📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 উকিল বাপের সাথে দেখা দেয়া

📄 উকিল বাপের সাথে দেখা দেয়া


বর্তমান সমাজে বিবাহ শাদীতে উকীল বাপ একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। কোন একজন (গাইরে মাহরাম পুরুষকে) বিবাহের উকীল বানিয়ে তাকে ঐ দম্পতির উকীল বাপ মনে করা হয় এবং কনে ঐ উকিল বাপের সাথে অবাধে দেখা সাক্ষাৎ করে, কথা বার্তা বলে এবং পরস্পরের মধ্যে বাবা-মেয়ের মত সম্পর্ক চলতে থাকে। অথচ ইসলামী শরীয়ত এ সম্পর্ককে অনুমোদন করেনা। কেননা, একজন মহিলা কুরআনে বর্ণিত যে চৌদ্দ শ্রেণীর পুরুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারে, কথিত উকলি বাপ তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কাজেই, তাকে বাপ মনে করা, তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা কোন ভাবেই বৈধ নয়; বরং নাজায়েয ও হারাম।

সূত্র: সূরা নূর, আয়াত- ৩১, তাফসীরে মাজহারী ৬/৪৯০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে পিঠা মিষ্টান্ন ইত্যাদি পাঠানো

📄 মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে পিঠা মিষ্টান্ন ইত্যাদি পাঠানো


কোন কোন স্থানে মেয়ের বিয়ের আগের দিন, আবার কোথাও মেয়ের শশুর বাড়ীতে যাওয়ার পরের দিন মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে মাছ, মিষ্টি, দধি, পান, সুপারী ইত্যাদি পাঠানো হয়। কোথাও কোথাও এটাকে চৌথি বলা হয়। আবার কোথাও স্বামীর বাড়ী থেকে স্ত্রীর বাপের বাড়ীতে যাওয়ার পর স্বামীর উপর শশুরালয়ের জন্য মাছ, গোশত ইত্যাদি বাজার করা বাধ্যতামুলক মনে করা হয় এবং কোন স্বামী এটা না করলে তাকে অত্যন্ত ছোট মনের মানুষ ভাবা হয় বা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
আসলে এ সবই বিজাতীয় প্রথা, এগুলোর সাথে দ্বীন ও শরীয়তের দুরতম সম্পর্ক নেই। এগুলো সবই হিন্দুদের থেকে আমদানী করা কুসংস্কার। সুতরাং এগুলো থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ঈদের সময় মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে উপহার সামগ্রী পাঠানো

📄 ঈদের সময় মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে উপহার সামগ্রী পাঠানো


অনেক স্থানে ঈদের সময় মেয়ের বাপের বাড়ী থেকে শশুর বাড়ীতে চাল, আটা, ময়দা, চিনি, সেমাই, নারিকেল, পিঠা ইত্যাদি পাঠানোর প্রথা রয়েছে। অনেক জায়গায় আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাইরও শ্বশুর, শাশুড়ী, শ্যালক, শালীকাদেরকে কাপড় চোপড় দেওয়া বাধ্যতামূলক। এমনকি এটাকে এতটাই জরুরী মনে করা হয় যে, ঋণ করে হলেও তা পালন করতে হবে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা সীমা লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই নয়।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকীতে স্ত্রীকে উপহার দেয়া

📄 প্রতি বছর বিবাহ বার্ষিকীতে স্ত্রীকে উপহার দেয়া


স্ত্রীকে কোন কিছু দেয়ার দুটি অবস্থা হতে পারে। (১) প্রয়োজন অনুপাতে দেয়া। (২) প্রয়োজনাতিরিক্ত দেয়া।
প্রথম অবস্থায় যখনই স্ত্রীর প্রয়োজন হবে তখনই স্ত্রীকে তা প্রদান করবে। কারণ, এটাই হলো, তাকে দেয়ার নির্ধারিত সময়। আর দ্বিতীয় অবস্থায় স্ত্রীকে যা কিছু দেয়া হবে তা হাদিয়া বা উপহার হিসাবে গণ্য। আর উপহার দেয়ার নির্ধারিত কোন সময় নেই; যে কোন সময় দেয়া যেতে পারে।
কাজেই, প্রথম অবস্থায় যদি স্ত্রীর প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও না দিয়ে বিবাহ বার্ষিকীতে দেয়ার অপেক্ষা করা হয় তবে তা জায়েয হবেনা। আর দ্বিতীয় অবস্থায় বিষয়টি হাদিয়া হওয়ায় তার জন্যে কোন দিন নির্দিষ্ট করা অনুচিৎ। এতদসত্তেও বিবাহ বার্ষিকী বা অন্য কোন সময় এর জন্য নির্ধারিত করা হলে তা বদ রসম হিসাবে গণ্য হওয়ায় পরিত্যায্য।

সূত্র: ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৬/১৪৫৬-১৪৬, তাবলীগুল হক পৃ:২৪, ৮৯৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00