📄 মুতা অভিযান
মৃতা অভিযান রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমর জীবন পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম সুসংবাদ দিয়ে شرحبيل بن عمر الغساني এর নিকট হারেছ ইবনে উমায়েরকে পাঠান। কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত হলেন এবং ৩০০০ হাজার মুসলিম সৈন্য সেখানে প্রেরণ করেন। পরপর সেনাপতি হিসেবে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা দেন এবং নিম্ন লিখিত নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেন। যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন বিজ্ঞ সমরবিদের দ্বারাই সম্ভব।
ক. যারা ইবাদত খানায় মগ্ন থাকবে তাদের হত্যা করা যাবে না।
খ. কোন স্ত্রী লোককে হত্যা করা যাবে না।
গ. কোন শিশু/ বৃদ্ধ লোককে হত্যা করা যাবে না।
ঘ. সবুজ ও শস্য ক্ষেত্র ধ্বংস করা যাবে না।
এ যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্বাচিত পর পর তিনজন সেনাপতিই শাহাদাতবরণ করেন। শেষ পর্যন্ত খালিদ ওয়ালিদ এর হাতে ঝাণ্ডা আসে। সে দিন তার হাতে ৯ টি তরবারী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এ যুদ্ধের পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদকে سیف الله-উপাধি তে ভূষিত করেন।
📄 হুনাইনের যুদ্ধ
এ যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসীম বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। হুনাইন বসবাসরত -هوازم ثقيف গোত্রদ্বয় মক্কা বিজয়ের ফলে আশংকাবোধ করল যে হয়ত: মুসলিমগন তাদের উপর হামলা চালাবে। তাই তারা চার হাজার যোদ্ধা গঠিত করল। তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতির খবর পেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১২০০০ বার হাজার সৈন্য নিয়ে হুনায়নে যান। কিন্তু তাদের প্রচণ্ড আক্রমণে টিকতে না পেরে মুসলিম সেনারা যখন পালাতে শুরু করল, তখন যুদ্ধের ময়দানে সাহসের সাথে যুদ্ধ করে চলেছিলেন সাহসী সমরবিদ মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি পলায়নরত সৈন্য বাহিনীকে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ শুরু করার জন্য আহবান জানালেন এই বলে-
يا أصحاب الشجرة يا أصحاب الأنصار
তখন সব মুসলিমগন জড়ো হয়ে পুনর্বার হামলা চালায়। অবশেষে মুসলিমরা বিজয় লাভ করে। প্রথমে কাফিররা পাহাড় ও জঙ্গলে থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুসলিম সেনাদের পালাতে বাধ্য করে। এ যুদ্ধে ৭,০০০ হাজার লোক মুসলিমদের হাতে বন্দী হয়। ২৪,০০০ হাজার উট, ৪০,০০০ হাজার এর অধিক ভেড়া ও বকরী ৪,০০০ হাজার স্বর্ণ রৌপ্য গনিমত হিসেবে লাভ হয়।
📄 উপসংহার
উপরের প্রতিটি যুদ্ধের প্রতিটি পদক্ষেপই সামরিক দৃষ্টিকোণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা একজন সামরিক প্রধানই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন। সুতরাং উপরোক্ত সামরিক নীতিসমূহ শুধু রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমর বিদ্যার শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করে না; বরং ঐ সকল পদাঙ্ক অনুসরণ করতে সামরিক প্রধানকে উৎসাহিত করেও বটে। যা কিনা মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমরবিদ হওয়ার যথার্থ প্রমাণ রাখে। তাই আমরা এ কথাই বলব যে, গভীর মনে উপরোক্ত কৌশলগুলোকে গবেষণা করলে সফল সমরবিদ হওয়ার আরও নতুন নতুন পন্থা বেরিয়ে আসবে।