📄 নব বধূকে বিজাতীয় কায়দায় বরণ করে নেওয়া
বিভিন্ন এলাকায় শশুর বাড়ীতে নব বধুকে আনার পর বিভিন্ন ভাবে তাকে বরণ করে নেয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। কোথাও ধান, দুবলা ঘাস, চিনি, কুলা শরবত, দুধের স্বর ইত্যাদি দিয়ে বরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে নব বধুর চেহারা দেখানো হয়। কোথাও আবার বর বা কনেকে কোলে করে গাড়ী বা পালকী থেকে নামানো হয়। এগুলো সবই হিন্দুয়ানী প্রথা এবং চরম অভদ্রতা। সুতরাং কোন মুসলমানের জন্য এগুলো করা জায়েয নেই।
সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৮
📄 নতুন বর ও কনের মুখ দর্শন করা
আমদের দেশে ব্যাপক ভাবে দেখা যায়, বিবাহের আকদ হয়ে যাওয়ার পর মেয়েকে উঠিয়ে দেয়ার পূর্ব মুহুর্তে বরকে অন্দর মহলে ডেকে এনে পাড়া প্রতিবেশী মেয়েরা একত্রিত হয়ে হৈ হুল্লোর করে বরের মুখ দেখার উৎসব করতে থাকে এবং নির্লজ্জ হাসি মজাক সহ বিভিন্ন উপায়ে বরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে থাকে। কোথাও আবার মেয়েরা বরকে মালা পরিয়ে তার থেকে টাকা উসূল করে থাকে। এভাবে বেপর্দেগীর সাথে নির্লজ্জ হাসি তামাশার আসর জমানো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয।
কোন কোন স্থানে এরূপ প্রথা আছে যে, নববধুকে পালকী বা গাড়ী থেকে কোলে করে নামিয়ে ঘরে এনে উপস্থিত নারী পুরুষ সকলের সামনে তার মুখ খুলে দেখা হয়। ফলে, মাহরাম গাইরে মাহরাম নির্বিশেষে সকলে ঐ নববধুর মুখ দেখতে থাকে। এরূপ দেখা ও দেখানো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।
কোথাও কোথাও এরূপ রেওয়াজ আছে যে, নব বধুকে একটা ঘরে বসিয়ে সর্ব প্রথম শাশুড়ী কিংবা বাড়ীর বয়স্ক দাদী-নানী তার মুখ দর্শন করে এবং কিছু দর্শনী দেয়। অতপর পর্যায়ক্রমে মহিলা পুরুষ তার মুখ দেখতে থাকে আর কিছু দর্শনী দিতে থাকে। আর এই দর্শনী দেওয়াকে এতটাই জরুরী মনে করা হয়ে থাকে যে, কারো হাতে টাকা পয়সা না থাকলে তার পক্ষে আর নব বধুর মুখ দর্শন করা সম্ভব হয় না। এটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট কুসংস্কার। কাজেই, এগুলো থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।
সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃঃ ৩৯
📄 বিবাহের গেট বানিয়ে বরের নিকট থেকে টাকা আ
অনেক জায়গায় কনের বাড়ীতে গেট বানিয়ে সেখানে বরকে আটকে দেয়া হয় এবং গেটে বরের নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করা হয়। টাকা না দেয়া পর্যন্ত ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না। অনিচ্ছা স্বত্বেও অনেক দর কষাকষির পর দাবীকৃত টাকা বা তার আংশিক আদায় করার পরই কেবল বরকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা একটা গর্হিত কাজ। কেননা, বর হচ্ছে মেহমান; বরং বিশেষ অতিথি। আর হাদীসে মেহমানের যথোপযুক্ত মেহমানদারী করতে এবং তাকে সম্মান করতে প্রত্যেককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং বিবাহের মত পবিত্র একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান থেকে এভাবে জোর পূর্বক টাকা আদায় করা তাকে বিব্রত করা এবং বেইজ্জত করা শরীয়তে নাজায়েয।
📄 বরের হাত ধোয়ানো বাবদ টাকা দাবী করা
অনেক স্থানে প্রথা রয়েছে, খাওয়া দাওয়া শেষে কনে পক্ষের লোকেরা বরের হাত ধোয়ানোর পর এ বাবদ বরের কাছে টাকা দাবী করে। এমনকি টাকা না দেয়া পর্যন্ত হাত মোছার জন্য প্রয়োজনীয় সাবান, পানি, গামছা ইত্যাদি দেয়া হয়না। ফলে, হাত না ধুয়ে বর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। কখনো কখনো এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে দেখা যায়।
শরীয়তের দৃষ্টিতে নতুন দুলাকে এভাবে অপমান করা ঠিক নয়। কারণ, মেহমানের কাছ থেকে এভাবে চাপ প্রয়োগ করে টাকা উসূল করা অভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে। মূলত: এগুলো হিন্দুয়ানী প্রথা। দীর্ঘদিন যাবত হিন্দুদের সাথে বসবাস করার কারণে মুসলমানদের মধ্যে এ কুসংস্কার গুলো অনুপ্রবেশ করেছে।
সুত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৭: