📄 বিবাহের পর বর কর্তৃক উপস্থিত লোকদেরকে সাল
কোন কোন স্থানে দেখা যায়, ইজাব কবুলের পর বিবাহের মজলিসে বর দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে উচ্চ স্বরে সালাম দেয়, আর সকলে সম্মিলিত ভাবে তার উত্তর দেয়। আসলে এগুলোও মনগড়া প্রথা, শরীয়তে এগুলোর কোন ভিত্তি নেই। কেননা, প্রথম সাক্ষাতের সময় সালাম দেয়া সুন্নত; বৈঠকের মধ্যখানে সালামের কোন নিয়ম ইসলামে নেই। কাজেই, ইহা পরিত্যাজ্য।
কোথাও কোথাও আবার বিবাহের মজলিস থেকে বাড়ির অভ্যন্তরে পান্দান পাঠানো হয়। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সেই পান্দানে টাকা দিয়ে পুনঃ তা বরের নিকট পাঠাতে হয়। এটার নাম দেয়া হয় হাদিয়া। আসলে এটা শরীয়তের দৃষ্টিতে হাদিয়া নয়; বরং একটি বদ রসম মাত্র। কারণ, হাদিয়া তো হয় সন্তুষ্ট চিত্তে। অথচ এ টাকা অধিকাংশ সময়ই সন্তুষ্ট চিত্তে নয়; বরং সম্মান রক্ষার্থে দেওয়া হয়। সুতরাং এটি একটি কুসংস্কার। ইহা থেকে বেঁচে থাকা জররী।
📄 ভরা মজলিসে বর-কনের হাত একসাথে করে উঁচি
অনেক জায়গায় বিবাহের পর কন্যাকে উঠিয়ে দেওয়ার সময় সকল নারী-পুরুষের সামনে পিতা বর-কনের হাত এক সাথে করে তাদেরকে দু'আ দেয়। পিতা জামাইকে বলে, “আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিলাম, তুমি তাকে দেখে শুনে রেখো” ইত্যাদি।
শরীয়তে এগুলোর কোন ভিত্তি নেই। কারণ, বরকে নাসীহত করতে হলে যে কোন সময় করা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে মাহরাম গায়রে মাহরাম সকলের সামনে উভয়ের হাত একসাথে ধরে নসীহত করা বিজাতীয় কুসংস্কার, বেপর্দেগী ও নির্লজ্জতা ছাড়া আর কিছু নয়।
সূত্র: ইসলামি বিবাহ পৃঃ ৩৭
📄 নব বধূকে বিজাতীয় কায়দায় বরণ করে নেওয়া
বিভিন্ন এলাকায় শশুর বাড়ীতে নব বধুকে আনার পর বিভিন্ন ভাবে তাকে বরণ করে নেয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। কোথাও ধান, দুবলা ঘাস, চিনি, কুলা শরবত, দুধের স্বর ইত্যাদি দিয়ে বরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে নব বধুর চেহারা দেখানো হয়। কোথাও আবার বর বা কনেকে কোলে করে গাড়ী বা পালকী থেকে নামানো হয়। এগুলো সবই হিন্দুয়ানী প্রথা এবং চরম অভদ্রতা। সুতরাং কোন মুসলমানের জন্য এগুলো করা জায়েয নেই।
সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৮
📄 নতুন বর ও কনের মুখ দর্শন করা
আমদের দেশে ব্যাপক ভাবে দেখা যায়, বিবাহের আকদ হয়ে যাওয়ার পর মেয়েকে উঠিয়ে দেয়ার পূর্ব মুহুর্তে বরকে অন্দর মহলে ডেকে এনে পাড়া প্রতিবেশী মেয়েরা একত্রিত হয়ে হৈ হুল্লোর করে বরের মুখ দেখার উৎসব করতে থাকে এবং নির্লজ্জ হাসি মজাক সহ বিভিন্ন উপায়ে বরকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে থাকে। কোথাও আবার মেয়েরা বরকে মালা পরিয়ে তার থেকে টাকা উসূল করে থাকে। এভাবে বেপর্দেগীর সাথে নির্লজ্জ হাসি তামাশার আসর জমানো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয।
কোন কোন স্থানে এরূপ প্রথা আছে যে, নববধুকে পালকী বা গাড়ী থেকে কোলে করে নামিয়ে ঘরে এনে উপস্থিত নারী পুরুষ সকলের সামনে তার মুখ খুলে দেখা হয়। ফলে, মাহরাম গাইরে মাহরাম নির্বিশেষে সকলে ঐ নববধুর মুখ দেখতে থাকে। এরূপ দেখা ও দেখানো শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।
কোথাও কোথাও এরূপ রেওয়াজ আছে যে, নব বধুকে একটা ঘরে বসিয়ে সর্ব প্রথম শাশুড়ী কিংবা বাড়ীর বয়স্ক দাদী-নানী তার মুখ দর্শন করে এবং কিছু দর্শনী দেয়। অতপর পর্যায়ক্রমে মহিলা পুরুষ তার মুখ দেখতে থাকে আর কিছু দর্শনী দিতে থাকে। আর এই দর্শনী দেওয়াকে এতটাই জরুরী মনে করা হয়ে থাকে যে, কারো হাতে টাকা পয়সা না থাকলে তার পক্ষে আর নব বধুর মুখ দর্শন করা সম্ভব হয় না। এটাও শরীয়তের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট কুসংস্কার। কাজেই, এগুলো থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।
সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃঃ ৩৯