📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 টিভিতে, মোবাইলে বা কম্পিউটারে কার্টুন দেখা

📄 টিভিতে, মোবাইলে বা কম্পিউটারে কার্টুন দেখা


বর্তমানে ছোট ছোট বাচ্চারা কার্টুন দেখতে খুব পছন্দ করে। অভিভাবকদের মাঝেও এমন কথা প্রচলিত আছে যে, টিভিতে সিনেমা, বা অন্যান্য প্রোগ্রাম দেখা নাজায়েয হলেও কার্টুন দেখতে সমস্যা নেই। কারণ, এটা অন্যান্য ছবির মত নয়। একারণে তারা বাচ্চাদেরকে অন্যান্য প্রোগ্রাম দেখতে না দিলেও কার্টুন দেখতে দেয়। এমনকি তারা নিত্য নতুন কার্টুন দেখার বায়না করলেও স্বত:স্ফূর্ত ভাবে তা পূরণ করে দেয়।
অথচ শরীয়তের বিধান হলো, কার্টুনে প্রদর্শিত কোন প্রাণীর যদি চেহারা, নাক, চোখ ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণাঙ্গ হয় এবং প্রাণী হিসাবে চেনা যায় তাহলে এমন কার্টুন টিভি, মোবাইল, বা কম্পিউটারে দেখা জায়েয নেই।
তবে কার্টুন যদি এমন হয়, যে তাতে প্রদর্শিত প্রাণীর অঙ্গ সমূহ অস্পষ্ট থাকে অর্থাৎ সেটির চেহারা, নাক, চোখ ইত্যাদি বুঝে না আসে অথবা মাথা ব্যতীত অসম্পূর্ণ কার্টুন হয় তাহলে তা দেখার অবকাশ আছে। তবুও যেহেতু এটাতে অহেতুক সময় নষ্ট হয় এবং এতে শারীরিক কোন উপকার সাধিত হয়না তাই তা থেকে বেঁচে থাকা উচিৎ।

সূত্র: তাকমিলা ৪/৪৩৫, ফাতাওয়ায়ে শামী ৬/৩৯৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 সাইবার ক্যাফ খোলা

📄 সাইবার ক্যাফ খোলা


সাইবার ক্যাফ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে যদ্দুর জানা গেছে, তা হলো, এটি অনেকগুলো কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখানে প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। গ্রাহকগণ সুনির্দিষ্ট ভাড়া পরিশোধের শর্তে সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্বলিত একেকটি কম্পিউটার ভাড়া নেয়। গ্রাহক ঐ সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে কোন সুবিধা ভোগ করতে পারে। এছাড়াও, ঔ কম্পিউটারে গেমস খেলা সহ তা থেকে যে কোন ধরণের ইন্টারনেট সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করতে পারে। হতে পারে, শরীয়তের দৃষ্টিতে সেটা বৈধ কিংবা অবৈধ।
তবে আমাদের জানা মতে, সেখানে বৈধ সেবা গ্রহণকারীদের তুলনায় অবৈধ সেবা গ্রহণকারীদের সংখ্যাই অধিক এবং বর্তমানে সাইবার ক্যাফগুলোতে অবৈধ ব্যবহারকারীগণ যাতায়াত করেন বলেই প্রসিদ্ধ।
তাই এমন প্রেক্ষাপটে সাইবার ক্যাফ খোলা এবং এর ব্যবসা করা নাজায়েয হবে। কারণ, শরীয়তের একটি মূলনীতি হলো, যে জিনিস জায়েয, নাজায়েয উভয় কাজেই ব্যবহার করা যায় তবে সমাজে সেটাকে সাধারণত নাজায়েয কাজেই ব্যবহার করা হয় সেই জিনিসের ব্যবসা নাজায়েয।

সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ৯/৫৬১, আল বাহরুর রায়েক ৫/ ২৪০, আল মওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ ৯/ ১৫৭, আলাতে জাদীদাহ পৃ: ১৫, আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৪/১২৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 টিভি, ভিডিও ও এগুলোর ক্যাসেটের ব্যবসা করা

📄 টিভি, ভিডিও ও এগুলোর ক্যাসেটের ব্যবসা করা


প্রচলিত টিভি, ভিসিআর ও ভিডিও ইত্যাদি যেহেতু নাজায়েয খেলাধুলা, গান-বাদ্য ও নগ্ন ও অর্ধ নগ্ন নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শনীর মাধ্যম এবং এগুলোতে নারী পুরুষের চরিত্র বিধ্বংসী ও অশ্লীল কথা বার্তা, ছবি ইত্যাদি প্রদর্শিত হয়, যেগুলো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম, তাই টিভি, ভিসিআর, ভিডিও ইত্যাদির দোকান দেওয়া ব্যবসা করা কোন মুসলমানের জন্য জায়েয নয়। এমনি ভাবে, অশ্লীল চরিত্র বিধ্বংসী ও কদর্য গানের ক্যাসেটের ব্যবসা করাও জায়েয নয়। তবে ওয়ায, তিলাওয়াত, বাদ্যবিহীন হামদ-নাত ইত্যাদির ক্যাসেট ক্রয়- বিক্রয় করা জায়েয।

সূত্র: মিশকাত শরীফ ১/২৪২, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/২৭২, আহকামুল কুরআন (থানভী) ৩/৭৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 কুরআনের আয়াত, আযান, দু‘আ ইত্যাদিকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করা

📄 কুরআনের আয়াত, আযান, দু‘আ ইত্যাদিকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করা


বর্তমানে অনেককেই দেখা যায়, নিজেদের মোবাইলের রিংটোন হিসাবে কুরআনের আয়াত, আযান, দু'আ, দরূদ ইত্যাদিকে ব্যবহার করে। বিশেষত: যাদেরকে দ্বীনদার মনে করা হয় বা সমাজে দ্বীনদার হিসাবে পরিচিত তাদের মধ্যে এটা বেশী পরিলক্ষিত হয়। গান বাদ্যকে রিংটোন না বানিয়ে এগুলোকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করাকে তারা এক প্রকার দ্বীনদারীই মনে করে।
অথচ শরীয়তে এটা নাজায়েয। কারণ, আল্লাহ তা'আলা যেমন মহান ও সকল সম্মানের আঁধার, তেমনি তার যিকির ও তাসবীহ একমাত্র তাঁর জন্যই এবং তাঁকে রাজী খুশি করার জন্যই করতে হবে। অন্য কোন দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা তার অবমাননার শামিল। সুতরাং মোবাইলে কল এসেছে, এটা বুঝাবার জন্য রিংটোন হিসাবে আয়াত, আযান, দু'আ, দরূদ এর ব্যবহার মূলত: এসবের অসম্মান করারই নামান্তর। সুতরাং তা জায়েয হতে পারেনা।
এর একটি শরঈ দৃষ্টান্ত হলো, ফুকাহায়ে কেরাম, পাহারাদার জাগ্রত আছে, এ কথা বুঝাবার জন্য উচ্চস্বরে তাসবীহ পড়তে নিষেধ করেছেন। অতএব, কুরআনের আয়াত, আযান, দু'আ, ইত্যাদিকে মোবাইলের রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করা যে নিষেধ হবে তা বলাই বাহুল্য। উপরন্তু, এ মোবাইল টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার পর কল আসলে সেখানে তা বেজে উঠবে। ফলে, নাপাক স্থানে এগুলোকে ব্যবহার করা হবে।
অথচ ফুকাহায়ে কেরাম সর্বসম্মত ভাবে নাপাক স্থানে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করাকে নাজায়েয বলেছেন। সুতরাং ইহা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

সূত্র: ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৪৮, আল মুহীতুল বুরহানী ৮/৫০৮, কাজীখান ৩/৩২৬ আহসানুল ফাতাওয়া ৮/১৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00