📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 সামর্থের অধিক মহরানা ধার্য করা

📄 সামর্থের অধিক মহরানা ধার্য করা


শরীয়তে মোহরের কোন পরিমাণ নির্ধারিত নেই। প্রত্যেকে নিজের সামর্থ অনুযায়ী মোহর ধার্য করবে। তবে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত আছে। আর তা হচ্ছে, আড়াই ভরি রোপা। আর আড়াই ভরি রোপার মূল্য কত? তা বাজার থেকে জেনে নেয়া যেতে পারে। এর চেয়ে কম মোহর ধার্য করা যাবে না।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে যে প্রথা চালু হয়ে গেছে যে, ছেলের সামর্থ থাক বা না থাক এবং মোহরানার টাকা আদায় করার ইচ্ছা থাক বা না থাক, লোক দেখানো, লোক লজ্জা কিংবা অন্য কোন চাপের কারণে দুই লাখ, পাঁচ লাখ, সাত লাখ, দশ লাখ বা এ ধরণের বড় অংকের মোহরানা ধার্য করা হয়, এটা শরীয়ত সম্মত নয়।
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, “মোহর আদায়ের ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও যে ব্যক্তি মোহর ধার্য করবে সে কাল কিয়ামতের দিন ব্যাভিচারীদের কাতারে উঠবে। এবং ঐ অবস্থায় তাকে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে।”

সূত্র: কানযুল উম্মাল ১৬/৫৪২, ইসলামী বিবাহ-১৪

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 গাইরে মাহরাম সাক্ষীর কনের নিকট উপস্থিত হওয়া

📄 গাইরে মাহরাম সাক্ষীর কনের নিকট উপস্থিত হওয়া


আমাদের দেশে একটা প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, পাত্র পক্ষের দুজন সাক্ষী ও মেয়ে পক্ষের দুজন সাক্ষী একত্রে কনের নিকট বিবাহের ইজন বা অনুমতি নিয়ে আসে। অনেক সময় কোন কোন আনাড়ী কাজীও এই সব স্বাক্ষীদের সাথে কনের সামনে উপস্থিত হয়ে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় এবং সই স্বাক্ষর গ্রহণ করে।
মনে রাখতে হবে, এগুলো শরীয়তে মোটেও জায়েয নেই এবং এর কোন প্রয়োজন ও নেই; বরং এটা একটা পর্দাহীন কাজ।
বিবাহের জন্য কনের ইজন বা সম্মতি গ্রহণ করা আবশ্যক। আর এজন্য কনের পিতা, চাচা, মামা, কিংবা তার কোন একজন মাহরাম আত্মীয়ই যথেষ্ট। শরীয়তে এর জন্য কোন স্বাক্ষীর প্রয়োজন নেই। কারণ, মেয়ে যদি কুমারী হয় তাহলে বিবাহের প্রস্তাব শুনে সে যদি চুপ থাকে, কিংবা কেঁদে ফেলে, কিংবা হেসে দেয় কিংবা মৌখিক ভাবে সম্মতি প্রদান করে তবে এসবই তার সম্মতি হিসাবে শরীয়তে ধর্তব্য হবে। পক্ষান্তরে, মেয়ে যদি বিধবা কিংবা তালাক প্রাপ্তা হয় তাহলে তার সুস্পষ্ট অনুমতি জরুরী।
সুতরাং যেখানে কনের উল্লেখিত সব অবস্থাই তার পক্ষ থেকে অনুমতি বলে গণ্য হয় সেখানে স্বাক্ষীদের প্রয়োজন হবে কেন? স্বাক্ষীদের প্রয়োজন হলো, বিবাহের মজলিসে উপস্থিত থাকা। যাতে প্রয়োজনে বিবাহ হয়েছিল বলে স্বাক্ষ্য প্রদান করতে পারে।

সূত্র: বুখারী শরীফ ২/৭৭১, ইবনে মাজাহ হাদীস নং ১৮৭২, মুসনাদে আহমদ ৪/১৭২, ফাতওয়ায়ে শামী ৪/৭৯-৮৭, আল বাহরুর রায়েক্ব ৩/১৪৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিবাহের সময় বরের মাথায় টোপর ও শেরওয়ানী

📄 বিবাহের সময় বরের মাথায় টোপর ও শেরওয়ানী


আমাদের দেশে কোন কোন এলাকায় এ প্রচলন আছে যে, বিয়ের সময় বরকে টোপর ও শেরওয়ানী পরানো হয়ে থাকে। এটা মূলত একটি হিন্দুয়ানী প্রথা। হিন্দুরা বিবাহের সময় তাদের বরকে এধরণের টুপি/মুকুট পরিয়ে থাকে। তাই একে হিন্দুদের একটি কওমী শেয়ার বা জাতিগত নিদর্শন বলা যায়।
সুতারাং কোন মুসলমানের জন্য এমনটি করার অর্থ হলো, হিন্দুদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা। আর হাদীস শরীফে বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যতা অবলম্বন করার ব্যাপারে কঠোর ধমকি এসেছে। সুতরাং কোন মুসলমানের জন্য এমন টোপর পরা নাজায়েয। কাজেই, এধরণের কুপ্রথা থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরী।
অবশ্য, শেরওয়ানী পরা নাযায়েয হবেনা। কারণ, মৌলিক ভাবে এটি পোশাকের অন্তর্ভুক্ত। তবে যেহেতু এই পোশাক পরিধান করা সুন্নত নয়, তাই তা পরিধান করা থেকে বিরত থাকা ভাল।
তবে যদি বিবাহের সময় শেরওয়ানী পরিধান করাকে জরুরী মনে করা হয় অথবা বরকে তা পরানো না হলে তিরস্কার করা হয় বা এটা পরিধান করা নিয়ে কোন ধরণের বাড়াবাড়ি করা হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে তা পরিধান করা বিদ'আত হিসাবে গণ্য হবে।

সূত্র: সুনানে আবী দাউদ ২/৬৫৯, আউনুল মা'বূদ ৭/১৬০, আপকে মাসায়েল ৫/১৩৭, মাহমূদিয়া ১৭/৪৫০, ১/২১০, হিদায়া ২/৩১৫, ৩৪১

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মসজিদে বিবাহের খেজুর ছিটানো

📄 মসজিদে বিবাহের খেজুর ছিটানো


বিবাহের আকদের জন্য উত্তম স্থান হচ্ছে মসজিদ। মসজিদে বিবাহের আকদ সম্পন্ন হলে এমন অনেক গুনাহ থেকে বিবাহকে মুক্ত রাখা সম্ভব যেগুলো বর্তমানে বিবাহের আবশ্যক হয়ে পড়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, যেন বিবাহ উপলক্ষে সমস্ত কবীরা গুনাহের একটা তালিকা করে নেয়া হয়েছে। যাতে একটি কবীরা গুনাহও বাদ পড়ে না যায়। আল্লাহ পানাহ।
একটি জঈফ হাদীসে পাওয়া যায় যে, কোন এক বিবাহের মজলিসে বিয়ের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপস্থিতিতে খেজুর, আখরোট ও বাদাম ছিটানো হয়। সূত্র: তিরমিযী ১/২০৭, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১/৯৮-১০০
এ হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বিবাহের পর খেজুর বিতরণ করাকে মুস্তাহাব বলে থাকেন।
তবে মসজিদে বিবাহের আকদ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, মসজিদ আল্লাহর ঘর। মুসলমানদের ইবাদতের স্থান। তাই এর সম্মান বজায় রাখা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। আর মসজিদের সম্মান হলো, তাতে আল্লাহর ইবাদত তথা নামায, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি ব্যতীত অন্য কোন দুনিয়াবী কাজকর্ম, কথাবার্তা, গল্প-গুজব, হৈ হুল্লোড় ইত্যাদি না করা; বরং মসজিদকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন রাখা
বিবাহ একটি ইবাদত। হাদীসে ইহাকে মসজিদে সংঘঠিত করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর পূর্বেই বলা হয়েছে, বিবাহের পর খেজুর বা এজাতীয় অন্য কোন মিষ্টি দ্রব্য ছিটানোর বিষয়টি একটি জঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাইতো বিবাহের পর খেজুর ছিটানোকে ফুকাহায়ে কেরাম বড়জোর মুস্তাহাব বলেছেন।
অপর দিকে, মসজিদের ইহতেরাম বজায় রাখার বিষয়টি বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আর একথা নিশ্চিত যে, বিবাহের পর মসজিদে খেজুর ছিটানো হলে মসজিদে হৈ হুল্লোড় হবে, পরষ্পর ধাক্কা ধাক্কি হবে, একে অন্যের দ্বারা কষ্ট পাবে এবং মসজিদের আদব ইহতিরাম লঙ্ঘণ হবে। সুতরাং এ সকল সমস্যাবলীর কারণে বিবাহের পর মসজিদে খেজুর খুরমা বা এ জাতীয় অন্য কোন দ্রব্য না ছিটিয়ে বরং হাতে হাতে বন্টন করে দেওয়া উত্তম। অবশ্য, মসজিদের বাইরে বিবাহ হলে সেখানে খেজুর ছিটিয়ে দেয়াই উত্তম।

সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ: ৫৪, বায়হাকী, ইলাউসুনান ১১/১২, জামিউল ফতাওয়া ৩/২২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00