📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 সৈন্যদের শ্রেণীবিন্যাস ও অধিনায়ক নির্বাচন

📄 সৈন্যদের শ্রেণীবিন্যাস ও অধিনায়ক নির্বাচন


১৭ রমজান ফজরের পর তিনি মুসলিম বাহিনীর সামনে জিহাদ সম্পর্কে এক উদ্দীপক ভাষণ দেন। অত:পর যুদ্ধের নিয়ম অনুসারে সৈন্যদের শ্রেণী বিন্যাস করলেন। প্রত্যেক শ্রেণীর জন্যে অধিনায়ক নির্বাচন করলেন।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 যুদ্ধের ময়দান পর্যবেক্ষণ ও সামরিক দপ্তর স্থাপন

📄 যুদ্ধের ময়দান পর্যবেক্ষণ ও সামরিক দপ্তর স্থাপন


বাহিনীর নিরাপত্তা ও ঝুঁকি থেকে মুক্তির জন্য সম্ভাব্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেন। পাহাড়ের চূড়ায় ছোট ঘর তৈরি করা হলো নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যাতে গোটা যুদ্ধ ময়দান স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং অধিনায়কগণকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারেন। সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হলো। বস্তুত পক্ষে এ কুড়ো ঘরটি ছিল মুসলিম বাহিনীর প্রধান সামরিক দপ্তর। প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব তিনি এখান থেকেই পালন করেন। যেটি ছিল শত্রু সেনাদের দৃষ্টির বাইরে এবং মক্কী বাহিনীর তীরন্দাজদের তীরও এ ঘরে আঘাত হানতে পারতো না। দ্রুতগামী দু'টি মাদী উটকে সদর দপ্তরের পাশে বেধে রাখা হলো। এটা করা হলো দুর্যোগ মুহুর্তে ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 মুক্তিপণ ধার্য ও বন্দি বিনিময়

📄 মুক্তিপণ ধার্য ও বন্দি বিনিময়


মুসলিম বাহিনী আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি কামনায় বীর বিক্রমে যুদ্ধ করল এবং সংখ্যা স্বল্পতা নিয়েও বিশাল বাহিনীকে পরাভূত করল। শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হলো বিপুল পরিমাণে, যুদ্ধক্ষেত্রে ৭০জন নিহত হলো, আহত হলো অসংখ্যজন। শত্রু সেনাদের দুর্বল করণের জন্য মুক্তিপণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হল। যাতে মুসলিমদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত হয়।

যাদের মুক্তিপণের ক্ষমতা নাই, লেখাপড়াও জানা নেই তারা আর কখনো মুসলিমদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরবে না এ শর্তে মুক্ত করে দেয়া হল।

পুতুল তথা মুর্তিপূজারী বন্দীর বিনিময়ে মুসলিম যুদ্ধবন্দীকে ছাড়িয়ে আনার ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 ওহুদ যুদ্ধ ও পরবর্তী কৌশল

📄 ওহুদ যুদ্ধ ও পরবর্তী কৌশল


ওহুদ যুদ্ধে সাতশ'র চেয়ে ক্ষুদ্র মুসলিম বাহিনী তিন হাজার সৈন্যের বিশাল মুশরিক বাহিনীর মুখোমুখি হল। ওহুদ পাহাড়টি ছিল দু'টি বৃত্ত বিশিষ্ট একটি ধনুকের মত। অভ্যন্তর ভাগের বৃত্তে প্রবেশের পথটি খুবই সংকীর্ণ। মুসলিম বাহিনী এখানেই শিবির স্থাপন করে। সামরিক দৃষ্টিতে এ স্থানটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ পথ দিয়েই শত্রুসেনাদের পক্ষে মুসলিম বাহিনীর পশ্চাৎভাগে আক্রমণ করার সম্ভাবনা ছিল এবং শত্রুসেনার আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য এ স্থানটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল জরুরী। এ স্থানটি প্রহরার জন্য ৫০ জন তীরন্দাজকে নিয়োগ করা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ প্রদান করেন যে, যদি তোমরা প্রত্যক্ষ কর যে শকুনরা মুসলিমদের মৃতদেহ ক্ষত বিক্ষত করছে তবু তোমরা স্থানচ্যুত হবে না।

পরবর্তীতে যখন ঐ টিলাটি মুসলিম প্রহরা শূন্য হয় তখনই মুশরিক বাহিনী তাদের আক্রমণ দ্বারা মুসলিমদের প্রতিহত করে এবং মুসলিমদের প্রচুর ক্ষতি সাধন হয়। এ যুদ্ধে বর্মধারী সৈন্য ছিল ১০০ জন।

যুদ্ধ শেষে কাফিরদের গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি কয়েকজন সৈন্য পাঠালেন। বলে দিলেন যদি তারা উটের পিঠে সওয়ার হয় তাহলে বুঝতে হবে ওরা ফিরে যাবে মক্কায় দীর্ঘ সফরে। আর যদি ঘোড়া ব্যবহার করে তাহলে ওদের গন্তব্যস্থল হবে মদীনা। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামরিক ধী শক্তি থেকে অনুধাবন করতে পারেন যে, পথ চলতে চলতে শত্রু সেনারা আবার মদীনার উপর আক্রমণ করার ও লুটতরাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই তিনি আবু সুফিয়ানকে পশ্চাদধাবন কবার জন্য আবার অভিযানে বের হন। ইত্যাবসরে আবু সুফিয়ান উপলব্ধি করতে পারে যে, বিজয় অর্জনের জন্য সবটুকু সুযোগের ব্যবস্থায় না করে সে ভুল করে ফেলেছে।⁶ কিন্তু পরবর্তীতে সে মুসলিমদের প্রস্তুতির কথা শুনতে পেরে চলে যেতে বাধ্য হয়।

টিকাঃ
৬. লে:কর্নেল এম কোরেশী, গৌরবদীপ্ত জিহাদ, অনু: মুহাম্মদ লুতফুল হক, ১ম প্রকাশ, ঢাকা:ই,ফা,বা, ১৯৮৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00