআসমূহ আদায় করা

📄 মাসনূন দুআসমূহ আদায় করা


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বিপদ-মুসিবতের সময় অস্থিরতা ও পেরেশানি দূর করার দুআ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি যখন কোনো বিষয়ে কষ্ট পেতেন, তখন বলতেন-

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ.

“হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা, আমি আপনার রহমতের ওসিলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।”২০

অপর এক সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেরেশানি ও বিপদের সময় এই দুআ শিক্ষা দিয়েছেন-

اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا

“আল্লাহ আমার রব। তাঁর সাথে আমি কোনো কিছুকে শরিক করি না।”২১

সহিহ বুখারিতে একটি দুআ পড়ার কথা এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

“হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট দুঃখ, পেরেশানি, অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”২৪

কোনো বিষয় কঠিন ও কষ্টকর হলে এই দুআ পড়বে-

اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزَنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا

“হে আল্লাহ, আপনি যা কিছু সহজ করেছেন, তা ব্যতীত অন্য কিছু সহজ নেই। আর আপনি চাইলে দুঃখকে সহজ করে দেন।”২৫

দুআর মাধ্যমে সবকিছুই অর্জন করা সম্ভব। এমনকি দুআর মাধ্যমে তাকদিরও পরিবর্তন হয়। হাদিস শরিফে এসেছে-

لَا يَرُدُّ القَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ

“একমাত্র দুআই তাকদিরকে পরিবর্তন করতে পারে।”২৬

টিকাঃ
২০. সুনানে তিরমিজি: ৩৫২৪
২১. মুসনাদে আহমাদ: ২৭০৮২
২৪. সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯
২৫. আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৩৫১
২৬. সুনানে তিরমিজি: ২১৩৯

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 আল্লাহ তাআলার ওপর তাওয়াক্কুল করা

📄 আল্লাহ তাআলার ওপর তাওয়াক্কুল করা


বিপদ-মুসিবতে (কেউ) আল্লাহ তাআলার ওপর তাওয়াক্কুল করতে পারাটা (তার জন্য এটা) আল্লাহ তাআলার অনেক বড় একটি নিয়ামত। দুঃখ- কষ্ট ও বিপদ-মুসিবতের সময় আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করে তাঁর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থেকে বিষয়গুলোর সহজতার জন্য দুআ করার মধ্যে রয়েছে অন্তরের প্রশান্তি। ইবাদত ও নৈকট্যের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো, আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করা এবং সকল বিষয় তাঁর ওপর ন্যস্ত করা।

তাওয়াক্কুলের মধ্যে মনের স্থিরতা, দিলের প্রশান্তি ও অন্তরের নিশ্চিন্ততা রয়েছে। যারা এই মহান গুণের অধিকারী, আল্লাহ তাআলা তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ ﴾

“নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুল অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।”২৭

কেউ কি তার প্রেমাষ্পদকে কষ্ট দেয়? তাকে দূরে সরিয়ে রাখে? তার থেকে আড়ালে থাকে?

অপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ ﴾

“আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”২৮

তাওয়াক্কুলের ফজিলত অনেক। এর প্রমাণ এই আয়াত। আর এটা উপকার অর্জন এবং অপকার দূর করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

আল্লাহ তাআলা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই সকল বিষয় পরিচালনা করেন। সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ একমাত্র তাঁরই হাতে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ﴾

"তিনিই সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোনো শাফাআতকারী নেই।"২৯

প্রত্যেকেরই এই বিশ্বাস রাখতে হবে, সমস্যা সমাধানে যে চেষ্টা-মুজাহাদা ও কষ্ট-ক্লেশ সে করে, এগুলো আসবাব গ্রহণ ও মাধ্যম অবলম্বন ব্যতীত আর কিছুই নয়। সমস্যার সমাধান ও সবকিছুর পরিচালনা তো একমাত্র আল্লাহ তাআলা-ই করে থাকেন। তিনি যা চান, তা-ই হয়। এবং যা চান না, তা হয় না। তুমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ হাদিস নিয়ে একটু চিন্তা করো। তিনি বলেন-

وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوْ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللهُ لَكَ، وَلَوْ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الْأَقْلَامُ وَجَفَّتْ الصحف.

“আর জেনে রাখো, যদি সমগ্র জাতি তোমার কোনো উপকার করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে তারা তোমার ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা সবাই তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য একতাবদ্ধ হয়, তাহলে তারা তোমার ততটুকু ক্ষতিই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে।”৩০

টিকাঃ
২৭. সুরা আলে ইমরান: ১৫৯
২৮. সুরা তালাক: ৩
২৯. সুরা ইউনুস: ৩
৩০. সুনানে তিরমিজি: ২৫১৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00