📄 প্রতিরক্ষা খাতের স্থান নির্বাচন
হিজরতের পূর্বে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন অভিযান পরিচালনা করেন নি। তাই তাঁর সমর জীবনের ইতিহাস হিজরত সংঘটিত হওয়ার পরই শুরু হয়েছে। যেমন আমরা দেখতে পাই যে তিনি হিজরতের পরই মদীনাতে মুসলিম, ইয়াহুদী গোত্রগুলো নিয়ে যে রাষ্ট্র গঠন করেন তাতে তিনি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা খাতকে। শহরের অভ্যন্তরে থেকে তারা শত্রুর মোকাবেলা করবে না কি শহরের বাইরে গিয়ে অবস্থান নিবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার তার উপর ন্যস্ত ছিল।
📄 সামরিক চুক্তিস্থাপন
সামরিক চুক্তি, এটা রাসূলের জীবনের সামরিক তৎপরতার অন্যতম কাজ। যা তার সামরিক জীবনকে তাৎপর্যমন্ডিত করেছে। মদিনায় নিরাপত্তা বিধানের জন্য তিনি পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলোর সঙ্গে সামরিক চুক্তি সম্পাদন করেন। মদীনার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ ও তাকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে মুক্ত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। শত্রুপক্ষকে শহর রাষ্ট্র মদীনার মিত্রদের আক্রমণ করেই তৃপ্ত থাকতে হত, বড় জোর এটা হতে পারত মদীনা আক্রমণের ওয়ার্নিংস্বরূপ। ফলে মদিনার চতুর্দিকে এক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি হল।
📄 গোয়েন্দা বাহিনী গঠন
গোয়েন্দা বাহিনী গঠন মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমরজীবনে বুদ্ধি- বিচক্ষণতার প্রমাণ বহন করে। বদর যুদ্ধের ঠিক পূর্বে কোরাইশ- কাফেলার উপার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা বাণিজ্যে বের হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজন গোয়েন্দা পাঠিয়ে ছিলেন সিরিয়ায় তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য। তৎকালীন একমাত্র দ্রুত বাহন উটের মাধ্যমে। গোয়েন্দা প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই রাসূল বাণিজ্য কাফেলা সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিলেন এবং তিনি অভিযানেও বেরিয়ে পড়েছিলেন। তথ্য যাতে শত্রু শিবিরে না পৌঁছে সে জন্য যথাসাধ্য সতর্কতাও অবলম্বন করেছিলেন।
টিকাঃ
৪. আল্লামা আযাদ সুবহানী, বিপ্লবী নবী, মাওলানা মুজিবুর রহমান, ঢাকা: ই, ফা, বা, প্রথম প্রকাশ ১৩৭৫।
📄 নিরাপদ স্থান নির্বাচন ও আত্মগোপনের কৌশল
অভিযানে বের হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার উত্তরে না গিয়ে তিনি অগ্রসর হলেন দক্ষিণে মক্কার দিকে। নিরাপদ একটি অবস্থানে থেকে শত্রুর পথরোধ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। এ জন্য তিনি বদরকে নির্বাচন করলেন। উঁচু উঁচু পাহাড়ের মাঝে সংকীর্ণ উপত্যকায় এ অবস্থান মুসলিম বাহিনী অনায়াসে পাহাড়ের কোলে আত্মগোপন করতে পারত। আবার সংকীর্ণ উপত্যকায় শত্রু সেনা উপর অতর্কিত হামলা চালানো ছিল সহজ। শত্রু বাহিনীর সন্ধানে মুসলিম বাহিনী বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। নবীজী নিজেও দুজন সাহাবীসহ তথ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। সঙ্গী সাথীগনের সঙ্গে আলোচনান্তে তিনি মুসলিম বাহিনীর তাবু স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করেন।