📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মসজিদে বিবাহের খেজুর ছিটানো

📄 মসজিদে বিবাহের খেজুর ছিটানো


বিবাহের আকদের জন্য উত্তম স্থান হচ্ছে মসজিদ। মসজিদে বিবাহের আকদ সম্পন্ন হলে এমন অনেক গুনাহ থেকে বিবাহকে মুক্ত রাখা সম্ভব যেগুলো বর্তমানে বিবাহের আবশ্যক হয়ে পড়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, যেন বিবাহ উপলক্ষে সমস্ত কবীরা গুনাহের একটা তালিকা করে নেয়া হয়েছে। যাতে একটি কবীরা গুনাহও বাদ পড়ে না যায়। আল্লাহ পানাহ।
একটি জঈফ হাদীসে পাওয়া যায় যে, কোন এক বিবাহের মজলিসে বিয়ের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে খেজুর, আখরোট ও বাদাম ছিটানো হয়। সূত্র: তিরমিযী ১/২০৭, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১/৯৮-১০০
এ হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বিবাহের পর খেজুর বিতরণ করাকে মুস্তাহাব বলে থাকেন।
তবে মসজিদে বিবাহের আকদ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মুসলমানদের ইবাদতের স্থান। তাই এর সম্মান বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। আর মসজিদের সম্মান হলো, তাতে আল্লাহর ইবাদত তথা নামায, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি ব্যতীত অন্য কোন দুনিয়াবী কাজকর্ম, কথাবার্তা, গল্প-গুজব, হৈ হুল্লোড় ইত্যাদি না করা; বরং মসজিদকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখা
বিবাহ একটি ইবাদত। হাদীসে ইহাকে মসজিদে সংঘঠিত করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর পূর্বেই বলা হয়েছে, বিবাহের পর খেজুর বা এজাতীয় অন্য কোন মিষ্টি দ্রব্য ছিটানোর বিষয়টি একটি জঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাইতো বিবাহের পর খেজুর ছিটানোকে ফুকাহায়ে কেরাম বড়জোর মুস্তাহাব বলেছেন।
অপর দিকে, মসজিদের ইহতেরাম বজায় রাখার বিষয়টি বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আর একথা নিশ্চিত যে, বিবাহের পর মসজিদে খেজুর ছিটানো হলে মসজিদে হৈ হুল্লোড় হবে, পরষ্পর ধাক্কা ধাক্কি হবে, একে অন্যের দ্বারা কষ্ট পাবে এবং মসজিদের আদব ইহতিরাম লঙ্ঘণ হবে। সুতরাং এ সকল সমস্যাবলীর কারণে বিবাহের পর মসজিদে খেজুর খুরমা বা এ জাতীয় অন্য কোন দ্রব্য না ছিটিয়ে বরং হাতে হাতে বন্টন করে দেওয়া উত্তম। অবশ্য, মসজিদের বাইরে বিবাহ হলে সেখানে খেজুর ছিটিয়ে দেয়াই উত্তম।

সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ: ৫৪, বায়হাকী, ইলাউসুনান ১১/১২, জামিউল ফতাওয়া ৩/২২৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিবাহের পর বর কর্তৃক উপস্থিত লোকদেরকে সাল

📄 বিবাহের পর বর কর্তৃক উপস্থিত লোকদেরকে সাল


কোন কোন স্থানে দেখা যায়, ইজাব কবুলের পর বিবাহের মজলিসে বর দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে উচ্চ স্বরে সালাম দেয়, আর সকলে সম্মিলিত ভাবে তার উত্তর দেয়। আসলে এগুলোও মনগড়া প্রথা, শরীয়তে এগুলোর কোন ভিত্তি নেই। কেননা, প্রথম সাক্ষাতের সময় সালাম দেয়া সুন্নত; বৈঠকের মধ্যখানে সালামের কোন নিয়ম ইসলামে নেই। কাজেই, ইহা পরিত্যাজ্য।
কোথাও কোথাও আবার বিবাহের মজলিস থেকে বাড়ির অভ্যন্তরে পান্দান পাঠানো হয়। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সেই পান্দানে টাকা দিয়ে পুনঃ তা বরের নিকট পাঠাতে হয়। এটার নাম দেয়া হয় হাদিয়া। আসলে এটা শরীয়তের দৃষ্টিতে হাদিয়া নয়; বরং একটি বদ রসম মাত্র। কারণ, হাদিয়া তো হয় সন্তুষ্ট চিত্তে। অথচ এ টাকা অধিকাংশ সময়ই সন্তুষ্ট চিত্তে নয়; বরং সম্মান রক্ষার্থে দেওয়া হয়। সুতরাং এটি একটি কুসংস্কার। ইহা থেকে বেঁচে থাকা জররী।

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ভরা মজলিসে বর-কনের হাত একসাথে করে উঁচি

📄 ভরা মজলিসে বর-কনের হাত একসাথে করে উঁচি


অনেক জায়গায় বিবাহের পর কন্যাকে উঠিয়ে দেওয়ার সময় সকল নারী-পুরুষের সামনে পিতা বর-কনের হাত এক সাথে করে তাদেরকে দু'আ দেয়। পিতা জামাইকে বলে, “আমার মেয়েকে তোমার হাতে তুলে দিলাম, তুমি তাকে দেখে শুনে রেখো” ইত্যাদি।
শরীয়তে এগুলোর কোন ভিত্তি নেই। কারণ, বরকে নাসীহত করতে হলে যে কোন সময় করা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে মাহরাম গায়রে মাহরাম সকলের সামনে উভয়ের হাত একসাথে ধরে নসীহত করা বিজাতীয় কুসংস্কার, বেপর্দেগী ও নির্লজ্জতা ছাড়া আর কিছু নয়।

সূত্র: ইসলামি বিবাহ পৃঃ ৩৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 নব বধূকে বিজাতীয় কায়দায় বরণ করে নেওয়া

📄 নব বধূকে বিজাতীয় কায়দায় বরণ করে নেওয়া


বিভিন্ন এলাকায় শশুর বাড়ীতে নব বধুকে আনার পর বিভিন্ন ভাবে তাকে বরণ করে নেয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। কোথাও ধান, দুবলা ঘাস, চিনি, কুলা শরবত, দুধের স্বর ইত্যাদি দিয়ে বরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকলকে নব বধুর চেহারা দেখানো হয়। কোথাও আবার বর বা কনেকে কোলে করে গাড়ী বা পালকী থেকে নামানো হয়। এগুলো সবই হিন্দুয়ানী প্রথা এবং চরম অভদ্রতা। সুতরাং কোন মুসলমানের জন্য এগুলো করা জায়েয নেই।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:৩৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00