📄 কুরআনের আয়াত, আযান, দু‘আ ইত্যাদিকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করা
বর্তমানে অনেককেই দেখা যায়, নিজেদের মোবাইলের রিংটোন হিসাবে কুরআনের আয়াত, আযান, দু'আ, দরূদ ইত্যাদিকে ব্যবহার করে। বিশেষত: যাদেরকে দ্বীনদার মনে করা হয় বা সমাজে দ্বীনদার হিসাবে পরিচিত তাদের মধ্যে এটা বেশী পরিলক্ষিত হয়। গান বাদ্যকে রিংটোন না বানিয়ে এগুলোকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করাকে তারা এক প্রকার দ্বীনদারীই মনে করে।
অথচ শরীয়তে এটা নাজায়েয। কারণ, আল্লাহ তা'আলা যেমন মহান ও সকল সম্মানের আঁধার, তেমনি তার যিকির ও তাসবীহ একমাত্র তাঁর জন্যই এবং তাঁকে রাজী খুশি করার জন্যই করতে হবে। অন্য কোন দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা তার অবমাননার শামিল। সুতরাং মোবাইলে কল এসেছে, এটা বুঝাবার জন্য রিংটোন হিসাবে আয়াত, আযান, দু'আ, দরূদ এর ব্যবহার মূলত: এসবের অসম্মান করারই নামান্তর। সুতরাং তা জায়েয হতে পারেনা।
এর একটি শরঈ দৃষ্টান্ত হলো, ফুকাহায়ে কেরাম, পাহারাদার জাগ্রত আছে, এ কথা বুঝাবার জন্য উচ্চস্বরে তাসবীহ পড়তে নিষেধ করেছেন। অতএব, কুরআনের আয়াত, আযান, দু'আ, ইত্যাদিকে মোবাইলের রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করা যে নিষেধ হবে তা বলাই বাহুল্য। উপরন্তু, এ মোবাইল টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার পর কল আসলে সেখানে তা বেজে উঠবে। ফলে, নাপাক স্থানে এগুলোকে ব্যবহার করা হবে।
অথচ ফুকাহায়ে কেরাম সর্বসম্মত ভাবে নাপাক স্থানে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করাকে নাজায়েয বলেছেন। সুতরাং ইহা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।
সূত্র: ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৪৮, আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৫০৮, কাজীখান ৩/৩২৬ আহসানুল ফাতাওয়া ৮/১৭
📄 খেলনার পুতুল দিয়ে বাচ্চাদের খেলা করা
পুতুল, মূর্তি, ভাষ্কর্য, সংগ্রহ করা, সংগ্রহে রাখা, ক্রয়-বিক্রয় করা, এগুলো নিয়ে খেলা ধুলা করা, এগুলোকে সম্মান করা সবই শরীয়তে নিষিদ্ধ।
তবে অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েরা যে সকল পুতুল নিয়ে খেলা করে সেগুলো তাদের জন্য ক্রয়-বিক্রয় করা, তাদের সেগুলো নিয়ে খেলা করা জায়েয আছে। কেননা, এর মাধ্যমে মেয়েদের ঘর সাজানো ও বাচ্চাদের লালন পালনের অনুশীলন হয়।
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. থেকে তার শৈশব কালে পুতুল নিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে খেলা করার ঘটনা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। সূত্র: সহীহ বুখারী ২/৮৮০, ৯০৫
অবশ্য, ছোট মেয়েদের জন্য খেলনার পুতুল ব্যতীত অন্য কোন ছবি রাখা বা বাচ্চা মেয়েদের ছাড়া অন্য কারো জন্য পুতুল ব্যবহার করার কোন সুযোগ শরীয়তে নেই।
সুতরাং বর্তমানে বাসা-বাড়ীতে, মার্কেটে ও বিভিন্ন স্থানে শুধুমাত্র সাজিয়ে রেখে শোভা বর্ধনের লক্ষ্যে যে সকল পুতুল ক্রয়-বিক্রয় করা হয় তা শরীয়তে জায়েয নেই।
সূত্র: সুনানে আবী দাউদ ২/৬৭৫, উমদাতুল কারী ১৮/৩৬৪, মিরকাত ৬/২৬৭, বজলুল মাজহুদ ১৯/৮৮
📄 বিভিন্ন মেলায় যাওয়া এবং জিনিস পত্র খরিদ করা
আমাদের দেশে যে সমস্ত মেলা বসে যেমন: বৈশাখী মেলা, পৌষী মেলা ইত্যাদি। সেগুলো আমাদের জানা মতে সাধারণত বিভিন্ন ধরণের নোংরা, অশ্লীল ও অবৈধ কার্য কলাপের উপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে। সে সব মেলা মুসলমানদের হোক বা বিধর্মীদের হোক বা মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের হোক সেগুলোতে বিনোদনের উদ্দেশ্যে কিংবা কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে উপস্থিত হওয়া উচিৎ হবে না। কেননা, আপনার উপস্থিতি মেলার জাঁক জমক ও সৌন্দর্য বর্ধনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যা প্রকারান্তরে ঐ মেলাতে চলা অশ্লীলতা ও অবৈধ কার্যকলাপকে সহযোগিতা করার নামান্তর। অথচ আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ ফরমান, “কল্যাণ ও তাকওয়ার কাজে তোমরা একে অপরের সহযোগিতা কর। গুনাহ ও সীমালঙ্ঘণের ব্যাপারে একে অপরকে সহযোগিতা করবে না।”
উল্লেখিত মেলায় গমণ করা যেহেতু উক্ত আয়াতের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন তাই সেসব মেলায় উপস্থিত না হওয়া প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। অবশ্য, কবীরাহ গুনাহ হওয়া স্বত্বেও কেউ যদি উক্ত মেলায় উপস্থিত হয়ে কোন বস্তু সঠিক পদ্ধতিতে কেনাকাটা করে তাহলে তার কেনা কাটা বৈধ হবে।
সূত্র: সূরা মায়িদা, আয়াত:২, ফাতাওয়া রশীদিয়া পৃঃ ২৪৯, ফাতাওয়া রশীদিয়া পৃঃ ৪৫৫
📄 শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ হবে এমন দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করা
পূর্ব থেকে যদি জানা যায় যে, দাওয়াতের অনুষ্ঠানে গান-বাদ্য বাজানো হবে, ছবি তোলা হবে, ভিডিও করা হবে বা অন্য কোন গুনাহের কাজ হবে তাহলে এমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া মাকরুহে তাহরীমি।
আর যদি দাওয়াতে উপস্থিত হওয়ার পর এ বিষয়টি জানা যায় এবং খোদ খাবারের মজলিসেই এসব কাজ হয় তবে সেই মজলিসে উপস্থিত থাকাও মাকরূহে তাহরীমী।
আর যদি ঐ মজলিসে এগুলো না হয়ে অন্য কোথাও হয় তাহলে বাঁধা দিতে সক্ষম হলে দিবে অন্যথায় ধৈর্য ধারণ করবে।
বর্ণিত এসব হুকুম সর্ব সাধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পক্ষান্তরে, আলেম বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হলে তার জন্য ঐ দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করা সর্বাবস্থাতেই মাকরূহে তাহরীমি।
সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/১১৪