📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 মক্কা অভিযান ও রক্তপাতহীন বিজয়

📄 মক্কা অভিযান ও রক্তপাতহীন বিজয়


এখন আমরা লক্ষ্য করব মক্কা-অভিযানের দিকে। সেই অভিযানে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কঠোর সমরনীতি অনুসরণ করেন নিম্নে সেগুলোকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

- এ অভিযানের প্রথমই মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় প্রবেশের সবগুলো পথ বন্ধ করে দিলেন।
- প্রত্যেক প্রবেশের পথে সেনা মোতায়েন করলেন।
- গৃহীত প্রস্তুতি সম্পর্কে কোন তথ্য যাতে পাচার হতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নিলেন।
- সঙ্গী সাথীগণকে শুধু জানিয়ে দিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযান অত্যন্ত নিকটে। তিনি তাদেরকে প্রস্তুতিও নিতে বললেন।
- অভিযান সম্পর্কে আর কোন ব্যাখ্যা দিলেন না।
- অভিযানের লক্ষ্য, সূত্র আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর নিকটও ছিল অজানা। এ অভিযান সম্পর্কে তিনি যে কি গোপনীয়তা রক্ষা করেছিলেন এ ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এর নিকট এ অভিযান সম্পর্কে জানতে চান। কোথায় অভিযানে যাবে এবং কখন যাবে- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু ও সে সম্পর্কে কিছু জানতেন না।

অতঃপর রাসূল এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য কেবলমাত্র একজন সমরবিশারদের পক্ষেই বিশ্লেষণ ও অনুধাবন করা সম্ভব।

মৈত্রী গোত্রগুলোকে বললেন এবার অভিযানে যাবার সময় তাদের মদীনায় আসা অনাবশ্যক। বরং তারা প্রস্তুত থাকবে। যখন মুসলিম বাহিনী তাদের এলাকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হবে তখনই তারা মূল বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিবে। কিন্তু কোথায় তারা অভিযানে যাবেন সে বিষয়টি তাদের কাছে অজানা রয়ে গেল।

হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এর সূত্রে বোখারী শরীফে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দক্ষিণে মক্কার দিকে না গিয়ে উত্তরের পথ ধরলেন। ফলে সকলের মধ্যে এ ধারণার সৃষ্টি হয় যে, যুদ্ধ হবে রোমানদের সঙ্গে। কিছুদূর যাওয়ার পর গতিপথ পরিবর্তন করে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হলেন। এবার তিনি রওয়ানা হলেন দক্ষিণ পূর্ব দিকে। অর্থাৎ গোটা পথ তিনি অতিক্রম করলেন আকা বাঁকা পথে ফলে তার মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে কেউ কিছু আঁচ করতে পারল না। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, মুসলিম বাহিনী মক্কার শেষ প্রান্তে পর্বতমালার কাছে ছাউনি ফেলার পূর্বে সে আমলের বিবেচনায় দশ হাজার সৈন্য বাহিনীটি ছিল বেশ বড়। এত বড় বাহিনীকে সহজে লোক চক্ষুর অন্তরালে রাখা সম্ভব ছিল না। অথচ মক্কাবাসীরা মুসলিম বাহিনীদের আক্রমণের কথা জানতে পারে হঠাৎ করে আকস্মিকভাবে।⁷

সামরিক অভিযানের সময় সৈন্য বাহিনীতে সম্মিলিতভাবে পাক করার রীতি আছে। এবার সে রীতি পরিহার করা হল। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে তাদের রান্নার ব্যবস্থা করতে বললেন। ফলে দশ হাজার প্রজ্বলিত চুল্লী দূর থেকে দৃশ্যমান হয়ে উঠল। মক্কার শাসক আবু সুফিয়ান একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে বাস্তব অবস্থা জরীপ করে এবং এ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে পঞ্চাশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী মক্কা আক্রমণ করার জন্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সে পাহাড়ের চুড়া থেকে নেমে আসে। ঠিক সে সময় মুসলিম বাহিনীর একটা পেট্রোল দল সেখানে পৌঁছে এবং আবু সুফিয়ান তাদের হাতে ধরা পড়ে।

সে ছিল মক্কার সামরিক প্রধান। অথচ তার গ্রেফতার সম্পর্কে মক্কাবাসীরা কিছুই জানতে পারল না। তাকে নবীজির সামনে হাজির করা হলে তিনি তার নিরাপদ অবস্থান এবং তার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন। পরের দিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অপ্রতিরোধ্য বাহিনীর প্রধান হিসেবে মক্কানগরীতে প্রবেশ করেন। অথচ মক্কার লোকেরা মুসলিম বাহিনীর গতি-বিধি সম্পর্কে বিন্দু বিসর্গও জানত না। এমনকি তাদের নেতাও ছিল শহরের বাইরে মুসলিমদের হাতে। নবীজীর নির্দেশে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আবু সুফিয়ানকে এমন একটি জায়গায় দাঁড় করালেন যেখান থেকে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অনায়াসে দেখতে পায়। দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মুসলিম বাহিনী তার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেল। সৈন্যবাহিনী এক একটি দলের নেতৃত্ব দিলেন এক একজন গোত্র প্রধান। আবু সুফিয়ানের পাশ দিয়ে কোন একদল অতিক্রম-কালে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু দলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন। সবশেষে আসলেন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবীজীর প্রতি ইঙ্গিত করে সুফিয়ানকে বলল- তোমার ভাইয়ের স্থান প্রকৃতপক্ষেই রাজা-ধিরাজে পৌঁছে গেছে। তার শক্তি ও প্রভাব এত বেশী যে, এখন রোম সম্রাটও তার ব্যাপারে ভীষণ আতংকিত। যাহোক আবু সুফিয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম কালে তিনি তাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আবু সুফিয়ানও নবীজীর সদিচ্ছার প্রতি অনুকূল সাড়া দিলেন। এভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রখর সমর কৌশল দিয়ে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন।

টিকাঃ
৭. অধ্যাপক মাওলানা আশরাফ আলী আবাদী, কুরআন হাদীসের আলোকে সৈনিকের কর্তব্য, ১ম প্রকাশ, ঢাকা: ই, ফা,বা,১৯৮৭।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 তাবুক অভিযান

📄 তাবুক অভিযান


তাবুক যুদ্ধের পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন হিরাক্লিয়াস মুসলিম রাষ্ট্র মদীনাকে ধ্বংস করার জন্য এগিয়ে আসছে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০ হাজার মুজাহিদ নিয়ে মদীনা ও দামেস্কের মধ্যবর্তী স্থানে শিবির স্থাপন করেন। মুসলিম বাহিনীর এ বিরাট আয়োজন দেখে রোমানরা ভীত হয়ে পলায়ন করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক প্রান্তরে ২০ দিন অবস্থান করেন।⁸ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানকার লোকদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন। অনেকেই মুসলিম হলেন এবং دومة الجندل নামক খ্রিষ্টান শাসক কর প্রদান করতে সম্মত হয়। অবশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগণ বিজয়ীর বেশে মদীনায় ফিরে আসেন।

মদীনা হতে বিতাড়িত ইহুদী সম্প্রদায় বনু নযীর ও বনু কোরায়জা গাফতান গোত্রসহ ৪০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনী গঠন করে মদীনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে নবীজি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খবর পেয়ে سباع بن عرفطة কে মদীনার খলীফা মনোনীত করেন। ২০০ অশ্বারোহীসহ ১৬০০ মুসলিম যোদ্ধা নিয়ে খায়বরের দিকে যাত্রা করেন।

খায়বরে তাদের মোট ৮ টি দুর্গ ছিল। মুসলিমরা তাদের ১৫ দিন অবরোধ করে রেখেছেন। ৮ টি দুর্গের মধ্যে قموص দুর্গটি ছিল সবচেয়ে দুর্ভেদ্য। সে দুর্গটি আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এর হাতে বিজয় হয়েছে। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তকে أسد الله الغالب বলে উপাধি দিয়েছেন কামীস দুর্গটি ঘেরাও করার পর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথাব্যথা আরম্ভ হয়। যার কারণে তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে এ গোত্রের দায়িত্ব দেন। তিনি জয় করতে পারেন নি। পরের দিন ওমরকে দিলেন। তিনিও ব্যর্থ হলেন তৃতীয় দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন لأعطين الراية غدا رجلا يفتح الله على يديه সকালে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে ডেকে ঝাণ্ডা তুলে দিলেন।

আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলের নির্দেশ মোতাবেক তাদেরকে প্রথমে ইসলামের দিকে আহবান জানিয়েছেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ، فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ
ইহুদীরা ইসলাম কবুলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি প্রচণ্ড হামলা চালালেন। শত্রু বাহিনীর আক্রমণে তরবারি হাত থেকে পড়ে যাওয়ায় একটি দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

মৃতা অভিযান রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমর জীবন পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম সুসংবাদ দিয়ে شرحبيل بن عمر الغساني এর নিকট হারেছ ইবনে উমায়েরকে পাঠান। কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত হলেন এবং ৩০০০ হাজার মুসলিম সৈন্য সেখানে প্রেরণ করেন। পরপর সেনাপতি হিসেবে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা দেন এবং নিম্ন লিখিত নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেন। যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন বিজ্ঞ সমরবিদের দ্বারাই সম্ভব।
ক. যারা ইবাদত খানায় মগ্ন থাকবে তাদের হত্যা করা যাবে না।
খ. কোন স্ত্রী লোককে হত্যা করা যাবে না।
গ. কোন শিশু/ বৃদ্ধ লোককে হত্যা করা যাবে না।
ঘ. সবুজ ও শস্য ক্ষেত্র ধ্বংস করা যাবে না।
এ যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্বাচিত পর পর তিনজন সেনাপতিই শাহাদাতবরণ করেন। শেষ পর্যন্ত খালিদ ওয়ালিদ এর হাতে ঝাণ্ডা আসে। সে দিন তার হাতে ৯ টি তরবারী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এ যুদ্ধের পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদকে سیف الله-উপাধি তে ভূষিত করেন।

এ যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসীম বীরত্ব ও সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। হুনাইন বসবাসরত -هوازم ثقيف গোত্রদ্বয় মক্কা বিজয়ের ফলে আশংকাবোধ করল যে হয়ত: মুসলিমগন তাদের উপর হামলা চালাবে। তাই তারা চার হাজার যোদ্ধা গঠিত করল। তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতির খবর পেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১২০০০ বার হাজার সৈন্য নিয়ে হুনায়নে যান। কিন্তু তাদের প্রচণ্ড আক্রমণে টিকতে না পেরে মুসলিম সেনারা যখন পালাতে শুরু করল, তখন যুদ্ধের ময়দানে সাহসের সাথে যুদ্ধ করে চলেছিলেন সাহসী সমরবিদ মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি পলায়নরত সৈন্য বাহিনীকে নতুন উদ্যমে যুদ্ধ শুরু করার জন্য আহবান জানালেন এই বলে-
يا أصحاب الشجرة يا أصحاب الأنصار
তখন সব মুসলিমগন জড়ো হয়ে পুনর্বার হামলা চালায়। অবশেষে মুসলিমরা বিজয় লাভ করে। প্রথমে কাফিররা পাহাড় ও জঙ্গলে থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুসলিম সেনাদের পালাতে বাধ্য করে। এ যুদ্ধে ৭,০০০ হাজার লোক মুসলিমদের হাতে বন্দী হয়। ২৪,০০০ হাজার উট, ৪০,০০০ হাজার এর অধিক ভেড়া ও বকরী ৪,০০০ হাজার স্বর্ণ রৌপ্য গনিমত হিসেবে লাভ হয়।

টিকাঃ
৮. এ,এফ,এম আব্দুল মজিদ, রাসূলুল্লাহর (সা)এর সৈনিক জীবন,১ম প্রকাশ, ঢাকা: ই, ফা,বা,১৯৪৬।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 খায়বর অভিযান

📄 খায়বর অভিযান


মদীনা হতে বিতাড়িত ইহুদী সম্প্রদায় বনু নযীর ও বনু কোরায়জা গাফতান গোত্রসহ ৪০০০ সৈন্যের বিশাল বাহিনী গঠন করে মদীনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে নবীজি সাল্লালল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খবর পেয়ে سباع بن عرفطة কে মদীনার খলীফা মনোনীত করেন। ২০০ অশ্বারোহীসহ ১৬০০ মুসলিম যোদ্ধা নিয়ে খায়বরের দিকে যাত্রা করেন।

খায়বরে তাদের মোট ৮ টি দুর্গ ছিল। মুসলিমরা তাদের ১৫ দিন অবরোধ করে রেখেছেন। ৮ টি দুর্গের মধ্যে قموص দুর্গটি ছিল সবচেয়ে দুর্ভেদ্য। সে দুর্গটি আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এর হাতে বিজয় হয়েছে। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তকে أسد الله الغالب বলে উপাধি দিয়েছেন কামীস দুর্গটি ঘেরাও করার পর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাথাব্যথা আরম্ভ হয়। যার কারণে তিনি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে এ গোত্রের দায়িত্ব দেন। তিনি জয় করতে পারেন নি। পরের দিন ওমরকে দিলেন। তিনিও ব্যর্থ হলেন তৃতীয় দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন لأعطين الراية غدا رجلا يفتح الله على يديه সকালে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে ডেকে ঝাণ্ডা তুলে দিলেন।

আলী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু রাসূলের নির্দেশ মোতাবেক তাদেরকে প্রথমে ইসলামের দিকে আহবান জানিয়েছেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন
ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ، فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ
ইহুদীরা ইসলাম কবুলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি প্রচণ্ড হামলা চালালেন। শত্রু বাহিনীর আক্রমণে তরবারি হাত থেকে পড়ে যাওয়ায় একটি দরজাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 মুতা অভিযান

📄 মুতা অভিযান


মৃতা অভিযান রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমর জীবন পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম সুসংবাদ দিয়ে شرحبيل بن عمر الغساني এর নিকট হারেছ ইবনে উমায়েরকে পাঠান। কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে। এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত হলেন এবং ৩০০০ হাজার মুসলিম সৈন্য সেখানে প্রেরণ করেন। পরপর সেনাপতি হিসেবে তিনজন সেনাপতির নাম ঘোষণা দেন এবং নিম্ন লিখিত নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দেন। যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন বিজ্ঞ সমরবিদের দ্বারাই সম্ভব।
ক. যারা ইবাদত খানায় মগ্ন থাকবে তাদের হত্যা করা যাবে না।
খ. কোন স্ত্রী লোককে হত্যা করা যাবে না।
গ. কোন শিশু/ বৃদ্ধ লোককে হত্যা করা যাবে না।
ঘ. সবুজ ও শস্য ক্ষেত্র ধ্বংস করা যাবে না।
এ যুদ্ধে রাসুল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্বাচিত পর পর তিনজন সেনাপতিই শাহাদাতবরণ করেন। শেষ পর্যন্ত খালিদ ওয়ালিদ এর হাতে ঝাণ্ডা আসে। সে দিন তার হাতে ৯ টি তরবারী ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। এ যুদ্ধের পরই রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদকে سیف الله-উপাধি তে ভূষিত করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00