📄 দুলাভাইয়ের সাথে বেড়াতে যাওয়া
মহিলার জন্য আপন দুলাভাইয়ের সাথে পর্দা করা ফরজ। কারণ, মূল নীতি হলো, যেই মহিলা কোন পুরুষের জন্য সর্বদা বিবাহ করা হারাম কেবল ঐ পুরুষের সাথে পর্দা করতে হয় না। আর শ্যালিকাকে বিবাহ করা দুলাভাইয়ের জন্য সর্বদা হারাম নয়; বরং হারাম হওয়াটা সাময়িক কারণে হয়ে থাকে। এ কারণেই যদি শ্যালিকার বিবাহিতা বোন মৃত্যু বরণ করে কিংবা তাকে দুলাভাই তালাক দিয়ে দেয় তাহলে ইদ্দত পালন করার পর দুলাভাইয়ের জন্য ঐ শ্যালিকাকে বিবাহ করা বৈধ আছে।
অনুরূপ ভাবে, এ ধরণের সাময়িক ভাবে বিবাহ করা হারাম প্রত্যেক বিবাহিতা নারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কেননা, বিবাহিতা এ নারীকে বিবাহ করা তো পৃথিবীর অন্য কোন পুরুষের জন্য হারাম। এখন যদি এ সাময়িক হারাম হওয়ার কারণে পর্দার হুকুম রহিত হয়ে যায় তবে তো বিবাহিতা নারীর জন্য কারো সাথে পর্দা করার ফরজ অবশিষ্ট থাকবে না।
সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৪০, সূরা আহযাব, আয়াত- ৫৩
📄 মহিলাদের জন্য পর্দার সাথে বিনোদনে বের হওয়া
মেয়েরা যদি বোরকা পরে পর্দার সাথে স্বীয় স্বামী, পিতা বা অন্য কোন মাহরামের সাথে বিনোদনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গমণ করে, যেমন: চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, বিভিন্ন পার্ক ইত্যাদিতে গমণ করে তবে তা জায়েয হবে কিনা? এ ব্যাপারে শরীয়তের বক্তব্য হলো, কুরআন ও হাদীসে মহিলাদেরকে পর্দায় থাকতে এবং বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কুরআন-হাদীসের সে সমস্ত নির্দেশনা ও বর্তমানের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর প্রতীয়মান হয় যে, বিনোদনের উদ্দেশ্যে মহিলাদের জন্য পর্দা সহকারে কোন মাহরাম আত্মীয়ের সাথেও ঘরের বাইরে বের হওয়া জায়েয নেই।
সুতরাং কোন মহিলা যদি শরীয়তের এ হুকুম অমান্য করে বিনোদনের উদ্দেশ্যে এভাবে কোথাও গমণ করে তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট মহিলার সাথে তার মাহরামও গুনাহগার হবে এবং তাদের সকলের জন্য এহেন পাপ থেকে তওবা করা অপরিহার্য হবে।
শরীয়ত কর্তৃক উল্লেখিত হুকুম আরোপের বাহ্যিক কতিপয় কারণ ও হিকমত সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে প্রদত্ত হলো;
এক. কুরআন ও হাদীসের বহু দলীল দ্বারা এ কথা সুপ্রমাণিত আছে যে, মহিলাদের জন্য বিনা প্রয়োজনে পর্দা সহকারেও ঘরের বাইরে বের হওয়া হারাম ও নাজায়েয। আর বিনোদনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া কোন প্রয়োজনের মধ্যে পড়েনা। সূত্র: সূরা আহযাব, আয়াত- ৩
দুই. মহিলা যদি বোরকা পরিধান করেও ঘরের বাইরে বের হয় তবুও তার দৃষ্টি অনেক মাহরামের উপর পতিত হবে। অথচ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাহাতুল মুমিনীনকে একজন মুত্তাকী অন্ধ সাহাবীর দিকে তাকাতে নিষেধ করেছিলেন। সূত্র: আবূ দাউদ হাদীস নং ৪১১২
তিন. বাইরে বের হলে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ নগ্ন-অর্ধনগ্ন নারী ও নারীর ছবি নজরে পড়তে পারে। এতে অন্তর কলুষিত হবে।
চার. গান বাদ্যের আওয়াজ কান দিয়ে ঢুকবে। ফলে, এটা অন্তরে বিরূপ ক্রিয়া সৃষ্টি করবে।
পাঁচ. বর্তমানে ফিৎনা ফাসাদের প্রাবল্যের কারণে পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে। বাইরে বের হলে এটা ক্ষতিকর প্রভাব বয়ে আনবে।
ছয়. পর্দা সহকারে ঘরের বাইরে বের হলেও বখাটে পুরুষ ঐ মহিলার দিকে তাকাবে এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হবে। আর এর পিছনে কারণ হবে এ মহিলা। কাজেই,-এ মহিলাও গুনাহগার হবে।
এসকল সমস্যাবলী যদিও পুরুষ ঘর থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও বিদ্যমান আছে। তদুপরি, পুরুষ ও মহিলার বাইরে বের হওয়ার মধ্যে কিছু ব্যবধান রয়েছে। যেমন:
(ক) পুরুষের বের হওয়া যেহেতু দ্বীনি কিংবা দুনিয়াবী কোন না কোন প্রয়োজনেই হয়ে থাকে তাই আল্লাহ তা'আলা তাকে হিফাজত করে থাকেন। আর বিনোদনের উদ্দেশ্যে মহিলার বের হওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রয়োজন বিদ্যমান নেই।
(খ) স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্যও পুরুষের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া প্রয়োজন। আর মহিলাদের জন্য এ প্রয়োজন নেই। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বিভিন্ন প্রকার মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। যেই জিনিসের সুস্থতার জন্য যা জরুরী আল্লাহ তা'আলা ঐ জিনিসকে ঐ পরিবেশে থাকার বন্দোবস্ত করে দেন。
📄 মাহরাম বিহীন মহিলার জন্য অপর মাহরাম সম্পন্ন মহিলার সাথে ভ্রমণ করা
অনেক সময় দেখা যায়, কোন দ্বীনদার মহিলা তার কোন মাহরাম পুরুষের সাথে হজ্জ্ব কিংবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে সফরে রওয়ানা হচ্ছে। এমতাবস্থায় অন্য কোন মহিলা স্বীয় মাহরাম ব্যতীত উপরোক্ত মহিলার সাথে ঐ সফরে রওয়ানা হয়ে যান।
শরীয়তে মাহরাম বিহীন ভাবে এ মহিলার জন্য উক্ত সফর করা নাজায়েয ও হারাম। যদিও এ মহিলা অতিশয় বৃদ্ধাই হোক না কেন? কারণ, এ ব্যাপারে হাদীসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। সূত্র : আহসানুল ফাতাওয়া ৮/২৯, রদ্দুল মুহতার ২/৬২১
অবশ্য, ঐ মহিলার সাথে যদি কোন মাহরাম পুরুষ কিংবা অন্তত পক্ষে বার বৎসর বয়সের কোন মাহরাম বালক থাকে যে সচেতন এবং বিবেক বুদ্ধি ও দৈহিক ভাবে তাকে প্রাপ্ত বয়স্ক বালকের ন্যায় মনে হয় তাহলে এমন মাহরামের সাথে ঐ মহিলার সফর করা জায়েয আছে।
সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/৩০, ইমদাদুল আহকাম ৪/৪০৫
📄 গাইরে মাহরামকে সালাম দেওয়া বা সালামের উত্তর দেওয়া
বেগানা পুরুষ বা মহিলার জন্য একে অপরকে সালাম দেওয়া বা সালামের জবাব দেওয়া জায়েয নেই। আর যদি এদের কেউ অন্যকে সালাম দিয়ে ফেলে তাহলে অপর জন মনে মনে সালামের উত্তর দিবে; মুখে স্বশব্দে নয়। আর যদি মহিলা অতি বৃদ্ধা হয় এবং ফিতনার আশংকা না থাকে তাহলে এমন ক্ষেত্রে বিশেষ কোন প্রয়োজনে যদি একে অপরের সাথে কথা বলার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে সালাম দেওয়া বা সালামের উত্তর দেওয়া জায়েয আছে।
সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া /৮৪২, রদ্দুল মুহতার ৫/২৩৬, তাকমিলা ৫/১৫৮, আলমগীরি ৫/৩২৬