📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 গাইরে মাহরামকে ধর্মের আত্মীয় বানিয়ে তার সাথে মাহরামের ন্যায় আচরণ করা

📄 গাইরে মাহরামকে ধর্মের আত্মীয় বানিয়ে তার সাথে মাহরামের ন্যায় আচরণ করা


আমাদের সমাজে কোথাও কোথাও দেখা যায় যে, একজন গাইরে মাহরাম পুরুষ অন্য একজন আজনবী মহিলাকে মা/বোন/খালা ইত্যাদি ডাকে। অতপর সেই কথিত মা, বোন, বা খালার সাথে আপন মা, বোন, বা খালার ন্যায় আচরণ করে এবং কথিত ঐমহিলাও ঐ পুরুষকে আপন সন্তান, ভাই, ভাগিনার ন্যায় আচরণ করে। অর্থাৎ তাদের পরষ্পরে শরঈ পর্দার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ থাকেনা; বরং অবাধে চলাফেরা, মেলামেশা করতে থাকে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে এধরণের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ ও আপন হয়ে থাকে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে পারষ্পরিক এ ধরণের সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। কারণ, একজন আরেকজনকে মা, বাবা, ভাই, বোন, সন্তান ইত্যাদি বানানোর দ্বারা শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা প্রকৃত মা, বাবা, বা ভাই, বোন বা সন্তান সাব্যস্ত হয়না এবং তাদের পরষ্পরে মাহরামের সম্পর্ক স্থাপিত হয়না; বরং তারা পরষ্পরে গাইরে মাহরামই থেকে যায়। কাজেই, তদের পরষ্পরে পর্দা রক্ষা করা জরুরী।

সূত্র: সূরা আহযাব, আয়াত- ৪, বাদায়েউস সনায়ে ৪/২৯৩, হিন্দিয়‍্যাহ ৫/৩২৯, ফতহুল কাদীর ১০/২৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মহিলাদের পর্দা সহ সেজেগোজ কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করা

📄 মহিলাদের পর্দা সহ সেজেগোজ কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করা


মহিলাদের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ হলো, তারা নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করবে। দ্বীনী বা দুনিয়াবী একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেনা। যদি একান্ত প্রয়োজনে তাদের ঘরের বাইরে বের হতেই হয়, তাহলে পূর্ণ শরঈ পর্দা করত: সাজগোজ করা ছাড়া সুগন্ধী ব্যবহার না করে সাধারণ পোষাকে ঘরের বাইরে যাবে।
সুতরাং শরীয়তের এ মূল নীতির আলোকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মেয়েদের জন্য সাজগোজ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া বৈধ হবেনা। হ্যাঁ ঘরের বাইরে বের না হয়ে তারা মুসলিম মহিলাদের সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে; অমুসলিম মহিলাদের সামনে নয়।
তাছাড়া, মুসলিম ফাসেক ও পাপাচারী নারীদের সামনেও তাদের সাজ সজ্জা সৌন্দর্য প্রকাশ না করা বাঞ্চনীয়। কেননা, এমন মহিলারা সাধারণত পুরুষদের সম্মুখে পর নারীর রূপ সৌন্দর্য, সাজ-সজ্জা বর্ণনা করে বেড়ায় যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয।

সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত-৩৩, সুনানে তিরমিযী ১/২২২, আহকামুল কুরআন ৩/৩১৯, রদ্দুল মুহতার ৩/৬০৩, হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ ২/১২৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মেয়েদের স্কুল-কলেজে পড়া-লেখা করা

📄 মেয়েদের স্কুল-কলেজে পড়া-লেখা করা


শরীয়তে ইসলামীর চাহিদা হলো, জাগতিক বিষয়ে মেয়েদের সাধাসিধা থাকা এবং বেশী চতুর না হওয়া। এটাই তাদের জন্য মর্যাদার বিষয়। আর আধুনিক শিক্ষায় বেশী শিক্ষিত হলে মেয়েরা সাধারণত: দুরন্ত ও চতুর হয়ে যায়।
তাছাড়া, বর্তমানে ফিতনা ফাসাদের যে প্রাবল্য সে ক্ষেত্রে মেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় বেশী শিক্ষিত হওয়া অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর হয়ে থাকে। সেই হিসাবে কুরআনে করীম ও দ্বীনী শিক্ষাই তাদের জন্য যথেষ্ট।
আর তাদের স্কুল-কলেজে দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জন করার বিষয়টি স্বাভাবিক অবস্থায় যদিও মুবাহ কিন্তু নিজের দ্বীন, ঈমান আমল হিফাজত করার বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বর্তমানে স্কুল-কলেজে মেয়েদের দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে এমন কিছু সমস্যা বিদ্যমান যাতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের দ্বীন ঈমান আমল বরবাদ হয়ে যায়। এর মধ্যে নিন্মে কয়েকটি প্রদত্ত হলো:
(১) সহ শিক্ষা হলে ছেলে মেয়েদের অবাধ মেলা মেশার কারণে তাদের চারিত্রিক অধপতন ও পারষ্পরিক অবৈধ প্রেম ভালবাসা সহ বহু ফেতনা ও শরীয়ত বিরোধী কর্মকাণ্ডের দ্বার উন্মোচিত হয়।
(২) বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেগানা পুরুষদের দ্বারা পর্দার হুকুম লঙ্ঘন করে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
(৩) বদদ্বীন ও ফাসেকা নারীদের সাথে পর্দা করার শরঈ হুকুম থাকলেও এক্ষেত্রে তা অমান্য করে তাদের থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়।
(৪) কলেজ ইউনিভার্সিটির রেওয়াজ অনুযায়ী সেখানকার শরীয়ত বিরোধী নানা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে হয়।
(৫) স্বামীর খেদমত, সন্তান লালন-পালন ও ঘরোয়া কাজ কর্মের প্রতি উদাসীন হয়ে অফিস আদালতে চাকুরী করার প্রতি উৎসাহ তৈরী হয়।
(৬) এছাড়া, শিক্ষা সিলেবাসে কোন কোন ক্ষেত্রে শরীয়ত বিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়।
সুতরাং মেয়েদের স্কুল কলেজে পড়তে গিয়ে যেহেতু উল্লেখিত সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয় তাই প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার পর মেয়েদের স্কুল কলেজে বেশি পড়া-পড়ানো ঠিক নয়।
এতদসত্বেও যদি স্কুল কলেজে মহিলা শিক্ষিকাদের মাধ্যমেই মেয়েদেরকে পাঠ দান করা হয় এবং পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়, এছাড়া বর্ণিত অন্যান্য ফিতনার রাস্তাও বন্ধ থাকে তাহলে শরীয়তের সীমা রেখার মধ্যে থেকে মেয়েরা স্কুল কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।

সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত ৩২-৩৩, সহীহ বুখারী ১/২০, মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৩৬৪, ফাতাওয়া হক্কানিয়া ২/১২৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 নারীদের পাতলা ও আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা

📄 নারীদের পাতলা ও আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা


অনেক অভিভাবক আছে, যারা তাদের যুবতী মেয়েকে পাতলা ও আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করায়। আর মেয়েরাও এমন পোশাক পরিধান করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। কিছু কিছু স্বামীও আছে যারা তাদের স্ত্রীকে এমন পোশাক পরিধান করিয়ে বিনোদন লাভ করে থাকে।
সত্যি বলতে কী, এদের রুচিবোধের উপর করুনা না করে পারিনা। কারণ, স্বাভাবিক ও সুস্থ রুচিবোধ থাকলে কেউ নিজের বা নিজের আপনজনের কোন গোপন অঙ্গ বা অঙ্গের আয়তন অন্যের সম্মুখে প্রকাশিত হোক তা কামনা করতে পারেনা। উপরন্তু, মেয়েদের পাতলা ফিনফিনে পোশাক পরিধানের ফলে তাদের লজ্জা শরম, ইজ্জত আবরু ও মান-সম্মান লোপ পায়। ঠিক তেমনি ভাবে, অন্যের লোভনীয় দৃষ্টিতে পড়ে ধর্ষণ সহ তারা অনেক অঘটনের শিকার হয়।
এ কারণে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দু দল জাহান্নামী আছে, আমি যাদেরকে দেখতে পাইনি। তাদের একদল হলো, সেসকল নারী যারা পোষাক পরিধান করেও উলঙ্গ। তারা অন্যকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও অন্যের দিকে আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা উটের কুঁজের ন্যায় (উঁচু ও বাঁকা) হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবেনা এবং জান্নাতের ঘ্রাণ ও পাবেনা। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ এত এত দূর থেকেও পাওয়া যায়।

সূত্র: মুসলিম শরীফ ২/২০৫, মিশকাত পৃ: ৩০৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00