📄 অবতরণিকা
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কিরামের ওপর।
পার্থিব এ জীবনে বিপদাপদ স্বাভাবিক একটি বিষয়। দুর্যোগের মেঘ যেন প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের মাথার ওপর বিদ্যমান; কেননা আমাদের এ আবাসস্থল—পরীক্ষা ও ভোগান্তির, চিন্তা ও পেরেশানির, বিপদ ও কষ্টের জগত। কখনো প্রিয়জনের বিরহে আমরা ব্যথিত হই। কখনো ব্যবসায় ক্ষতি বা সম্পদ ধ্বংস হওয়ায় চিন্তিত হই। কখনো কষ্ট পাই ভাইয়ে ভাইয়ে কিংবা সন্তানদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের কারণে। এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলোর কারণে আমাদের দুঃখ-কষ্টের শিকার হতে হয়।
মানুষ যেসব বিপদে আক্রান্ত হয়, তা চার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এক. নিজের বিপদ। দুই. তার অর্থ-সম্পদের বিপদ। তিন. তার সম্মান-মর্যাদার বিপদ। চার. পরিবার ও প্রিয়জনদের বিপদ। অনুরূপ বিপদে নিপতিত ব্যক্তিরা চার ভাগে বিভক্ত। এক. মুসলিম। দুই. কাফির। তিন. সৎ লোক। চার. অসৎ লোক।
এ সকল বিপদের আকস্মিকতা এবং অনেক সময় এর জন্য প্রস্তুতি না থাকায় এর সমাধানকল্পে কিছু মৌলিক নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো সব মানুষের জন্য এবং সকল পরিস্থিতির জন্য উপযোগী।
আল্লাহর কাছে আমরা সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।
📄 পরিশিষ্ট
যখন তুমি আকস্মিক বিপদে নিপতিত হবে, বিভিন্ন পেরেশানিতে আক্রান্ত হবে এবং পার্থিব দুর্যোগে সকল রাস্তা ও পথঘাট অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে, তখন তুমি আল্লাহর ফয়সালা ও সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। এটাই হলো প্রথম ধাপ যে, তুমি আল্লাহর তাকদিরে সন্তুষ্ট থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا )
“(হে নবী) আপনি বলুন, আমাদের কাছে (ভালো-মন্দ) কিছুই পৌঁছবে না, কিন্তু যা আল্লাহ আমাদের জন্য লিখে রেখেছেন।”৪৭
এর দ্বিতীয় স্তর হলো, বিপদে ধৈর্যধারণ করা। এটা তার জন্য, যে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারবে না। সুতরাং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করা অতি উত্তম ও সর্বোচ্চ স্তরের কাজ। আর মুমিনের জন্য ধৈর্যধারণ করা তো আবশ্যক একটি বিষয়।
স্মরণ রেখো, তুমি যখন বিপদে আক্রান্ত হবে, তখন এটা বুঝে নেবে যে, এ ফয়সালা যিনি করেছেন তিনি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ। তিনি যা ইচ্ছা, তা-ই করেন এবং যা চান, তা-ই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বান্দার ওপর তাঁর দয়া ও রহমত বিভিন্নভাবে পরিব্যাপ্ত হয়ে আছে। তিনি দয়া করে বান্দাকে কিছু দান করেন। এরপর দয়া করে তাকে কৃতজ্ঞতা আদায়ের তাওফিক দেন। তিনি তাকে অনুগ্রহ করে বিপদে নিপতিত করেন। অতঃপর তাকে ধৈর্যের তাওফিক দেন। অতএব ভালো-মন্দ সর্বাবস্থায় আমাদের তাঁর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা উচিত। তা ছাড়া বিপদের মাধ্যমেও তিনি বান্দার ওপর দয়া করেন। কেননা, এর ওসিলায় তিনি তাদের গুনাহ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেন। তাদের প্রতিদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।