📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিউটি পার্লারে গিয়ে মেকআপ করা

📄 বিউটি পার্লারে গিয়ে মেকআপ করা


আজকাল আধুনিকতার কোন জুড়ি নেই। পারিবারিক বিষয়াদী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বরং আন্তর্জাতিক বিষয় পর্যন্ত প্রায় সব কিছুই আধুনিকতার ছাপে করা হয়। যুগ যুগ ধরে মেয়েরা তাদের সাজ সজ্জার জন্য প্রয়োজনে অন্য মেয়ের সহযোগিতা নিয়ে সব কিছু সেরে নিতো। কিন্তু এ কাজটিও এখন আর বাড়ীতে কিংবা অপর নারীর সহযোগিতায় নিজ ঘরে সম্পন্ন করা হলে ছোট লোকের আচরণ বলে মনে করা হয়।
ফলে, আমাদের দেশে ছোট বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন স্থানে এখন পাশ্চাত্যের অনুকরণে অসংখ্য বিউটি পার্লার গড়ে উঠেছে। তরুণী, যুবতীরা বিবাহ কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে গমণ উপলক্ষে সে সব পার্লারে গিয়ে নির্ধারিত ফি আদায় করে সাজ সজ্জা করে থাকে। এর মধ্যে বৈধ সাজ সজ্জাও রয়েছে। কখনো কখনো অবৈধ সাজ সজ্জাও সেখানে করা হয়ে থাকে। যেমন: ভ্রু সরু করা, চুল বব কাটিং করা ইত্যাদি।
প্রশ্নহলো, এভাবে পার্লারে গিয়ে সাজ সজ্জা করা জায়েয কি না? সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে এর মধ্যে কোন অনিষ্টতা কিংবা অসুবিধা নেই। কিন্তু গভীর দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যাবে এ পার্লার বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির লালন কেন্দ্র। এখান থেকে সাজ-গোজের নতুন নতুন এমন মডেল সরবরাহ করা হয় যা অত্যন্ত গর্হিত। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান হলো, সেখানে গিয়ে বৈধ কোন সাজ সজ্জা করার অবকাশ থাকলেও বর্তমানে বদ দ্বীনী, বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও অবাধে চলা ফেরার যে সয়লাব শুরু হয়েছে এবং পার্লারগুলো বিজাতীয় রীতি প্রভাবিত ও নানা রকম পাপ কর্মের কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে যাওয়া জায়েয হবেনা। আর অবৈধ সাজ সজ্জা করার জন্য সেখানে যাওয়া জায়েয হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। সুতরাং সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৭১

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মহিলাদের মাথার চুল কাটা

📄 মহিলাদের মাথার চুল কাটা


শরীয়তের দলীলের আলোকে মহিলাদের চুলের ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক নীতিমালা রয়েছে। যথা:
১. মলিাদের চুল লম্বা থাকবে।
২. পুরুষের চুলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হবেনা।
৩. প্রয়োজনে চুল কাটার ক্ষেত্রে অমুসলিমদের অনুসরণ করা যাবেনা।
উল্লেখিত নীতিমালা অনুযায়ী মহিলাদের চুল লম্বা রাখা জরুরী। স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের জন্য চুল কেটে ছোট করা জায়েয নেই। কেননা, এতে তাদের চুল পুরুষদের চুলের সাদৃশ্য হয়ে যায়, অথবা কাফের ও বদদ্বীন মেয়েদের চুলের সাদৃশ্য হয়ে যায়। আর উভয়টিই শরীয়তে নাজায়েয।
অবশ্য, জরুরতের ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রয়োজন পরিমাণ চুল কাটার বা ছাঁটার অবকাশ শরীয়তে রয়েছে। যেমন হজ্ব বা উমরার পর এহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য চুলের মাথা থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাটা। অথবা অসুস্থতার কারণে ডাক্তারের পরামর্শে চুল কাটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে চুল কাটা ইত্যাদি।

সূত্র: ফতহুল মুলহিম ৩/৮০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মুসলিম মেয়েদের কপালে টিপ দেওয়া

📄 মুসলিম মেয়েদের কপালে টিপ দেওয়া


কপালে টিপ দেওয়া একটি হিন্দুয়ানী প্রথা। শুধু হিন্দুয়ানী প্রথাই নয়; বরং তাদের জাতীয় শি'আর। আর বিধর্মীদের যে কোন প্রথা পালন করাই নাজায়েয। আর তাদের জাতীয় শি'আরের অনুকরণ তো স্পষ্ট হারাম কাজ।
সুতরাং তা পরিত্যাজ্য এবং কোন মেয়ের জন্য কপালে টিপ দেওয়া কখনো জায়েয হতে পারে না।

সূত্র: তাফসীরে কুরতুবী ৯/২৬৬, আবূ দাউদ শরীফ ২/৫৫৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00