📄 মেয়েদের স্কুল-কলেজে পড়া-লেখা করা
শরীয়তে ইসলামীর চাহিদা হলো, জাগতিক বিষয়ে মেয়েদের সাধাসিধা থাকা এবং বেশী চতুর না হওয়া। এটাই তাদের জন্য মর্যাদার বিষয়। আর আধুনিক শিক্ষায় বেশী শিক্ষিত হলে মেয়েরা সাধারণত: দুরন্ত ও চতুর হয়ে যায়।
তাছাড়া, বর্তমানে ফিতনা ফাসাদের যে প্রাবল্য সে ক্ষেত্রে মেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় বেশী শিক্ষিত হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর হয়ে থাকে। সেই হিসাবে কুরআনে করীম ও দ্বীনী শিক্ষাই তাদের জন্য যথেষ্ট।
আর তাদের স্কুল-কলেজে দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জন করার বিষয়টি স্বাভাবিক অবস্থায় যদিও মুবাহ কিন্তু নিজের দ্বীন, ঈমান আমল হিফাজত করার বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বর্তমানে স্কুল-কলেজে মেয়েদের দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে এমন কিছু সমস্যা বিদ্যমান যাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের দ্বীন ঈমান আমল বরবাদ হয়ে যায়। এর মধ্যে নিন্মে কয়েকটি প্রদত্ত হলো:
(১) সহ শিক্ষা হলে ছেলে মেয়েদের অবাধ মেলা মেশার কারণে তাদের চারিত্রিক অধপতন ও পারষ্পরিক অবৈধ প্রেম ভালবাসা সহ বহু ফেতনা ও শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ডের দ্বার উন্মোচিত হয়।
(২) বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেগানা পুরুষদের দ্বারা পর্দার হুকুম লঙ্ঘন করে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
(৩) বদদ্বীন ও ফাসেকা নারীদের সাথে পর্দা করার শরঈ হুকুম থাকলেও এক্ষেত্রে তা অমান্য করে তাদের থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়।
(৪) কলেজ ইউনিভার্সিটির রেওয়াজ অনুযায়ী সেখানকার শরীয়ত বিরোধী নানা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে হয়।
(৫) স্বামীর খেদমত, সন্তান লালন-পালন ও ঘরোয়া কাজ কর্মের প্রতি উদাসীন হয়ে অফিস আদালতে চাকুরী করার প্রতি উৎসাহ তৈরী হয়।
(৬) এছাড়া, শিক্ষা সিলেবাসে কোন কোন ক্ষেত্রে শরীয়ত বিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়।
সুতরাং মেয়েদের স্কুল কলেজে পড়তে গিয়ে যেহেতু উল্লেখিত সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় তাই প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার পর মেয়েদের স্কুল কলেজে বেশি পড়া-পড়ানো ঠিক নয়।
এতদসত্বেও যদি স্কুল কলেজে মহিলা শিক্ষিকাদের মাধ্যমেই মেয়েদেরকে পাঠ দান করা হয় এবং পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়, এছাড়া বর্ণিত অন্যান্য ফিতনার রাস্তাও বন্ধ থাকে তাহলে শরীয়তের সীমা রেখার মধ্যে থেকে মেয়েরা স্কুল কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত ৩২-৩৩, সহীহ বুখারী ১/২০, মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৩৬৪, ফাতাওয়া হক্কানিয়া ২/১২৬
📄 নারীদের পাতলা ও আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা
অনেক অভিভাবক আছে, যারা তাদের যুবতী মেয়েকে পাতলা ও আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করায়। আর মেয়েরাও এমন পোশাক পরিধান করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। কিছু কিছু স্বামীও আছে যারা তাদের স্ত্রীকে এমন পোশাক পরিধান করিয়ে বিনোদন লাভ করে থাকে।
সত্যি বলতে কী, এদের রুচিবোধের উপর করুনা না করে পারিনা। কারণ, স্বাভাবিক ও সুস্থ রুচিবোধ থাকলে কেউ নিজের বা নিজের আপনজনের কোন গোপন অঙ্গ বা অঙ্গের আয়তন অন্যের সম্মুখে প্রকাশিত হোক তা কামনা করতে পারেনা। উপরন্তু, মেয়েদের পাতলা ফিনফিনে পোশাক পরিধানের ফলে তাদের লজ্জা শরম, ইজ্জত আবরু ও মান-সম্মান লোপ পায়। ঠিক তেমনি ভাবে, অন্যের লোভনীয় দৃষ্টিতে পড়ে ধর্ষণ সহ তারা অনেক অঘটনের শিকার হয়।
এ কারণে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দু দল জাহান্নামী আছে, আমি যাদেরকে দেখতে পাইনি। তাদের একদল হলো, সেসকল নারী যারা পোষাক পরিধান করেও উলঙ্গ। তারা অন্যকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্যের দিকে আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা উটের কুঁজের ন্যায় (উঁচু ও বাঁকা) হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং জান্নাতের ঘ্রাণ ও পাবেনা। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ এত এত দূর থেকেও পাওয়া যায়।
সূত্র: মুসলিম শরীফ ২/২০৫, মিশকাত পৃ: ৩০৬
📄 পীরের সাথে পর্দা না করা
আমাদের সমাজে কিছু ভন্ডপীর আছে, যারা নারীদেরকে মুরীদ করে। আর নারীরা ও পীর বাবার প্রতি পূর্ণ ভক্তি সহকারে তার সামনে এসে যায়; সবক গ্রহণ করে। সুখ দুঃখের কথা বলে, শুনে। আর পীর বাবাও নারী আসলে বসে মিষ্টি মধুর বাক্যালাপে অনেক সময় রাত পর্যন্ত কাটিয়ে দেয়। কখনো আবার নারী মুরীদ পীরের নির্দেশ পালনে কিংবা পীরের ফয়েজ বরকত পেতে পীরের শারীরিক খেদমত সহ সব রকমের খেদমত ও সেবা প্রদান করতে কুসূর করেনা। পীরের সাথে পর্দা করার কোন ধারণাও তাদের নেই।
আর পীর ও তাদেরকে পর্দা করতে বলেনা বলে তাদের মনে একথা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, পীর-মুর্শীদের সাথে পর্দা করতে হয়না।
অথচ শরীয়তের বিধান হলো, পীর যদি গাইরে মাহরাম হয় তবে তার সাথেও পর্দা করতে হবে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পর্দার আড়াল থেকে একজন মহিলা লিখিত একটি কাগজের টুকরা দেয়ার জন্য হাত বাড়ালে তিনি হাত সরিয়ে নেন এবং বলেন, এ হাত কি কোন নারীর না পুরুষের? মহিলাটি বলল, এটি নারীর হাত। জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম_বললেন, তোমার নখের শুভ্রতা মেহেদি দ্বারা বদলে দেয়া উচিৎ ছিল, যাতে পুরুষের হাত না নারীর হাত তা বুঝা যায়। সূত্র: আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৬৬
তো রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বড় পীর ও বুযুর্গ আর কে হতে পারে? তিনিই যখন মহিলাকে নিজের সামনে আসতে দেননি তখন এ ভন্ড পীরেরা নারী মজলিসে বসে খোশ গল্প করে কী করে? বস্তুত: এসব বেশরা পীর নিজেও জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সাথে সাথে মুরীদদেরকেও জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে。
📄 হিজাব/বোরকা পরে চেহারা খোলা রাখা
বর্তমানে এটা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে যে, মেয়েরা বোরকা/হিজাব পড়ে চেহারা খোলা রাখে। হিজাব বা বোরকা পরার উদ্দেশ্য যে শরঈ বিধান পর্দা করা তা যেন তারা বেমালুম ভুলেই গেছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, এটা যেন ফ্যাশনের জন্যই তাদেরকে দেয়া হয়েছে। কেননা, পর্দা করার জন্যই যদি এটা পরা হয়ে থাকে তাহেলে চেহারা খোলা রাখা হয় কেন? তাদের প্রতি আকর্ষণ ও রূপ-লাবণ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দুই তো এ চেহারা। পুরো শরীর ঢেকে যদি চেহারাই খোলা রাখা হয় তবে রূপ লাবণ্য প্রকাশের আর বাকী থাকল কী? পর্দার বিধানে সুষ্পষ্ট ভাবেই নারীকে চেহারা ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে।
হয়রত ফুকাহায়ে কিরাম নারীর চেহারা ও হাতের কব্জিকে সতর থেকে পৃথক বলে বর্ণনা করেছেনে। এর অর্থ হলো, নামাযের সময় এ দুটি অঙ্গ আবরণ মুক্ত থাকলে নামায হয়ে যাবে। তারা এ ক্ষেত্রে পায়ের পাতাকেও এ হুকুমের মধ্যে গণ্য করেছেন। এতদ্ব্যতীত নারীদের গোটা দেহই সতরের মধ্যে গণ্য। যদি অন্য কোন অঙ্গ খোলা থাকে তবে নামায হবেনা। চেহারা খোলা থাকলেও নামায হয়ে যাবে। এটা হলো নামাযে সতর ঢেকে রাখার বিধান।
কিন্তু গাইরে মাহরাম বা পর পুরুষের সঙ্গে পর্দা করার মূল ভিত্তি হলো, ফিত্নার আশংকা। যা খোলা থাকলে ফিৎনার আশংকা সৃষ্টি হবে, তা আবৃত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য যে, নারীদের প্রধান আকর্ষণ তার মুখমন্ডল। সুতরাং তা পর পুরুষের সামনে খোলা রাখলে অবশ্যই ফিৎনার আশংকা দেখা দিবে। তাই ফুকাহায়ে কিরাম নারীদের মুখ মন্ডল খোলা রাখার অনুমতি দেননি।
সূত্র: সূরা আহযাব, আয়াত-৫৯