📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 গাইরে মাহরামকে সালাম দেওয়া বা সালামের উত্তর দেওয়া

📄 গাইরে মাহরামকে সালাম দেওয়া বা সালামের উত্তর দেওয়া


বেগানা পুরুষ বা মহিলার জন্য একে অপরকে সালাম দেওয়া বা সালামের জবাব দেওয়া জায়েয নেই। আর যদি এদের কেউ অন্যকে সালাম দিয়ে ফেলে তাহলে অপর জন মনে মনে সালামের উত্তর দিবে; মুখে স্বশব্দে নয়। আর যদি মহিলা অতি বৃদ্ধা হয় এবং ফিতনার আশংকা না থাকে তাহলে এমন ক্ষেত্রে বিশেষ কোন প্রয়োজনে যদি একে অপরের সাথে কথা বলার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে সালাম দেওয়া বা সালামের উত্তর দেওয়া জায়েয আছে।

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া /৮৪২, রদ্দুল মুহতার ৫/২৩৬, তাকমিলা ৫/১৫৮, আলমগীরি ৫/৩২৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বেগানা মহিলাদেরকে ঝাড় ফুঁক করা

📄 বেগানা মহিলাদেরকে ঝাড় ফুঁক করা


কোন কোন নামধারী কবিরাজ আছেন যারা বেপর্দা নারী ও যুবতীদেরকে চিকিৎসার নামে ঝাড় ফুঁক করেন এবং তাদের সাথে অবাধে দেখা সাক্ষাত করেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এমন কবিরাজ ভণ্ড ও ফাসেক। কাজেই, এদের থেকে দূরে থাকা এবং সতর্ক থাকা সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। কেননা, শরীয়তের দৃষ্টিতে পর্দা রক্ষা করা ফরজ। আর কোন পুরুষের জন্য বেগানা মহিলার সাথে বেপর্দা অবস্থায় দেখা সাক্ষাত করা হারাম ও নাজায়েয।

সূত্র: সূরা মুমিনূন, আয়াত- ৫, মিশকাত শরীফ ১/২০, হিদায়াহ ৪/৪৪৪

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 গাইরে মাহরামকে ধর্মের আত্মীয় বানিয়ে তার সাথে মাহরামের ন্যায় আচরণ করা

📄 গাইরে মাহরামকে ধর্মের আত্মীয় বানিয়ে তার সাথে মাহরামের ন্যায় আচরণ করা


আমাদের সমাজে কোথাও কোথাও দেখা যায় যে, একজন গাইরে মাহরাম পুরুষ অন্য একজন আজনবী মহিলাকে মা/বোন/খালা ইত্যাদি ডাকে। অতপর সেই কথিত মা, বোন, বা খালার সাথে আপন মা, বোন, বা খালার ন্যায় আচরণ করে এবং কথিত ঐমহিলাও ঐ পুরুষকে আপন সন্তান, ভাই, ভাগিনার ন্যায় আচরণ করে। অর্থাৎ তাদের পরষ্পরে শরঈ পর্দার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ থাকেনা; বরং অবাধে চলাফেরা, মেলামেশা করতে থাকে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে এধরণের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ ও আপন হয়ে থাকে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে পারষ্পরিক এ ধরণের সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। কারণ, একজন আরেকজনকে মা, বাবা, ভাই, বোন, সন্তান ইত্যাদি বানানোর দ্বারা শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে তারা প্রকৃত মা, বাবা, বা ভাই, বোন বা সন্তান সাব্যস্ত হয়না এবং তাদের পরষ্পরে মাহরামের সম্পর্ক স্থাপিত হয়না; বরং তারা পরষ্পরে গাইরে মাহরামই থেকে যায়। কাজেই, তদের পরষ্পরে পর্দা রক্ষা করা জরুরী।

সূত্র: সূরা আহযাব, আয়াত- ৪, বাদায়েউস সনায়ে ৪/২৯৩, হিন্দিয়‍্যাহ ৫/৩২৯, ফতহুল কাদীর ১০/২৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মহিলাদের পর্দা সহ সেজেগোজ কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করা

📄 মহিলাদের পর্দা সহ সেজেগোজ কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করা


মহিলাদের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ হলো, তারা নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করবে। দ্বীনী বা দুনিয়াবী একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেনা। যদি একান্ত প্রয়োজনে তাদের ঘরের বাইরে বের হতেই হয়, তাহলে পূর্ণ শরঈ পর্দা করত: সাজগোজ করা ছাড়া সুগন্ধী ব্যবহার না করে সাধারণ পোষাকে ঘরের বাইরে যাবে।
সুতরাং শরীয়তের এ মূল নীতির আলোকে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মেয়েদের জন্য সাজগোজ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাওয়া বৈধ হবেনা। হ্যাঁ ঘরের বাইরে বের না হয়ে তারা মুসলিম মহিলাদের সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারবে; অমুসলিম মহিলাদের সামনে নয়।
তাছাড়া, মুসলিম ফাসেক ও পাপাচারী নারীদের সামনেও তাদের সাজ সজ্জা সৌন্দর্য প্রকাশ না করা বাঞ্চনীয়। কেননা, এমন মহিলারা সাধারণত পুরুষদের সম্মুখে পর নারীর রূপ সৌন্দর্য, সাজ-সজ্জা বর্ণনা করে বেড়ায় যা শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয।

সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত-৩৩, সুনানে তিরমিযী ১/২২২, আহকামুল কুরআন ৩/৩১৯, রদ্দুল মুহতার ৩/৬০৩, হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ ২/১২৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00