📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 নতুন বর ও কনের মুখ দর্শন করা

📄 নতুন বর ও কনের মুখ দর্শন করা


আমদের দেশে ব্যাপক ভাবে দেখা যায়, বিবাহের আকদ হয়ে যাওয়ার পর মেয়েকে উঠিয়ে দেয়ার পূর্ব মুহুর্তে বরকে অন্দর মহলে ডেকে এনে পাড়া প্রতিবেশী মেয়েরা একত্রিত হয়ে হৈ হুল্লোর করে বরের মুখ দেখার উৎসব করতে থাকে এবং নির্লজ্জ হাসি মজাক সহ বিভিন্ন উপায়ে বরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে থাকে। কোথাও আবার মেয়েরা বরকে মালা পরিয়ে তার থেকে টাকা উসূল করে থাকে। এভাবে বেপর্দেগীর সাথে নির্লজ্জ হাসি তামাশার আসর জমানো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয।
কোন কোন স্থানে এরূপ প্রথা আছে যে, নববধুকে পালকী বা গাড়ী থেকে কোলে করে নামিয়ে ঘরে এনে উপস্থিত নারী পুরুষ সকলের সামনে তার মুখ খুলে দেখা হয়। ফলে, মাহরাম গাইরে মাহরাম নির্বিশেষে সকলে ঐ নববধুর মুখ দেখতে থাকে। এরূপ দেখা ও দেখানো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।
কোথাও কোথাও এরূপ রেওয়াজ আছে যে, নব বধুকে একটা ঘরে বসিয়ে সর্ব প্রথম শাশুড়ী কিংবা বাড়ীর বয়স্ক দাদী-নানী তার মুখ দর্শন করে এবং কিছু দর্শনী দেয়। অতপর পর্যায়ক্রমে মহিলা পুরুষ তার মুখ দেখতে থাকে আর কিছু দর্শনী দিতে থাকে। আর এই দর্শনী দেওয়াকে এতটাই জরুরী মনে করা হয়ে থাকে যে, কারো হাতে টাকা পয়সা না থাকলে তার পক্ষে আর নব বধুর মুখ দর্শন করা সম্ভব হয় না। এটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট কুসংস্কার। কাজেই, এগুলো থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃঃ ৩৯

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিবাহের গেট বানিয়ে বরের নিকট থেকে টাকা আ

📄 বিবাহের গেট বানিয়ে বরের নিকট থেকে টাকা আ


অনেক জায়গায় কনের বাড়ীতে গেট বানিয়ে সেখানে বরকে আটকে দেয়া হয় এবং গেটে বরের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। টাকা না দেয়া পর্যন্ত ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না। অনিচ্ছা স্বত্বেও অনেক দর কষাকষির পর দাবীকৃত টাকা বা তার আংশিক আদায় করার পরই কেবল বরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা একটা গর্হিত কাজ। কেননা, বর হচ্ছে মেহমান; বরং বিশেষ অতিথি। আর হাদীসে মেহমানের যথোপযুক্ত মেহমানদারী করতে এবং তাকে সম্মান করতে প্রত্যেককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং বিবাহের মত পবিত্র একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান থেকে এভাবে জোর পূর্বক টাকা আদায় করা তাকে বিব্রত করা এবং বেইজ্জত করা শরীয়তে নাজায়েয।

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বরের হাত ধোয়ানো বাবদ টাকা দাবী করা

📄 বরের হাত ধোয়ানো বাবদ টাকা দাবী করা


অনেক স্থানে প্রথা রয়েছে, খাওয়া দাওয়া শেষে কনে পক্ষের লোকেরা বরের হাত ধোয়ানোর পর এ বাবদ বরের কাছে টাকা দাবী করে। এমনকি টাকা না দেয়া পর্যন্ত হাত মোছার জন্য প্রয়োজনীয় সাবান, পানি, গামছা ইত্যাদি দেয়া হয়না। ফলে, হাত না ধুয়ে বর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। কখনো কখনো এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।
শরীয়তের দৃষ্টিতে নতুন দুলাকে এভাবে অপমান করা ঠিক নয়। কারণ, মেহমানের কাছ থেকে এভাবে চাপ প্রয়োগ করে টাকা উসূল করা অভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে। মূলত: এগুলো হিন্দুয়ানী প্রথা। দীর্ঘদিন যাবত হিন্দুদের সাথে বসবাস করার কারণে মুসলমানদের মধ্যে এ কুসংস্কার গুলো অনুপ্রবেশ করেছে।

সুত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৭:

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 কমিউনিটি সেন্টারে বিবাহ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা

📄 কমিউনিটি সেন্টারে বিবাহ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা


শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা কনের পিতার কোন দ্বায়িত্ব নেই। সুন্নত হচ্ছে, কনের সাথে বরের সাক্ষাৎ হয়ে যাওয়ার পর বর তার সামর্থ অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে ওলীমা খাওয়াবে। আর এক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো, ওলীমা অনুষ্ঠানে যেন শরীয়ত পরিপন্থী কোন কাজ না হয় এবং অতি আরম্বরপূর্ণ না হয়। কারণ, হাদীস শরীফে স্বল্প ব্যয়ের বিবাহকে অতি বরকতপূর্ণ বলা হয়েছে।
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে বিবাহের যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় তাতে শরীয়ত পরিপন্থী বহু কাজ সংগঠিত হয়ে থাকে। যেমন: বেপর্দা ভাবে মহিলাদের সমাগম, নারী পুরুষের একই মজলিসে পাশাপাশি বসে খাবার গ্রহণ, গান বাদ্যের আসর জমানো, অপচয় ইত্যাদি। তাছাড়া, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর পিছনে উদ্দেশ্য থাকে নাম, যশ ও সুখ্যাতি অর্জন করা। অথচ হাদীসে এহেন উদ্দেশ্যে কোন কাজ করার ব্যাপারে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ হয়েছে।
এতদভিন্ন এধরণের অনুষ্ঠান সাধারণত মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়। এতসব শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ যেখানে হয় সেখানে অনুষ্ঠান করা জায়েয হতে পারেনা।
তবে ওলীমা অনুষ্ঠানের জন্য কারো যদি নিজ বাড়ীতে স্থান সংকুলান না হয় তাহলে কমিউনিটি সেন্টারে ওলীমা অনুষ্ঠান করা জায়েয হবে। তবে এর জন্য শর্ত হলো, উল্লেখিত শরীয়ত পরিপন্থী কাজ সহ অন্য কোন নাজায়েয বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে হবে।

সূত্র: সূরা মায়েদা, আয়াত- ৯১, সূরা লুকমান, আয়াত-১৮, সুনানে বায়হাকী ৬/১০০, কাশফুল খফা ২/২২৭, মিশকাত শরীফ ২/২৫৫, ইসলামী শাদী পৃ: ২৩২, মাহমুদিয়া ৭/৩১৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00