📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 খেলনার পুতুল দিয়ে বাচ্চাদের খেলা করা

📄 খেলনার পুতুল দিয়ে বাচ্চাদের খেলা করা


পুতুল, মূর্তি, ভাষ্কর্য, সংগ্রহ করা, সংগ্রহে রাখা, ক্রয়-বিক্রয় করা, এগুলো নিয়ে খেলা ধুলা করা, এগুলোকে সম্মান করা সবই শরীয়তে নিষিদ্ধ।
তবে অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েরা যে সকল পুতুল নিয়ে খেলা করে সেগুলো তাদের জন্য ক্রয়-বিক্রয় করা, তাদের সেগুলো নিয়ে খেলা করা জায়েয আছে। কেননা, এর মাধ্যমে মেয়েদের ঘর সাজানো ও বাচ্চাদের লালন পালনের অনুশীলন হয়।
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. থেকে তার শৈশব কালে পুতুল নিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে খেলা করার ঘটনা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। সূত্র: সহীহ বুখারী ২/৮৮০, ৯০৫
অবশ্য, ছোট মেয়েদের জন্য খেলনার পুতুল ব্যতীত অন্য কোন ছবি রাখা বা বাচ্চা মেয়েদের ছাড়া অন্য কারো জন্য পুতুল ব্যবহার করার কোন সুযোগ শরীয়তে নেই।
সুতরাং বর্তমানে বাসা-বাড়ীতে, মার্কেটে ও বিভিন্ন স্থানে শুধুমাত্র সাজিয়ে রেখে শোভা বর্ধনের লক্ষ্যে যে সকল পুতুল ক্রয়-বিক্রয় করা হয় তা শরীয়তে জায়েয নেই।

সূত্র: সুনানে আবী দাউদ ২/৬৭৫, উমদাতুল কারী ১৮/৩৬৪, মিরকাত ৬/২৬৭, বজলুল মাজহুদ ১৯/৮৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিভিন্ন মেলায় যাওয়া এবং জিনিস পত্র খরিদ করা

📄 বিভিন্ন মেলায় যাওয়া এবং জিনিস পত্র খরিদ করা


আমাদের দেশে যে সমস্ত মেলা বসে যেমন: বৈশাখী মেলা, পৌষী মেলা ইত্যাদি। সেগুলো আমাদের জানা মতে সাধারণত বিভিন্ন ধরণের নোংরা, অশ্লীল ও অবৈধ কার্য কলাপের উপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। সে সব মেলা মুসলমানদের হোক বা বিধর্মীদের হোক বা মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের হোক সেগুলোতে বিনোদনের উদ্দেশ্যে কিংবা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে উপস্থিত হওয়া উচিৎ হবে না। কেননা, আপনার উপস্থিতি মেলার জাঁক জমক ও সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা প্রকারান্তরে ঐ মেলাতে চলা অশ্লীলতা ও অবৈধ কার্যকলাপকে সহযোগিতা করার নামান্তর। অথচ আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ ফরমান, “কল্যাণ ও তাকওয়ার কাজে তোমরা একে অপরের সহযোগিতা কর। গুনাহ ও সীমালঙ্ঘণের ব্যাপারে একে অপরকে সহযোগিতা করবে না।”
উল্লেখিত মেলায় গমণ করা যেহেতু উক্ত আয়াতের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন তাই সেসব মেলায় উপস্থিত না হওয়া প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। অবশ্য, কবীরাহ গুনাহ হওয়া স্বত্বেও কেউ যদি উক্ত মেলায় উপস্থিত হয়ে কোন বস্তু সঠিক পদ্ধতিতে কেনাকাটা করে তাহলে তার কেনা কাটা বৈধ হবে।

সূত্র: সূরা মায়িদা, আয়াত:২, ফাতাওয়া রশীদিয়া পৃঃ ২৪৯, ফাতাওয়া রশীদিয়া পৃঃ ৪৫৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ হবে এমন দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করা

📄 শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ হবে এমন দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করা


পূর্ব থেকে যদি জানা যায় যে, দাওয়াতের অনুষ্ঠানে গান-বাদ্য বাজানো হবে, ছবি তোলা হবে, ভিডিও করা হবে বা অন্য কোন গুনাহের কাজ হবে তাহলে এমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া মাকরুহে তাহরীমি।
আর যদি দাওয়াতে উপস্থিত হওয়ার পর এ বিষয়টি জানা যায় এবং খোদ খাবারের মজলিসেই এসব কাজ হয় তবে সেই মজলিসে উপস্থিত থাকাও মাকরূহে তাহরীমী।
আর যদি ঐ মজলিসে এগুলো না হয়ে অন্য কোথাও হয় তাহলে বাঁধা দিতে সক্ষম হলে দিবে অন্যথায় ধৈর্য ধারণ করবে।
বর্ণিত এসব হুকুম সর্ব সাধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে, আলেম বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হলে তার জন্য ঐ দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করা সর্বাবস্থাতেই মাকরূহে তাহরীমি।

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/১১৪

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের সম্পদে হস্তক্ষেপ করা

📄 অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের সম্পদে হস্তক্ষেপ করা


অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদেরকে অনেক সময় আত্মীয় স্বজন বা অন্য কেউ টাকা-পয়সা, কাপড় চোপড়, খেলনা ইত্যাদি উপহার দিয়ে থাকে। অনুরূপ ভাবে, পিতা-মাতাও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদেরকে পোশাকাদী বা অন্যান্য বস্তুর মালিক বানিয়ে দেয়।
মনে রাখতে হবে, উভয় সূরতেই ঐ সব টাকা-পয়সা, কাপড়-চোপড় সব কিছুর মালিক স্বয়ং ঐ বাচ্চাই হয়ে থাকে। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চা যেমনিভাবে নিজের সম্পদ অন্য কাউকে দিতে পারেনা তেমনিভাবে তার অভিভাবকগণও বিনা অপরগতায় সংসারের কাজে ব্যবহার করতে পারেনা। ঐ সম্পদ কাউকে দানও করতে পারেনা। মোটকথা, তাতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। এমনকি ঐ সম্পদ কাউকে ঋণ হিসাবেও দিতে পারেনা। অভিভাবকগণ শুধুমাত্র ঐ সম্পদ হিফাজত করতে পারেন ও বিশেষ প্রয়োজনে ঐ বাচ্চার জন্য খরচ করতে পারেন। অথচ বর্তমান সমাজে এ বিষয়ের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করা হয়না; বরং অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের মালিকানাধীন সম্পদ প্রায়ই অভিভাবকদেরকে সাংসারিক কাজে ব্যয় করতে দেখা যায়। যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয।
উত্তম হলো, অভিভাবকগণ ছোট সন্তানদেরকে যে সব জিনিস পত্র দিবেন সেগুলো তাদেরকে শুধু ব্যবহারের জন্যই দিবেন। মালিক বানিয়ে দিবেন না, যাতে প্রয়োজনে অন্যকে তা দিয়ে দেয়ার অধিকার তাদের হাতেই থাকে।

সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯৬, বেহেস্তি জেওর ৫/৪৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00