📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 নিরাপদ স্থান নির্বাচন ও আত্মগোপনের কৌশল

📄 নিরাপদ স্থান নির্বাচন ও আত্মগোপনের কৌশল


অভিযানে বের হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার উত্তরে না গিয়ে তিনি অগ্রসর হলেন দক্ষিণে মক্কার দিকে। নিরাপদ একটি অবস্থানে থেকে শত্রুর পথরোধ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। এ জন্য তিনি বদরকে নির্বাচন করলেন। উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝে সংকীর্ণ উপত্যকায় এ অবস্থান মুসলিম বাহিনী অনায়াসে পাহাড়ের কোলে আত্মগোপন করতে পারত। আবার সংকীর্ণ উপত্যকায় শত্রু সেনা উপর অতর্কিত হামলা চালানো ছিল সহজ। শত্রু বাহিনীর সন্ধানে মুসলিম বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। নবীজী নিজেও দুজন সাহাবীসহ তথ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। সঙ্গী সাথীগনের সঙ্গে আলোচনান্তে তিনি মুসলিম বাহিনীর তাবু স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করেন।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 পানির উৎস নিয়ন্ত্রণ ও জলাধার নির্মাণ

📄 পানির উৎস নিয়ন্ত্রণ ও জলাধার নির্মাণ


এদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন বাণিজ্য কাফেলা মক্কায় চলে গিয়েছে এবং মক্কার মুশরিকরা আবু জেহেলের নেতৃত্বে মদীনা আক্রমণের জন্য অগ্রসর হচ্ছে। সঙ্গী সাথীদের সাথে আলোচনান্তে উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির একমাত্র উৎস নিয়ন্ত্রণ করেন। অর্থাৎ বদরের যে স্থানে কুয়োটি অবস্থিত সে স্থানটিতে শিবির স্থাপন করেন। যা ছিল বদরের পানির একমাত্র উৎস।

সাহাবীগনের পরামর্শক্রমে কুয়োর পাশে একটা জলধার খনন করেন এবং জরুরী অবস্থার কথা বিবেচনায় এনে জলধারটি পানি দ্বারা পূর্ণ করেন। শত্রু সেনারা যাতে কুয়োর পাশে আসতে না পারে সেজন্য একজন প্রহরী মোতায়েন করেন। সতর্কতামূলক এসব ব্যবস্থা সামরিক বিবেচনায় খুবই ফলপ্রসূ বলে ইতোমধ্যে প্রহরার দায়িত্বে নিয়োজিত মুসলিম সেনারা দুজন লোককে গ্রেফতার করে, তারা কুয়োর দিকে আসছিল পানি নিতে।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 খাদ্য গ্রহণের উপর অনুমান করে শত্রু সংখ্যা নির্ধারণ

📄 খাদ্য গ্রহণের উপর অনুমান করে শত্রু সংখ্যা নির্ধারণ


এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামরিক জীবনের কূটনীতির প্রমাণ পাওয়া যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রেফতারকৃত সেনাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। “তোমরা কে? “আমরা মক্কী বাহিনীর লোক” তোমরা কতজন? “আমরা জানি না।” “তোমাদের লোকের জন্য প্রতিদিন কয়টি উট জবাই হয়? “একদিন নয়টি জবাই হলেও পরের দিন ১০ টি। একটি উটের গোশত ১০০ জনের আহার চলে। এ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান করলেন যে, তাদের সংখ্যা হবে ৯০০ থেকে ১০০০ সৈন্য। বাস্তবে তারা ছিল ৯৫০ জন।⁵

টিকাঃ
৫. ড.মুহাম্মদ হামীদুল্লাহ, জিহাদের ময়দানে রাসূল মুহাম্মদ (সা) অনু: মুহাম্মদ লুতফুল হক, ১ম প্রকাশ, ঢাকা:ই,ফা,বা ১৯৯১।

📘 সমরবিদ হিসাবে মুহাম্মাদ সা > 📄 যুদ্ধ উপকরণ

📄 যুদ্ধ উপকরণ


নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৎকালে যুদ্ধের জন্য যেসব উপকরণ ব্যবহার করেছিলেন তা হল অশ্ব, বর্ম, উট, তলোয়ার, তীর। সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী বদর যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩১৩ জন। অশ্ব ছিল মাত্র ২ টি, উট ছিল ৭০ টি, বর্ম ছিল ১২ টি, সৈন্যরা পালাক্রমে এগুলোর উপর সওয়ার হয়ে যুদ্ধ করার পরিকল্পনা করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00