📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 কমিউনিটি সেন্টারে বিবাহ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা

📄 কমিউনিটি সেন্টারে বিবাহ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা


শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কনের পিতার কোন দ্বায়িত্ব নেই। সুন্নত হচ্ছে, কনের সাথে বরের সাক্ষাৎ হয়ে যাওয়ার পর বর তার সামর্থ অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে ওলীমা খাওয়াবে। আর এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, ওলীমা অনুষ্ঠানে যেন শরীয়ত পরিপন্থী কোন কাজ না হয় এবং অতি আরম্বরপূর্ণ না হয়। কারণ, হাদীস শরীফে স্বল্প ব্যয়ের বিবাহকে অতি বরকতপূর্ণ বলা হয়েছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে বিবাহের যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় তাতে শরীয়ত পরিপন্থী বহু কাজ সংগঠিত হয়ে থাকে। যেমন: বেপর্দা ভাবে মহিলাদের সমাগম, নারী পুরুষের একই মজলিসে পাশাপাশি বসে খাবার গ্রহণ, গান বাদ্যের আসর জমানো, অপচয় ইত্যাদি। তাছাড়া, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর পিছনে উদ্দেশ্য থাকে নাম, যশ ও সুখ্যাতি অর্জন করা। অথচ হাদীসে এহেন উদ্দেশ্যে কোন কাজ করার ব্যাপারে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ হয়েছে।
এতদভিন্ন এধরণের অনুষ্ঠান সাধারণত মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়। এতসব শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ যেখানে হয় সেখানে অনুষ্ঠান করা জায়েয হতে পারেনা।
তবে ওলীমা অনুষ্ঠানের জন্য কারো যদি নিজ বাড়ীতে স্থান সংকুলান না হয় তাহলে কমিউনিটি সেন্টারে ওলীমা অনুষ্ঠান করা জায়েয হবে। তবে এর জন্য শর্ত হলো, উল্লেখিত শরীয়ত পরিপন্থী কাজ সহ অন্য কোন নাজায়েয বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে হবে।

সূত্র: সূরা মায়েদা, আয়াত- ৯১, সূরা লুকমান, আয়াত-১৮, সুনানে বায়হাকী ৬/১০০, কাশফুল খফা ২/২২৭, মিশকাত শরীফ ২/২৫৫, ইসলামী শাদী পৃ: ২৩২, মাহমুদিয়া ৭/৩১৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 উকিল বাপের সাথে দেখা দেয়া

📄 উকিল বাপের সাথে দেখা দেয়া


বর্তমান সমাজে বিবাহ শাদীতে উকীল বাপ একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। কোন একজন (গাইরে মাহরাম পুরুষকে) বিবাহের উকীল বানিয়ে তাকে ঐ দম্পতির উকীল বাপ মনে করা হয় এবং কনে ঐ উকিল বাপের সাথে অবাধে দেখা সাক্ষাৎ করে, কথা বার্তা বলে এবং পরস্পরের মধ্যে বাবা-মেয়ের মত সম্পর্ক চলতে থাকে। অথচ ইসলামী শরীয়ত এ সম্পর্ককে অনুমোদন করেনা। কেননা, একজন মহিলা কুরআনে বর্ণিত যে চৌদ্দ শ্রেণীর পুরুষের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারে, কথিত উকলি বাপ তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কাজেই, তাকে বাপ মনে করা, তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা কোন ভাবেই বৈধ নয়; বরং নাজায়েয ও হারাম।

সূত্র: সূরা নূর, আয়াত- ৩১, তাফসীরে মাজহারী ৬/৪৯০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে পিঠা মিষ্টান্ন ইত্যাদি পাঠানো

📄 মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে পিঠা মিষ্টান্ন ইত্যাদি পাঠানো


কোন কোন স্থানে মেয়ের বিয়ের আগের দিন, আবার কোথাও মেয়ের শশুর বাড়ীতে যাওয়ার পরের দিন মেয়ের বাড়ী থেকে ছেলের বাড়ীতে মাছ, মিষ্টি, দধি, পান, সুপারী ইত্যাদি পাঠানো হয়। কোথাও কোথাও এটাকে চৌথি বলা হয়। আবার কোথাও স্বামীর বাড়ী থেকে স্ত্রীর বাপের বাড়ীতে যাওয়ার পর স্বামীর উপর শশুরালয়ের জন্য মাছ, গোশত ইত্যাদি বাজার করা বাধ্যতামুলক মনে করা হয় এবং কোন স্বামী এটা না করলে তাকে অত্যন্ত ছোট মনের মানুষ ভাবা হয় বা তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়।
আসলে এ সবই বিজাতীয় প্রথা, এগুলোর সাথে দ্বীন ও শরীয়তের দুরতম সম্পর্ক নেই। এগুলো সবই হিন্দুদের থেকে আমদানী করা কুসংস্কার। সুতরাং এগুলো থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ঈদের সময় মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে উপহার সামগ্রী পাঠানো

📄 ঈদের সময় মেয়ের শ্বশুর বাড়ীতে উপহার সামগ্রী পাঠানো


অনেক স্থানে ঈদের সময় মেয়ের বাপের বাড়ী থেকে শশুর বাড়ীতে চাল, আটা, ময়দা, চিনি, সেমাই, নারিকেল, পিঠা ইত্যাদি পাঠানোর প্রথা রয়েছে। অনেক জায়গায় আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জামাইরও শ্বশুর, শাশুড়ী, শ্যালক, শালীকাদেরকে কাপড় চোপড় দেওয়া বাধ্যতামূলক। এমনকি এটাকে এতটাই জরুরী মনে করা হয় যে, ঋণ করে হলেও তা পালন করতে হবে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা সীমা লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছুই নয়।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00