📄 হিজাব/বোরকা পরে চেহারা খোলা রাখা
বর্তমানে এটা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে যে, মেয়েরা বোরকা/হিজাব পড়ে চেহারা খোলা রাখে। হিজাব বা বোরকা পরার উদ্দেশ্য যে শরঈ বিধান পর্দা করা তা যেন তারা বেমালুম ভুলেই গেছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, এটা যেন ফ্যাশনের জন্যই তাদেরকে দেয়া হয়েছে। কেননা, পর্দা করার জন্যই যদি এটা পরা হয়ে থাকে তাহেলে চেহারা খোলা রাখা হয় কেন? তাদের প্রতি আকর্ষণ ও রূপ-লাবণ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুই তো এ চেহারা। পুরো শরীর ঢেকে যদি চেহারাই খোলা রাখা হয় তবে রূপ লাবণ্য প্রকাশের আর বাকী থাকল কী? পর্দার বিধানে সুষ্পষ্ট ভাবেই নারীকে চেহারা ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে।
হয়রত ফুকাহায়ে কিরাম নারীর চেহারা ও হাতের কব্জিকে সতর থেকে পৃথক বলে বর্ণনা করেছেনে। এর অর্থ হলো, নামাযের সময় এ দুটি অঙ্গ আবরণ মুক্ত থাকলে নামায হয়ে যাবে। তারা এ ক্ষেত্রে পায়ের পাতাকেও এ হুকুমের মধ্যে গণ্য করেছেন। এতদ্ব্যতীত নারীদের গোটা দেহই সতরের মধ্যে গণ্য। যদি অন্য কোন অঙ্গ খোলা থাকে তবে নামায হবেনা। চেহারা খোলা থাকলেও নামায হয়ে যাবে। এটা হলো নামাযে সতর ঢেকে রাখার বিধান।
কিন্তু গাইরে মাহরাম বা পর পুরুষের সঙ্গে পর্দা করার মূল ভিত্তি হলো, ফিত্নার আশংকা। যা খোলা থাকলে ফিৎনার আশংকা সৃষ্টি হবে, তা আবৃত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য যে, নারীদের প্রধান আকর্ষণ তার মুখমন্ডল। সুতরাং তা পর পুরুষের সামনে খোলা রাখলে অবশ্যই ফিৎনার আশংকা দেখা দিবে। তাই ফুকাহায়ে কিরাম নারীদের মুখ মন্ডল খোলা রাখার অনুমতি দেননি।
সূত্র: সূরা আহযাব, আয়াত-৫৯
📄 মাথায় কৃত্রিম চুল লাগানো
কারো জন্য নিজের ঝরে যাওয়া চুল বা অন্য কোন মানুষের চুল মাথায় লাগানো নাজায়েয। কেউ এমনটি করলে তার ব্যাপারে হাদীসে অভিসম্পাতের কথা বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য, কারো যদি অল্প বয়সে মাথার চুল পড়ে যায় তাহলে প্রয়োজনে কোন প্রাণীর পশম কিংবা কৃত্রিম চুল মাথায় লাগানো জায়েয আছে। এটা শরঈ নিষিদ্ধতার আওতাভুক্ত নয়।
সূত্র: সহীহ বুখারী ২/৮৭৮, উমদাতুল কারী ১৮/১১৫, রদ্দুল মুহতার ২/৩৮২, হিন্দিয়্যা ৫/৩৫৮, আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৭৫
📄 বিউটি পার্লারে গিয়ে মেকআপ করা
আজকাল আধুনিকতার কোন জুড়ি নেই। পারিবারিক বিষয়াদী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বরং আন্তর্জাতিক বিষয় পর্যন্ত প্রায় সব কিছুই আধুনিকতার ছাপে করা হয়। যুগ যুগ ধরে মেয়েরা তাদের সাজ সজ্জার জন্য প্রয়োজনে অন্য মেয়ের সহযোগিতা নিয়ে সব কিছু সেরে নিতো। কিন্তু এ কাজটিও এখন আর বাড়ীতে কিংবা অপর নারীর সহযোগিতায় নিজ ঘরে সম্পন্ন করা হলে ছোট লোকের আচরণ বলে মনে করা হয়।
ফলে, আমাদের দেশে ছোট বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন স্থানে এখন পাশ্চাত্যের অনুকরণে অসংখ্য বিউটি পার্লার গড়ে উঠেছে। তরুণী, যুবতীরা বিবাহ কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে গমণ উপলক্ষে সে সব পার্লারে গিয়ে নির্ধারিত ফি আদায় করে সাজ সজ্জা করে থাকে। এর মধ্যে বৈধ সাজ সজ্জাও রয়েছে। কখনো কখনো অবৈধ সাজ সজ্জাও সেখানে করা হয়ে থাকে। যেমন: ভ্রু সরু করা, চুল বব কাটিং করা ইত্যাদি।
প্রশ্নহলো, এভাবে পার্লারে গিয়ে সাজ সজ্জা করা জায়েয কি না? সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে এর মধ্যে কোন অনিষ্টতা কিংবা অসুবিধা নেই। কিন্তু গভীর দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যাবে এ পার্লার বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতির লালন কেন্দ্র। এখান থেকে সাজ-গোজের নতুন নতুন এমন মডেল সরবরাহ করা হয় যা অত্যন্ত গর্হিত। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান হলো, সেখানে গিয়ে বৈধ কোন সাজ সজ্জা করার অবকাশ থাকলেও বর্তমানে বদ দ্বীনী, বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও অবাধে চলা ফেরার যে সয়লাব শুরু হয়েছে এবং পার্লারগুলো বিজাতীয় রীতি প্রভাবিত ও নানা রকম পাপ কর্মের কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে যাওয়া জায়েয হবেনা। আর অবৈধ সাজ সজ্জা করার জন্য সেখানে যাওয়া জায়েয হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। সুতরাং সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৭১
📄 মহিলাদের মাথার চুল কাটা
শরীয়তের দলীলের আলোকে মহিলাদের চুলের ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক নীতিমালা রয়েছে। যথা:
১. মলিাদের চুল লম্বা থাকবে।
২. পুরুষের চুলের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হবেনা।
৩. প্রয়োজনে চুল কাটার ক্ষেত্রে অমুসলিমদের অনুসরণ করা যাবেনা।
উল্লেখিত নীতিমালা অনুযায়ী মহিলাদের চুল লম্বা রাখা জরুরী। স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের জন্য চুল কেটে ছোট করা জায়েয নেই। কেননা, এতে তাদের চুল পুরুষদের চুলের সাদৃশ্য হয়ে যায়, অথবা কাফের ও বদদ্বীন মেয়েদের চুলের সাদৃশ্য হয়ে যায়। আর উভয়টিই শরীয়তে নাজায়েয।
অবশ্য, জরুরতের ক্ষেত্রে মেয়েদের প্রয়োজন পরিমাণ চুল কাটার বা ছাঁটার অবকাশ শরীয়তে রয়েছে। যেমন হজ্ব বা উমরার পর এহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য চুলের মাথা থেকে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাটা। অথবা অসুস্থতার কারণে ডাক্তারের পরামর্শে চুল কাটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে চুল কাটা ইত্যাদি।
সূত্র: ফতহুল মুলহিম ৩/৮০