📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 মুক্তিপণ ধার্য ও বন্দি বিনিময়

📄 মুক্তিপণ ধার্য ও বন্দি বিনিময়


মুসলিম বাহিনী আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি কামনায় বীর বিক্রমে যুদ্ধ করল এবং সংখ্যা স্বল্পতা নিয়েও বিশাল বাহিনীকে পরাভূত করল। শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হলো বিপুল পরিমাণে, যুদ্ধক্ষেত্রে ৭০জন নিহত হলো, আহত হলো অসংখ্যজন। শত্রু সেনাদের দুর্বল করণের জন্য মুক্তিপণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হল। যাতে মুসলিমদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত হয়।

যাদের মুক্তিপণের ক্ষমতা নাই, লেখাপড়াও জানা নেই তারা আর কখনো মুসলিমদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরবে না এ শর্তে মুক্ত করে দেয়া হল।

পুতুল তথা মুর্তিপূজারী বন্দীর বিনিময়ে মুসলিম যুদ্ধবন্দীকে ছাড়িয়ে আনার ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 ওহুদ যুদ্ধ ও পরবর্তী কৌশল

📄 ওহুদ যুদ্ধ ও পরবর্তী কৌশল


ওহুদ যুদ্ধে সাতশ'র চেয়ে ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনী তিন হাজার সৈন্যের বিশাল মুশরিক বাহিনীর মুখোমুখি হল। ওহুদ পাহাড়টি ছিল দু'টি বৃত্ত বিশিষ্ট একটি ধনুকের মত। অভ্যন্তর ভাগের বৃত্তে প্রবেশের পথটি খুবই সংকীর্ণ। মুসলিম বাহিনী এখানেই শিবির স্থাপন করে। সামরিক দৃষ্টিতে এ স্থানটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ পথ দিয়েই শত্রুসেনাদের পক্ষে মুসলিম বাহিনীর পশ্চাৎভাগে আক্রমণ করার সম্ভাবনা ছিল এবং শত্রুসেনার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য এ স্থানটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল জরুরী। এ স্থানটি প্রহরার জন্য ৫০ জন তীরন্দাজকে নিয়োগ করা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ প্রদান করেন যে, যদি তোমরা প্রত্যক্ষ কর যে শকুনরা মুসলিমদের মৃতদেহ ক্ষত বিক্ষত করছে তবু তোমরা স্থানচ্যুত হবে না।

পরবর্তীতে যখন ঐ টিলাটি মুসলিম প্রহরা শূন্য হয় তখনই মুশরিক বাহিনী তাদের আক্রমণ দ্বারা মুসলিমদের প্রতিহত করে এবং মুসলিমদের প্রচুর ক্ষতি সাধন হয়। এ যুদ্ধে বর্মধারী সৈন্য ছিল ১০০ জন।

যুদ্ধ শেষে কাফিরদের গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি কয়েকজন সৈন্য পাঠালেন। বলে দিলেন যদি তারা উটের পিঠে সওয়ার হয় তাহলে বুঝতে হবে ওরা ফিরে যাবে মক্কায় দীর্ঘ সফরে। আর যদি ঘোড়া ব্যবহার করে তাহলে ওদের গন্তব্যস্থল হবে মদীনা। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামরিক ধী শক্তি থেকে অনুধাবন করতে পারেন যে, পথ চলতে চলতে শত্রু সেনারা আবার মদীনার উপর আক্রমণ করার ও লুটতরাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই তিনি আবু সুফিয়ানকে পশ্চাদধাবন কবার জন্য আবার অভিযানে বের হন। ইত্যাবসরে আবু সুফিয়ান উপলব্ধি করতে পারে যে, বিজয় অর্জনের জন্য সবটুকু সুযোগের ব্যবস্থায় না করে সে ভুল করে ফেলেছে।⁶ কিন্তু পরবর্তীতে সে মুসলিমদের প্রস্তুতির কথা শুনতে পেরে চলে যেতে বাধ্য হয়।

টিকাঃ
৬. লে:কর্নেল এম কোরেশী, গৌরবদীপ্ত জিহাদ, অনু: মুহাম্মদ লুতফুল হক, ১ম প্রকাশ, ঢাকা:ই,ফা,বা, ১৯৮৯।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 খন্দকের যুদ্ধ: পরিখা খনন ও দ্বিমুখী আক্রমণ প্রতিহতকরণ

📄 খন্দকের যুদ্ধ: পরিখা খনন ও দ্বিমুখী আক্রমণ প্রতিহতকরণ


খন্দকের যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোথায় কি ত্রুটি আছে এবং কোথায় পরিখা খনন করতে হবে তা নিরূপণ করেন। পরিখাটি এতখানি চওড়া করেন যে, একটি দ্রুতগামী ঘোড়াও লাফ দিয়ে তা অতিক্রম করতে পারত না। আবার ৩/৪ ফুট গভীর থাকায় কেউ পরিখায় পড়ে গেলেও নিজ প্রচেষ্টায় উঠে আসাও সম্ভব ছিল না। মক্কাবাসীরা এ ধরনের পরিখা যুদ্ধে মোটেও পারদর্শী ছিল না। তাই তারা পরিখা অতিক্রম করতে পারল না।

পরবর্তীতে যখন মুশরিকদের দ্বারা অবরোধ চলছিল, তখন তারা বিকল্প অন্য একটি পরিকল্পনা করছিল। তারা দেখল দীর্ঘ মাস ব্যাপী যুদ্ধ করার পরও বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তদপ্রেক্ষিতে খায়বরের নেতার অবস্থা অনুধাবন করার জন্য অতি সংগোপনে মদীনা সফর করেন। ইহুদী গোত্র বনু কুরায়জা তখনো মদীনায় বসবাস করছিল এবং মুসলিমরাও ছিল তাদের প্রতি আস্থাশীল । খায়বরের বনু নযির গোত্রের ইহুদী নেতা মদীনার ইয়াহুদী গোত্র বনু কুরায়জার নেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করল। সে বনূ কুরায়জার নেতাকে এ মর্মে রাজী করতে সমর্থ হল মিত্রবাহিনী যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত থাকবে, বনু কুরায়জা তখন পশ্চাৎ দিক থেকে মুসলিমদের আক্রমণ করবে। দু'দিক থেকে চাপে পড়ে মুসলিম বাহিনী নাস্তানাবুদ হবে এবং তাদের পরাজয় ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের গোপন ষড়যন্ত্রকে জানতে পারেন। তিনি তার সামরিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে মিত্র বাহিনীর এ ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা চালান। এ কাজের জন্য তিনি এমন একজন লোককে নির্বাচন করলেন যাকে সকলেই পৌত্তলিক হিসেবে জানত। অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন নওমুসলিম। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উপর রাজনৈতিক মিশনের দায়িত্ব দিয়ে প্রথমে বনু কুরায়জায় পাঠান। তিনি বনু কুরায়জাকে বললেন, মিত্র বাহিনী যে কখনো তাদের পরিত্যাগ করবে না, এ ব্যাপারে তাদের নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। কারণ যুদ্ধ শেষে এককভাবে তাদেরকে মদিনায় থাকতে হবে এবং মুসলিমদের প্রতিরোধ করার মত সমর্থ তাদের নেই। তিনি তাদের আরও পরামর্শ দিলেন যে, তাদের উচিত হবে মুশরিকদের নিকট হতে কয়েকজন ব্যক্তিকে জামিন হিসেবে রাখা। এর ফলে শেষ মুহুর্তেও যে মুশরিকরা তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তিনি গেলেন মিত্র শিবিরে কোরাইশ ক্যাম্পে, সেখানে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন পৌত্তলিক হিসেবে। তিনি তাদেরকে বনু কুরায়জা ও মুসলিমদের মধ্যকার যোগাযোগের কথা জানালেন, গোপন তথ্য ফাঁস করার ভঙ্গিতে তিনি বললেন ইয়াহুদীরা কয়েকজন কোরাইশ নেতাকে নিজেদের কাছে নিতে চায় এবং তারা তাদেরকে সোপর্দ করবে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে। পরবর্তীতে কোরাইশ নেতারা বনু কুরায়জার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে এবং বনু কোরায়জা দুটো দাবী উত্থাপন করে। প্রথমত: কোরাইশদের কয়েকজন লোককে তাদের নিকটে জামিন হিসেবে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, শনিবার যুদ্ধ করা যাবে না। ফলশ্রুতিতে কোরাইশ এবং বনু কুরায়জার মধ্যকার মৈত্রী সম্পর্কের এখানেই সমাপ্তি ঘটে এবং শাওয়াল মাসের শেষে দিনটিতে মদীনার উত্তর দক্ষিণ দিক হতে একযোগে যে আক্রমণ হওয়ার কথা ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সমরবিদ্যায় গভীর মেধা থাকার কারণে উক্ত আক্রমণকে বিনা যুদ্ধে প্রতিহত করা হল।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 মক্কা অভিযান ও রক্তপাতহীন বিজয়

📄 মক্কা অভিযান ও রক্তপাতহীন বিজয়


এখন আমরা লক্ষ্য করব মক্কা-অভিযানের দিকে। সেই অভিযানে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কঠোর সমরনীতি অনুসরণ করেন নিম্নে সেগুলোকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

- এ অভিযানের প্রথমই মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় প্রবেশের সবগুলো পথ বন্ধ করে দিলেন।
- প্রত্যেক প্রবেশের পথে সেনা মোতায়েন করলেন।
- গৃহীত প্রস্তুতি সম্পর্কে কোন তথ্য যাতে পাচার হতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা নিলেন।
- সঙ্গী সাথীগণকে শুধু জানিয়ে দিলেন যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিযান অত্যন্ত নিকটে। তিনি তাদেরকে প্রস্তুতিও নিতে বললেন।
- অভিযান সম্পর্কে আর কোন ব্যাখ্যা দিলেন না।
- অভিযানের লক্ষ্য, সূত্র আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর নিকটও ছিল অজানা। এ অভিযান সম্পর্কে তিনি যে কি গোপনীয়তা রক্ষা করেছিলেন এ ঘটনা থেকে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এর নিকট এ অভিযান সম্পর্কে জানতে চান। কোথায় অভিযানে যাবে এবং কখন যাবে- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু ও সে সম্পর্কে কিছু জানতেন না।

অতঃপর রাসূল এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য কেবলমাত্র একজন সমরবিশারদের পক্ষেই বিশ্লেষণ ও অনুধাবন করা সম্ভব।

মৈত্রী গোত্রগুলোকে বললেন এবার অভিযানে যাবার সময় তাদের মদীনায় আসা অনাবশ্যক। বরং তারা প্রস্তুত থাকবে। যখন মুসলিম বাহিনী তাদের এলাকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হবে তখনই তারা মূল বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিবে। কিন্তু কোথায় তারা অভিযানে যাবেন সে বিষয়টি তাদের কাছে অজানা রয়ে গেল।

হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু 'আনহু এর সূত্রে বোখারী শরীফে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দক্ষিণে মক্কার দিকে না গিয়ে উত্তরের পথ ধরলেন। ফলে সকলের মধ্যে এ ধারণার সৃষ্টি হয় যে, যুদ্ধ হবে রোমানদের সঙ্গে। কিছুদূর যাওয়ার পর গতিপথ পরিবর্তন করে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হলেন। এবার তিনি রওয়ানা হলেন দক্ষিণ পূর্ব দিকে। অর্থাৎ গোটা পথ তিনি অতিক্রম করলেন আকা বাঁকা পথে ফলে তার মূল পরিকল্পনা সম্পর্কে কেউ কিছু আঁচ করতে পারল না। হুযায়ফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, মুসলিম বাহিনী মক্কার শেষ প্রান্তে পর্বতমালার কাছে ছাউনি ফেলার পূর্বে সে আমলের বিবেচনায় দশ হাজার সৈন্য বাহিনীটি ছিল বেশ বড়। এত বড় বাহিনীকে সহজে লোক চক্ষুর অন্তরালে রাখা সম্ভব ছিল না। অথচ মক্কাবাসীরা মুসলিম বাহিনীদের আক্রমণের কথা জানতে পারে হঠাৎ করে আকস্মিকভাবে।⁷

সামরিক অভিযানের সময় সৈন্য বাহিনীতে সম্মিলিতভাবে পাক করার রীতি আছে। এবার সে রীতি পরিহার করা হল। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে তাদের রান্নার ব্যবস্থা করতে বললেন। ফলে দশ হাজার প্রজ্বলিত চুল্লী দূর থেকে দৃশ্যমান হয়ে উঠল। মক্কার শাসক আবু সুফিয়ান একটি উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে বাস্তব অবস্থা জরীপ করে এবং এ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে পঞ্চাশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী মক্কা আক্রমণ করার জন্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সে পাহাড়ের চুড়া থেকে নেমে আসে। ঠিক সে সময় মুসলিম বাহিনীর একটা পেট্রোল দল সেখানে পৌঁছে এবং আবু সুফিয়ান তাদের হাতে ধরা পড়ে।

সে ছিল মক্কার সামরিক প্রধান। অথচ তার গ্রেফতার সম্পর্কে মক্কাবাসীরা কিছুই জানতে পারল না। তাকে নবীজির সামনে হাজির করা হলে তিনি তার নিরাপদ অবস্থান এবং তার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন। পরের দিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অপ্রতিরোধ্য বাহিনীর প্রধান হিসেবে মক্কানগরীতে প্রবেশ করেন। অথচ মক্কার লোকেরা মুসলিম বাহিনীর গতি-বিধি সম্পর্কে বিন্দু বিসর্গও জানত না। এমনকি তাদের নেতাও ছিল শহরের বাইরে মুসলিমদের হাতে। নবীজীর নির্দেশে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আবু সুফিয়ানকে এমন একটি জায়গায় দাঁড় করালেন যেখান থেকে তিনি মুসলিম বাহিনীকে অনায়াসে দেখতে পায়। দশ হাজার সৈন্য নিয়ে মুসলিম বাহিনী তার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেল। সৈন্যবাহিনী এক একটি দলের নেতৃত্ব দিলেন এক একজন গোত্র প্রধান। আবু সুফিয়ানের পাশ দিয়ে কোন একদল অতিক্রম-কালে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু দলের গঠন ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন। সবশেষে আসলেন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম। নবীজীর প্রতি ইঙ্গিত করে সুফিয়ানকে বলল- তোমার ভাইয়ের স্থান প্রকৃতপক্ষেই রাজা-ধিরাজে পৌঁছে গেছে। তার শক্তি ও প্রভাব এত বেশী যে, এখন রোম সম্রাটও তার ব্যাপারে ভীষণ আতংকিত। যাহোক আবু সুফিয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম কালে তিনি তাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আবু সুফিয়ানও নবীজীর সদিচ্ছার প্রতি অনুকূল সাড়া দিলেন। এভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রখর সমর কৌশল দিয়ে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন।

টিকাঃ
৭. অধ্যাপক মাওলানা আশরাফ আলী আবাদী, কুরআন হাদীসের আলোকে সৈনিকের কর্তব্য, ১ম প্রকাশ, ঢাকা: ই, ফা,বা,১৯৮৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00