📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 সমস্যা সমাধানে উত্তম পদ্ধতি প্রয়োগ করা

📄 সমস্যা সমাধানে উত্তম পদ্ধতি প্রয়োগ করা


এক লোক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমাকে নসিহত করুন। তিনি বললেন- لَا تَغْضَبْ فَرَدَّدَ مِرَارًا، قَالَ: لَا تَغْضَبْ “তুমি রাগ কোরো না। লোকটি কয়েকবার তা বলল; তিনি প্রত্যেকবারই বললেন, তুমি রাগ কোরো না। "১৬

এরপর তিনি বললেন- لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الغَضَبِ “প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই হলো আসল বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"১৭

রাগ সঠিক ও সুস্থ চিন্তার জন্য অন্তরায়। রাগ মানুষকে বিক্ষিপ্ত ও অস্থির চিন্তার দিকে ঠেলে দেয়। আর তখন মানুষ আবেগী হয়ে যায়। আবেগের বসে সে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু করে ফেলে। সুতরাং প্রথমে ভালোভাবে স্থির ও শান্ত হতে হবে। এরপর উত্তম পদ্ধতিতে সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। অনেক জ্ঞানী মহিলা তাদের রাগী ও কর্কশ স্বামীর সাথে দয়া ও নম্রতার আচরণ করে। ফলে কিছু সময় পরেই আবার তার স্বামী তার কাছে ফিরে আসে।

এ ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা প্রচুর। আর এ কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এর আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন-

﴿وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ ﴾

"ভালো ও মন্দ সমান নয়। (তাদের কথার) জবাবে তা-ই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন, আপনার সাথে যে ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু।”১৮

কিছু মানুষ আছে, যারা স্বভাবগতভাবেই রাগী। কথায় কথায় রেগে যায়। বন্ধুবান্ধবরা তাকে নিয়ে সর্বদা একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। তার সাথে কথা বলতে ভয় পায়। এমন বন্ধুর ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য এবং তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে এবং মাঝে মাঝে তাকে হাদিয়া দেবে।

টিকাঃ
১৬. সহিহ বুখারি: ৬১১৬
১৭. সহিহ বুখারি: ৬১১৪
১৮. সুরা হা-মীম সাজদা: ৩৪

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 সমস্যার পরিণতির প্রতি লক্ষ্য করা

📄 সমস্যার পরিণতির প্রতি লক্ষ্য করা


সমস্যা ও জটিলতা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে ধৈর্য, সহ্য, শক্তি ও অবিচল থাকার দিক থেকেও মানুষের অন্তরসমূহ বিভিন্ন ধরনের। তুমি যাকে সমস্যা মনে করছ, অন্যজন তাকে সমস্যা নাও মনে করতে পারে। এ কারনেই সমস্যার ব্যাপারে ধারণা স্বচ্ছ হওয়া চাই; যাতে সমস্যার শেষ পরিণতি ও তার সর্বোচ্চ ক্ষতির পরিমাপ করা যায়।

সুতরাং যখন কোনো স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়, তখন তার একেবারে ভেঙে না পড়া উচিত। কারণ, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রথম স্বামীর চেয়ে উত্তম স্বামীও দান করতে পারেন। অনুরূপভাবে যখন কারও মা-বাবা মারা যায়, তখন তাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং এই ভেবে শুকরিয়া আদায় করতে হবে যে, দুনিয়া হলো আখিরাতের ফল বা ফসল সংগ্রহ করার খেতস্বরূপ। আর আল্লাহ তাআলা তাকে এখানে আরও কিছু সময় অবস্থান করে সংশোধন হওয়া ও আখিরাতের জন্য পুঁজি সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছেন।

এভাবে তুমি প্রতিটি সমস্যা ও মুসিবতকে পরিমাপ করবে। কখনো তুমি তাকে তার পরিমাণ ও পরিমাপের চেয়ে বড় ও কঠিন হিসেবে গ্রহণ করবে না। তুমি কখনো এটা মনে কোরো না যে—এটাই হলো দুনিয়ার শেষ, এর পর শুধু খারাপ আর ধ্বংসই রয়েছে।

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 বেশি বেশি ইসতিগফার পড়া

📄 বেশি বেশি ইসতিগফার পড়া


অন্তরের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো, আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করা এবং তাঁর তাওফিক ও সাহায্য কামনা করা। আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণের একটি বড় মাধ্যম হলো, বেশি বেশি ইসতিগফার পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

مَنْ أَكْثَرَ مِنَ الاسْتِغْفَارِ، جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمَّ فَرَجًا، وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

“যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণে ইসতিগফার পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে সকল পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন এবং সকল সংকীর্ণতা থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন। আর তাকে তার ধারণাতীত রিজিক দান করবেন।”১৯

আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার অনেক বড় একটি নিয়ামত এই যে, তিনি আমাদের জিহ্বাকে অনেক হালকা বানিয়েছেন এবং কোনো ধরনের কষ্ট ছাড়াই তার নড়াচড়ার ব্যবস্থা করেছেন।

টিকাঃ
১৯. মুসনাদে আহমাদ: ২২৩৪

📘 সমস্যা নিরসনের ৪০টি উপায় > 📄 মাসনূন দুআসমূহ আদায় করা

📄 মাসনূন দুআসমূহ আদায় করা


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বিপদ-মুসিবতের সময় অস্থিরতা ও পেরেশানি দূর করার দুআ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি যখন কোনো বিষয়ে কষ্ট পেতেন, তখন বলতেন-

يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ.

“হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর সত্তা, আমি আপনার রহমতের ওসিলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি।”২০

অপর এক সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেরেশানি ও বিপদের সময় এই দুআ শিক্ষা দিয়েছেন-

اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا

“আল্লাহ আমার রব। তাঁর সাথে আমি কোনো কিছুকে শরিক করি না।”২১

সহিহ বুখারিতে একটি দুআ পড়ার কথা এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَالعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

“হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট দুঃখ, পেরেশানি, অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের আধিপত্য থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”২৪

কোনো বিষয় কঠিন ও কষ্টকর হলে এই দুআ পড়বে-

اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزَنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا

“হে আল্লাহ, আপনি যা কিছু সহজ করেছেন, তা ব্যতীত অন্য কিছু সহজ নেই। আর আপনি চাইলে দুঃখকে সহজ করে দেন।”২৫

দুআর মাধ্যমে সবকিছুই অর্জন করা সম্ভব। এমনকি দুআর মাধ্যমে তাকদিরও পরিবর্তন হয়। হাদিস শরিফে এসেছে-

لَا يَرُدُّ القَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ

“একমাত্র দুআই তাকদিরকে পরিবর্তন করতে পারে।”২৬

টিকাঃ
২০. সুনানে তিরমিজি: ৩৫২৪
২১. মুসনাদে আহমাদ: ২৭০৮২
২৪. সহিহ বুখারি: ৬৩৬৯
২৫. আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ: ৩৫১
২৬. সুনানে তিরমিজি: ২১৩৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00