📄 স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পরও তাকে নিয়ে ঘর সংসার করা
তালাকের ব্যাপারে আমাদের সমাজে জঘণ্যতম যে ভ্রান্তিটি রয়েছে তা হলো, তিন তালাকের কমকে মানুষ সাধারণত: তালাকই মনে করেনা। তারা মনে করে এক তালাক বা দুই তালাক দিলে তালাকই হয়না। একারণেই তালাক দেয়ার পরিস্থিতি তৈরী হলে তারা তিন তালাকের কমে ক্ষান্ত হয়না। অথচ এক তালাক দিলেই তালাকের উদ্দেশ্য সাধিত হয়ে যায়। আর প্রকৃতসত্য হলো এই যে, এক তালাক দেয়াই শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক প্রদানের সঠিক ও উত্তম পদ্ধতি। কারণ, এভাবে তালাক দিলে পরবর্তীতে বেবাহিক সম্পর্ক পূর্ণবহালের সুযোগ থাকে।
এক সাথে তিন তালাক দেওয়া শরীয়তে নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ। আর এ গুনাহের প্রাথমিক শাস্তি হলো, পরবর্তীতে ইচ্ছা থকলেও বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্ণবহালের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়া। হানাফী, শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী তথা চারও মাযহাবই এ ব্যাপারে একমত।
অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী যদি এক তালাক দিয়ে থেমে যায় তাহলে স্ত্রী বা অন্য কেউ তাকে কটু কথা বলে বা অন্য কোন উপায়ে তাকে আরো উত্তেজিত করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাতে সে তিন তালাক দিতে বাধ্য হয়।
মোটকথা, তিন তালাক দেওয়ার পরই কেবল স্বামী-স্ত্রীর রাগ দমন হয়। উত্তেজনা প্রশমিত হয়। পরিবার-পরিজনের ক্রোধেও ভাটা পড়ে। সকলের হুঁশ ফিরে আসে। তখন শুরু হয় কন্নাকাটি। কারণ, এতক্ষণে তাদের ঘর-সংসার বিরান হয়ে গেছে।
এরপর যখন মাসআলা জানতে পারে যে, শরঈ হালালা ব্যতীত তাদের পরষ্পরে ঘর-সংসার করার আর কোন সুযোগ নেই। স্ত্রী এখন ইদ্দত পালন করে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং ঐ স্বামীর সাথে তার দৈহিক মিলন হবে। অতপর সে যদি মৃত্যু বরণ করে কিংবা স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে ঐ তালাক বা মৃত্যুর ইদ্দত পালন করার পরই কেবল তারা চাইলে নতুন মহরানা ধার্য করে নিয়মতান্ত্রিক বিবাহের পরই কেবল তারা পুনরায় ঘর-সংসার করতে পারবে। এছাড়া, তাদের ঘর-সংসার করার শরীয়তের দৃষ্টিতে আর কোন পথ নেই। তখন খুঁজতে থাকে ভিন্ন পথ। চলে যায় স্বঘোষিত আহলে হাদীস তথা গাইরে মুকাল্লিদ সম্প্রদায়ের কাছে। তারা ফাতওয়া দিয়ে দেয় একই মজলিসে বা এক বাক্যে তিন তালাক দিলে এক তালাক পতিত হয়; তিন তালাক নয়। অথচ তাদের এ ফাতওয়া যে সুন্নাহ ও ইজমা বিরোধী তা ভিন্ন শিরোনামে প্রমাণ করে এসেছি। সুতরাং এখানে আর সে বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করতে চাইনা।
মোটকথা, ঐ ভ্রান্ত ফাতওয়ার উপর ভিত্তি করে কিংবা শরীয়তের বিধান অগ্রাহ্য করে অবশেষে তালাক প্রাপ্তা ঐ হারাম স্ত্রীকে নিয়েই দিব্যি ঘর-সংসার করতে থাকে। অথচ শরীয়তের বিচারে ঐ স্ত্রীর সাথে তার ঘর-সংসার করা, মেলামেশা করা, সবই হারাম, নাজায়েয ও যিনা হিসাবে গণ্য। এছাড়া, তাদের এ মেলামেশা থেকে কোন সন্তান জন্ম নিলে তা জারজ সন্তান বলে গণ্য হয় এবং সারা জীবন এ হারামের মধ্যে লিপ্ত থেকে অবশেষে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।
উপরন্তু, যদি শরঈ কোন কারণ ব্যতিরেকে এ তালাক দেয়া হয়ে থাকে তাহলে এ জুলুমের শাস্তিও দুনিয়া-আখেরাতে ভোগ করতে হয়。