📄 বিপদে ইন্নালিল্লাহ পড়া
ব্যক্তির ওপর যখন কোনো বিপদ আপতিত হয়, তখন তা সমাধানের প্রথম উপায় হবে - إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ পড়া। বিপদে এ দুআ পাঠ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি আদর্শ। এটি অন্তরে এনে দেয় প্রশান্তি ও নিশ্চিন্ততা। সহিহ মুসলিমে উম্মে সালমা রা.-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে-
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ تُصِيبُهُ مُصِيبَةٌ، فَيَقُولُ مَا أَمَرَهُ اللهُ: {إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ} [البقرة: ١٥٦]، اللهُمَّ أُجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا، إِلَّا أَخْلَفَ اللَّهُ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا.
“(তিনি বলেন,) আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম কোনো বিপদে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর নির্দেশিত দুআ - إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ পড়ে বলবে- اللهُمَّ أُجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا তাকে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই ওই বিপদের চেয়ে উত্তম প্রতিদান দান করবেন।"৫
আম্মাজান উম্মে সালামা রা.-এর অবস্থার প্রতি তুমি একটু চিন্তা করো। তিনি তাঁর স্বামী আবু সালামার ইনতেকালে ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পড়েছিলেন। ফলে আল্লাহ তাআলা ওই বিপদে তাঁকে উত্তম বদলা দিয়েছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সৌভাগ্য দান করে তাঁকে করেছিলেন সম্মানিতা।
এই বিকল্প প্রতিদান কখনো মেলে দুনিয়াতে, কখনো মিলবে পরকালে। আবার কখনো মিলতে পারে উভয় জগতে।
📄 তাড়াহুড়া ছেড়ে ধীর-স্থিরতা অবলম্বন
অধিকাংশ সমস্যা সংঘটিত হয় পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, পরিচিত লোকজন ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে। এ জন্যই যখন কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়, তখন তা সমাধানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও কার্যকর পদক্ষেপ হবে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে সে বিষয়ে চিন্তা-ফিকির করা এবং ধীর-স্থিরতা অবলম্বন করা।
সিদ্ধান্ত তোমার হাতে। আজ যদি তোমার কোনো সিদ্ধান্ত থাকে, তাহলে সেটি আগামীকালও তোমার থাকবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্বতা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। কারণ, হয়তো আগামীকাল তোমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও হতে পারে। বিশেষ করে, তোমার মন যখন শান্ত হবে, ক্রোধ দমে যাবে এবং অস্থিরতা দূর হবে, তখন তোমার পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আম্মাজান আয়িশা রা.-কে সম্বোধন করে বলেছিলেন-
مَهْلًا يَا عَائِشَةُ، عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ، وَإِيَّاكِ وَالعُنْفَ وَالفُحْشَ.
“তুমি নিজের ওপর নম্রতা ও কোমলতাকে আবশ্যক করে নাও। এবং কঠোরতা ও অশালীন কথা থেকে দূরে থাকো।"৬
এরপর তিনি বলেন-
إِنَّ الرِّفْقَ لَا يَكُونُ فِي شَيْءٍ إِلَّا زَانَهُ، وَلَا يُنْزَعُ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا شَانَهُ.
"নিশ্চয় কোমলতা সব জিনিসকেই সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর কোনো জিনিসে কোমলতা পরিহার করা হলে তাকে কলুষিত করে দেয়।"৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ সম্বোধন উম্মুল মুমিনিন আয়িশা রা.-এর পরে সকল মুমিনকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
টিকাঃ
৬. সহিহ বুখারি: ৬০৩০
৭. সহিহ মুসলিম: ২৫৯৪
📄 ধৈর্যধারণ
যদি কোনো বিপদের কথা তোমার কানে আঘাত করে, তবে অপর পৃষ্ঠে ধৈর্যের বাণী আসবেই। যদি এমন না হতো, তবে সমস্যার পর সমস্যা আসতেই থাকত। প্রবাহিত হতো হতাশা ও নিরাশার বিষাক্ত হাওয়া। কিন্তু বান্দার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি ধৈর্যের মাধ্যমে বিপদাপদ প্রতিকারের বিষয়টি তাদের আয়ত্তে দিয়ে দিয়েছেন।
ধৈর্য দ্বীনের অন্যতম স্থান। সালেকিনের স্তরসমূহের একটি স্তর। ধৈর্য জান্নাতের ধনভান্ডারসমূহ থেকে একটি ভান্ডার। আর আল্লাহ তাআলা তো ধৈর্যশীলদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন বিরাট পুরস্কার। ইরশাদ হচ্ছে-
إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ.
“যারা ধৈর্যধারণকারী, তাদেরকে তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে অপরিমিত।"৮
ইমাম আওজায়ি রহ. এর ব্যাখ্যায় বলেন, 'ওজন বা পরিমাপ করে তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে না; বরং (দয়াময় আল্লাহ) অঞ্জলি ভরে ভরে তাদের প্রতিদান দেবেন।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ، إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ، فَكَانَ خَيْرًا لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ، صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ.
"মুমিনের ব্যাপারটি আশ্চর্যজনক! তার প্রতিটি বিষয়ই কল্যাণকর। এ মর্যাদা মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য নয়। যদি সে সুখ-শান্তিতে থাকে, তাহলে কৃতজ্ঞতা আদায় করে; ফলে সেটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি সে বিপদাক্রান্ত হয়, তখন সে ধৈর্যধারণ করে; ফলে সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।"৯
ধৈর্যের মর্ম হচ্ছে, ব্যথা-বেদনার মাঝে থেকেও সুন্দর ও উত্তম শিষ্টাচার প্রকাশ করা। মৃত্যু বা বিচ্ছেদের মতো বড় বড় ব্যাপারগুলোকে শুধু বিপদাপদ মনে করা যাবে না; বরং তোমাকে চিন্তিত করে এমন প্রত্যেক বিষয়ই বিপদ। উদাহরণত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর জুতার ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছিল। তখন তিনি ইন্নালিল্লাহ পড়ে এ উক্তি করেছিলেন— 'তোমাকে কষ্টদানকারী প্রত্যেক বস্তুই বিপদ।'
যখন কোনো মুসলিম বিপদে ধৈর্যধারণ করে না এবং তার জন্য সাওয়াবের আশা রাখে না, তখন তো বিপদের দিনগুলো গত হয়ে যায়; কিন্তু সে কষ্ট ভোগ করেও বঞ্চিত থেকে যায় সাওয়াব ও প্রতিদান লাভ করা থেকে। ধৈর্যের চেয়েও বড় স্তর হচ্ছে, আল্লাহর ভাগ্য নির্ধারণ ও ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি। অতএব তুমি আল্লাহর ভাগ্য নির্ধারণ ও ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যাও। তিনি ইরশাদ করেছেন-
قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا )
“(হে নবী) আপনি বলুন, আমাদের কাছে (ভালো-মন্দ) কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন।"১০
ইবনে রজব রহ. বলেছেন, 'ধৈর্য ও সন্তুষ্টির মাঝে পার্থক্য হলো, ধৈর্য মনকে ছেয়ে রাখে এবং ব্যথার অনুভূতি ও তা দূর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও মনকে বিরত রাখে অসন্তুষ্ট হওয়া থেকে। অস্থিরতার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজকর্ম থেকে অঙ্গপ্রতঙ্গকে ফিরিয়ে রাখে।
আর সন্তুষ্টি হচ্ছে, আল্লাহর ফয়সালার প্রতি হৃদয়ের উন্মুক্ততা ও প্রশস্ততা। এবং ব্যথা-বেদনার অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও তা দূর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা। কিন্তু সন্তুষ্টি সে বেদনাকে ততক্ষণ হালকা করে রাখে, যতক্ষণ হৃদয়ে দৃঢ় বিশ্বাস ও আল্লাহর পরিচয় বিদ্যমান থাকে। আর যখন সেই সন্তুষ্টি শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তখন ব্যথার অনুভূতি একেবারেই দূর করে দেয়।'
ইবনুল জাওজি রহ. বলেছেন, দুনিয়া যদি পরীক্ষার ঘর না হতো, তবে অসুখ-বিসুখ ও কষ্ট-ক্লেশ একের পর এক আসত না এবং কষ্টসাধ্য হতো না নবি-রাসুল ও অলি-আউলিয়ার জীবন।
তাদের জীবনের প্রতি লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, আদম আ. দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া পর্যন্ত অনেক কষ্ট-ক্লেশ ভোগ করেছেন। নূহ আ. তিন শ বছর কেঁদেছেন। ইবরাহিম আ. সহ্য করেছেন নিজের সন্তানকে কুরবানির পরীক্ষা এবং অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কষ্ট। ইয়াকুব আ. কেঁদে কেঁদে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। মুসা আ. ফিরাউনের পক্ষ থেকে কত কষ্ট সয়েছেন এবং স্বীয় কওমের পক্ষ থেকে কত জ্বালা-যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছেন। ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর কষ্টময় জীবনে খোলা প্রান্তর ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল ছিল না। আর আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকটাত্মীয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় চাচা হামজা রা.- কে হারানোর ব্যথা এবং তাঁর প্রতি স্বীয় সম্প্রদায়ের অনীহার দুঃখ ভোগ করেছেন। জীবনভর সহ্য করেছেন দারিদ্রের কষ্ট।১১ এঁরা ছাড়াও আরও অনেক নবি-অলি আছেন, যাদের কথা বললে আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে।
যদি দুনিয়া স্বাদ-আহ্লাদের জন্য সৃষ্টি হতো, তাহলে মুমিনদের তাতে কোনো অংশই থাকত না। কবি সত্যই বলেছেন-
طبعت على كدر وأنت تريدها ** صفواً من الأقذاء والأكدار
"দুঃখ-কষ্ট আর পঙ্কিলতায় তোমার সৃষ্টি, অথচ সেই দুঃখ-যাতনা থেকে চাও মুক্তি।"
এখানে বিপদের ভার ও তার বেদনা বা আঘাত সহ্য করাতেই ধৈর্যধারণ সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিপদের প্রতিকার ও এর কারণে গোলমেলে হওয়া বিষয়গুলোকে পুনরায় বিন্যস্তকরণও ধৈর্যধারণের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং বিপদের প্রতিকার কখনো আল্লাহর কাছে দুআর মাধ্যমে হবে। পরিবারসংক্রান্ত বিপদ হলে কখনো উত্তম শিষ্টাচার দান এবং কখনো সুন্দর আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে হবে। স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদসসংক্রান্ত বিপদ হলে কখনো স্ত্রীকে ফিরিয়ে এনে বা পূর্বের অবস্থায় বহাল রেখে প্রতিকার হতে পারে।
টিকাঃ
৮. সুরা জুমার: ১০
৯. সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯
১০. সুরা তাওবা: ৫১
১১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ দারিদ্রতা ছিল ঐচ্ছিক। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি চাইলে মদিনার পাহাড়গুলোকে তাঁর জন্য স্বর্ণে রূপান্তরিত করে দেওয়া হতো। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ না করে দুনিয়ার ওপর আখিরাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ ছাড়াও হাদিয়া, যুদ্ধলব্ধ গনিমতের মাল ইত্যাদি সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদও তাঁর প্রচুর আসত, কিন্তু তিনি সম্পদ জমা না করে সব দান করে দিতেন। এ জন্য যারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দরিদ্র ভাবে তারা সঠিক সিরাত সম্বন্ধে অবগত নয়। মূলত তিনি দরিদ্র ছিলেন না, কিন্তু নিজের সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে দারিদ্রতার কষ্ট সহ্য করতেন। সম্পাদক
📄 সুধারণা পোষণ
আল্লাহ তাআলার প্রতি এ ধারণা পোষণ করা আবশ্যক যে, (তাঁর পক্ষ থেকে) স্বস্তি ও মুক্তি নিকটে। আর কাঠিন্যের সাথেই রয়েছে সহজতা।
অনুরূপভাবে বিপক্ষ বা সমস্যায় আক্রান্ত লোকটার ব্যাপারে এ ধারণা পোষণ করতে হবে যে, হয়তো আমার সম্পর্কে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো চিন্তা আছে। আমার ব্যাপারে সে ভুল বুঝেছে অথবা তার কাছে কোনো অবাস্তব সংবাদ পৌঁছেছে। আর কোনো মুসলিমের প্রতি এরূপ সুধারণা পোষণ আত্মাকে অবশ্যই প্রশান্তি দেবে এবং এমন কিছু ওজর-অজুহাত অনুভূত হবে, যা বিপদকে করে তোলবে তুচ্ছ এবং সুন্দর বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার সঙ্গে সমস্যা নিরসনে সাহায্য করবে। কিছু সমস্যা তো হয় কুধারণার ওপর ভিত্তি করে। আর কিছু সমস্যা হয় অমূলক কল্পনা ও অসম্পূর্ণ চিন্তাকে কেন্দ্র করে।
এখন আমি একজন লোকের কথা বলছি, যার অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে সমস্যা ছিল। সে ওই ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তানদের কড়াকড়া কথা বলল এবং তাদের হুমকি-ধমকি দিল। কিন্তু তখন সেই ব্যক্তি ছিল সফরে। আর সফরে যাওয়ার পূর্বে তার কাছে সে একটি পত্র লিখেছিল, যেখানে সে ওজর পেশ করে ক্ষমা চেয়েছিল এবং নিজের অধিকার থেকে দাবি প্রত্যাহার করার কথা উল্লেখ করেছিল। কিন্তু পত্রবাহক তা পৌঁছাতে বিলম্ব করেছিল। ফলে তার থেকে যা হবার তা হয়ে গেছে। কিন্তু লক্ষ করুন, এই ব্যক্তি যে তার সাথির ব্যাপারে যেসব উচ্চবাক্য ও অন্যায় কথাবার্তা বলেছে, এর কারণে কি তাদের পূর্বের সম্পর্ক আবার ফিরে আসবে?
অপর একটি ঘটনার প্রতি লক্ষ করুন। উমর রা.-এর কন্যা হাফসা রা. যখন বিধবা হলেন, তখন উমর রা. আবু বকর রা.-এর নিকট তাঁকে বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে কোনো উত্তরই দিলেন না। এরপর তিনি উসমান রা.-এর নিকট প্রস্তাব পেশ করলে উসমান রা. বললেন, আমার এখন বিবাহ করার ইচ্ছা নেই। উমর রা. তাঁদের দুজনের জবাবে কষ্ট পেলেন এবং চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর এ অবস্থার কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জানালেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
يَتَزَوَّجُ حَفْصَةَ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْ عُثْمَانَ؛ وَيَتَزَوَّجُ عُثْمَانُ مَنْ هِيَ خَيْرٌ مِنْ حَفْصَةَ
"উসমানের চেয়েও উত্তম ব্যক্তি হাফসাকে বিবাহ করবে। আর উসমান হাফসা থেকেও উত্তম মেয়ে বিবাহ করবে।”১২
এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা রা.-কে নিজে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে বিবাহ করেন। আর উসমান রা.-এর সঙ্গে স্বীয় কন্যা রুকাইয়া রা.-এর বিবাহ দেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে হাফসা রা.-এর বিবাহের পর আবু বকর রা. উমর রা.-এর সাথে দেখা করলেন এবং অজুহাত পেশ করে বললেন, মনে কষ্ট রাখবেন না। কারণ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বিবাহের ইচ্ছায়) হাফসার কথা আলোচনা করেছিলেন। আর আমি তাঁর গোপন কথা প্রকাশ করতে পারি না। তিনি যদি তাঁর ইচ্ছা ত্যাগ করতেন, তাহলে আমি তাকে অবশ্যই বিবাহ করতাম।১৩
টিকাঃ
১২. এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাফসা রা.-কে নিজে বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে বিবাহ করেন। আর উসমান রা.-এর সঙ্গে স্বীয় কন্যা রুকাইয়া রা.-এর বিবাহ দেন।
১৩. সহিহ বুখারি: ৫১২২