📄 মাইকে কুরআন তিলাওয়াত করা
কুরআনে করীম তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত। এ তিলাওয়াতের সময় শ্রোতাদের কর্তব্য হলো, মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ করা। তবে যেখানে কোন উজরের কারণে তিলাওয়াত শ্রবণ করতে শ্রোতাদের কষ্ট হয় কিংবা শ্রবণ করা সম্ভব না হয় সেখানে তিলাওয়াতকারীর কর্তব্য হলো, আওয়াজ সীমিত করে তিলাওয়াত করা, যাতে এর কারণে শ্রোতাদের কষ্ট না হয়।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের কোন কোন স্থানে যে মাইকে কোরআন তিলাওয়াত করা হয় তা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নেই। কেননা, মাইকে তিলাওয়াতের আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে। অথচ মানুষ সে সময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে তারা তিলাওয়াত শুনতে পারেনা। আবার কেউ তখন ইস্তিঞ্জারত থাকে। কেউ বা ঘুমে বা ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে। যার ফলে তারা কুরআনের তিলাওয়াত মনযোগ সহকারে শুনতে পারেনা বা এর কারণে তাদের কষ্ট হয়। অথচ কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তা শুনা আবশ্যক। এছাড়া, কাউকে কষ্ট দেওয়াও হারাম।
অতএব, যারা মাইকে তিলাওয়াতের ব্যবস্থা করবে এবং যারা জেনে শুনে মাইকে তিলাওয়াত করবে তারা এর জন্য গুনাহগার হবে। শ্রোতাদের কোন গুনাহ হবেনা। তবে মাইকে তিলাওয়াতের আওয়াজ যদি মাহফিলের শ্রোতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই।
সূত্র: সূরা আরাফ, আয়াত- ২০৪, রদ্দুল মুহতার ১/৫০৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা ৫/৩১৪, ফাতাওয়া উসমানী ১/১৮৮
📄 মাইকে উচ্চস্বরে যিকির করা
আমাদের দেশে অনেক জায়গায় দেখা যায় যে, সপ্তাহে বা মাসে দু একবার মসজিদে বা অন্য কোন স্থানে লোকজন একত্রিত হয়ে মাইকে উচ্চ স্বরে অনেক রাত পর্যন্ত যিকির করতে থাকে। এতে অনেক সময় অন্য মানুষের অসুবিধা হয়।
এ-ব্যাপারে কথা হলো, কুরআন-সুন্নাহতে যিকিরের অসংখ্য ফজীলত বর্ণিত হয়েছে। রিওয়ায়েত সমূহে আস্তে ও জোরে উভয় ভাবে যিকিরের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে ফুকাহায়ে কেরাম নিঃশব্দে ও স্বশব্দে দুভাবেই যিকির করাকে জায়েয বলেছেন।
তবে উচ্চ শব্দে বা মাইকে যিকির করা জায়েয হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং ঐ শর্তগুলো অনুসরণ করে বর্ণিত পন্থায় মাইকে যিকির করলে তা জায়েয হবে। অন্যথায় জায়েয হবেনা। শর্তগুলো হলো,
(১) মাইকে যিকিরের কারণে যেন কারো নামায ও ইবাদত বন্দেগীতে সমস্যা না হয়।
(২) কারো ঘুমে যেন বেঘাত না ঘটে।
(৩) যিকিরের ধরণ যেন বাতীলপন্থীদের যিকিরের মত না হয়।
মোটকথা, কাউকে কষ্ট না দিয়ে মসজিদে বা অন্য কোথাও একত্রিত হয়ে মাইকে যিকির করা জায়েয হবে; অন্যথায় জায়েয হবেনা।
সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত-৫৮, রদ্দুল মুহতার ১/৬৬০, মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/১৯১, আযীযুল ফাতাওয়া ২/২২৩, ইমদাদুল আহকাম ১/৩২০