📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের সম্পদে হস্তক্ষেপ করা

📄 অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের সম্পদে হস্তক্ষেপ করা


অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদেরকে অনেক সময় আত্মীয় স্বজন বা অন্য কেউ টাকা-পয়সা, কাপড় চোপড়, খেলনা ইত্যাদি উপহার দিয়ে থাকে। অনুরূপ ভাবে, পিতা-মাতাও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদেরকে পোশাকাদী বা অন্যান্য বস্তুর মালিক বানিয়ে দেয়।
মনে রাখতে হবে, উভয় সূরতেই ঐ সব টাকা-পয়সা, কাপড়-চোপড় সব কিছুর মালিক স্বয়ং ঐ বাচ্চাই হয়ে থাকে। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চা যেমনিভাবে নিজের সম্পদ অন্য কাউকে দিতে পারেনা তেমনিভাবে তার অভিভাবকগণও বিনা অপরগতায় সংসারের কাজে ব্যবহার করতে পারেনা। ঐ সম্পদ কাউকে দানও করতে পারেনা। মোটকথা, তাতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। এমনকি ঐ সম্পদ কাউকে ঋণ হিসাবেও দিতে পারেনা। অভিভাবকগণ শুধুমাত্র ঐ সম্পদ হিফাজত করতে পারেন ও বিশেষ প্রয়োজনে ঐ বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারেন। অথচ বর্তমান সমাজে এ বিষয়ের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করা হয়না; বরং অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের মালিকানাধীন সম্পদ প্রায়ই অভিভাবকদেরকে সাংসারিক কাজে ব্যয় করতে দেখা যায়। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয।
উত্তম হলো, অভিভাবকগণ ছোট সন্তানদেরকে যে সব জিনিস পত্র দিবেন সেগুলো তাদেরকে শুধু ব্যবহারের জন্যই দিবেন। মালিক বানিয়ে দিবেন না, যাতে প্রয়োজনে অন্যকে তা দিয়ে দেয়ার অধিকার তাদের হাতেই থাকে।

সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯৬, বেহেস্তি জেওর ৫/৪৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 নাবালেগ ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে চাঁদা উঠানো

📄 নাবালেগ ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে চাঁদা উঠানো


আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্তৃপক্ষগণ প্রতিষ্ঠানের কোন অনুষ্ঠান, মাহফিল বা অন্য কোন জন কল্যাণ মূলক কাজে নাবালেগ ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে চাঁদা উত্তলন করে।
এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হচ্ছে, নেক কাজে দান গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হলো, দান কারী ব্যক্তির মুকাল্লাফ তথা বিবেক সম্পন্ন ও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া।
বুঝা গেল, নাবালেগের দান শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং যে কোন ভাল বা মন্দ উদ্দেশ্যে নাবালেগ ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে চাঁদা উঠানো জায়েয নেই।
তবে নাবালেগের অভিভাবকগণ যদি শিশুকে দানে অভ্যস্ত করার জন্য নিজের টাকা বা অন্য কিছু শিশুর হাতে দান করার জন্য অর্পণ করেন, তাহলে তা জায়েয আছে। আর এ বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে জানা গেলে শিশু থেকে তা গ্রহণ করাও জায়েয আছে। আর তখন এ দানটি অভিভাবকের পক্ষ থেকে গণ্য হবে।

সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ৯/২৫৩, আলমগীরী ৪/৪০৮, ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃঃ ৯৫, তাতারখানিয়া ১৪/৫০২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 সন্তান দত্তক নেওয়া

📄 সন্তান দত্তক নেওয়া


আমাদের সমাজে প্রচলন আছে যে, মানুষ একে অন্যের থেকে সন্তান দত্তক/পালক নেয়। কোন কোন সময় ঐ সন্তানের আসল পিতা মাতা থেকে এ মর্মে স্বীকারোক্তি নিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে নেয় যে, তারা আর এ সন্তানের দাবী করতে পারবেনা।
প্রশ্ন হলো, এভাবে সন্তান দত্তক নেয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয কিনা? এবং যারা দত্তক নিয়েছে তাদেরকে ঐ সন্তানের বাবা মা বলা কিংবা ঐ সন্তানকে তাদের ছেলে মেয়ে বলে ডাকতে পারবে কিনা?
এর উত্তর হলো, উপরে বর্ণিত পন্থায় সন্তান দত্তক নেয়া শরীয়তে জায়েয নেই। কারণ, এভাবে সন্তান দত্তক/পালক নেয়ার দ্বারা ঐ সন্তানের বংশ সূত্র তার আসল পিতা-মাতা থেকে ছিন্ন হয়ে দত্তক গ্রহণকারীদের দিকে হয়ে যায় এবং ঐ সন্তানকে পালক পিতা-মাতার সন্তান বলে অভিহিত করা হয়। অথচ কুরআন, হাদীসে কাউকে তার প্রকৃত পিতা-মাতা ছাড়া অন্যের দিকে সম্পৃক্ত করতে নিষেধ করা হয়েছে।
তাছাড়া, সন্তান ও বাবা মায়ের মাঝে অনেক গুলো শরঈ হকের সম্পর্ক রয়েছে। যথা:
(ক) সন্তানের লালন পালন, তার ভরণ পোষণ দেয়া। অথচ বর্ণিত পন্থায় সন্তানকে দত্তক দিয়ে পিতা মাতা দায়িত্ব মুক্ত হয়ে গেছেন বলে মনে করেন। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সন্তান দত্তক দেয়ার পর ঐ হক গুলো ব্যহত হয়।
(খ) দ্বীন শিখানোর হক। সন্তান দত্তক দেয়ার দ্বারা পিতা-মাতা সন্তানকে অনেক সময় এ হক থেকে বঞ্চিত করেন।
(গ) বিবাহ শাদীর হক।
অনুরূপ ভাবে, সন্তানের প্রতি পিতা মাতারও কিছু হক রয়েছে। যথা:
(ক) তারা খেদমতের মুখাপেক্ষী হলে তাদের খেদমত করা।
(খ) তারা অভাবী হলে এবং সন্তান স্বচ্ছল হলে তাদের ভরণ পোষণ দেয়া।
(গ) মাঝে মাঝে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া।
এছাড়া, তাদের পরষ্পরের মাঝে মীরাসেরও হক রয়েছে। আর বর্ণিত পন্থায় সন্তানের ব্যপারে সম্পূর্ণ না দাবীর শর্ত করে দত্তক নেয়ার ক্ষেত্রে যেহেতু উল্লেখিত হক সমূহ অনেকাংশে আদায় হয়না; বরং সেগুলো নষ্ট হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে তাই তা নাজায়েয।
অবশ্য, কেউ যদি অন্যের সন্তানকে তার পিতা-মাতার পরিচয় ছিন্ন না করে স্নেহ, মায়া-মমতা বশত: দত্তক নেয় এবং তার ভরণ পোষণ, লেখা-পড়ার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং এ কারণে ঐ সন্তানকে নিজের সন্তানের মত ছেলে মেয়ে বলে ডাকে, আর ঐ সন্তানও পালন কারী পিতা-মাতাকে বাবা মা বলে ডাকে তাহলে তা জায়েয হবে।
তবে অন্যের নিকট তাদেরকে এমন ভাবে নিজেদের ছেলে-মেয়ে বলে দাবী করতে পারবেনা যে, সে আমাদের সন্তান এবং সন্তানও তাদেরকে নিজের পিতা মাতা বলে দাবী করতে পারবেনা।
এছাড়া, সন্তান ও পিতা-মাতার পরস্পর যে সকল শরঈ বিধান কার্যকর হয়ে থাকে যেমন: একে অন্যের মীরাসের অধিকারী হওয়া, ইত্যাদি বিধান এক্ষেত্রে কার্যকর হবেনা; বরং পালক সন্তান তার প্রকৃত পিতা-মাতা থেকে মীরাস পাবে এবং ঐ সন্তানের সম্পদ থাকলে তার আসল পিতা-মাতাই তার সম্পদের মীরাস পাবে, দত্তক গ্রহণকারী পিতা-মাতা নয়।

সূত্র: সূরা আহযাব : আয়াত ৪-৫, সহীহ বুখারী ২/১০০১, সহীহ মুসলিম ১/৫৭, আহকামুল কুরআন ৩/২৯১, ফাতহুল মুলহিম ২/১৯, মিরক্বাত ৬/৪৩৬, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২৯/১৬৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মাইকে কুরআন তিলাওয়াত করা

📄 মাইকে কুরআন তিলাওয়াত করা


কুরআনে করীম তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত। এ তিলাওয়াতের সময় শ্রোতাদের কর্তব্য হলো, মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ করা। তবে যেখানে কোন উজরের কারণে তিলাওয়াত শ্রবণ করতে শ্রোতাদের কষ্ট হয় কিংবা শ্রবণ করা সম্ভব না হয় সেখানে তিলাওয়াতকারীর কর্তব্য হলো, আওয়াজ সীমিত করে তিলাওয়াত করা, যাতে এর কারণে শ্রোতাদের কষ্ট না হয়।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের কোন কোন স্থানে যে মাইকে কোরআন তিলাওয়াত করা হয় তা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নেই। কেননা, মাইকে তিলাওয়াতের আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে। অথচ মানুষ সে সময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে তারা তিলাওয়াত শুনতে পারেনা। আবার কেউ তখন ইস্তিঞ্জারত থাকে। কেউ বা ঘুমে বা ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে। যার ফলে তারা কুরআনের তিলাওয়াত মনযোগ সহকারে শুনতে পারেনা বা এর কারণে তাদের কষ্ট হয়। অথচ কুরআন তিলাওয়াত করা হলে তা শুনা আবশ্যক। এছাড়া, কাউকে কষ্ট দেওয়াও হারাম।
অতএব, যারা মাইকে তিলাওয়াতের ব্যবস্থা করবে এবং যারা জেনে শুনে মাইকে তিলাওয়াত করবে তারা এর জন্য গুনাহগার হবে। শ্রোতাদের কোন গুনাহ হবেনা। তবে মাইকে তিলাওয়াতের আওয়াজ যদি মাহফিলের শ্রোতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় তাহলে কোন সমস্যা নেই।

সূত্র: সূরা আরাফ, আয়াত- ২০৪, রদ্দুল মুহতার ১/৫০৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা ৫/৩১৪, ফাতাওয়া উসমানী ১/১৮৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00